৮:২৭ পিএম, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, সোমবার | | ১২ জমাদিউস সানি ১৪৪০




সিরিয়ার ইদলিবে আবারো হামলা নিহত-১৩

০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০২:৪৩ পিএম | জাহিদ


এসএনএন২৪.কম : সিরিয়ার ইদলিব নিয়ে আবারো উত্তেজনা বিরাজ করছে।  ব্যাপক প্রাণহানির শঙ্কা সত্ত্বেও সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের বিরোধীদের সর্বশেষ ঘাঁটি ইদলিবে হামলা চালিয়েছে মস্কো ও দামেস্ক। 

মঙ্গলবার রাতে সিরিয়া ও রাশিয়ার হামলা চালায় বলে পর্যবেক্ষণকারী একটি সংস্থার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স খবর দিয়েছে।  সর্বশেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী ১৩ জন নিহত এবং বেশ কিছু লোক আহতের কথা বলা হচ্ছে। 

তুরস্কের সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলে এমন সময় হামলা চালানো হলো, যার কয়েকদিন পর তেহরানে রাশিয়া, ইরান ও তুরস্কের মধ্যে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। 

এর আগে সিরিয়া ও রাশিয়ার উদ্দেশ্যে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইদলিবে হামলা হলে তাতক্ষণিকভাবে তার উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।  কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্টের সেই হুঁশিয়ারি প্রত্যাখ্যান করে রাশিয়া।  এরপরই মঙ্গলবার রাতে হামলা চালানো হয়।  কিন্তু হামলার পর মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করা হয়নি। 

এদিকে, গতকাল মঙ্গলবার কিরগিজস্তান সফররত তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোয়ান বলেন, ইদলিবে হামলা হলে ম্যাসাকার হয়ে যাবে।  তিনি বলেন, ‘আল্লাহ মাফ করুন, ইদলিবে যদি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে তাহলে ম্যাসাকার (ব্যাপক হতাহত) হয়ে যাবে। ’ এ ছাড়া জাতিসংঘও হামলার ব্যাপারে সতর্ক করে সকল পক্ষকে।  কিন্তু এসব সতর্কতা ও হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও বিমান হামলা চালিয়েছে সিরিয়া ও তার অন্যতম মিত্র রাশিয়া। 

প্রসঙ্গত, সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে শুরু থেকেই সমর্থন দিয়ে আসছে ইরান ও রাশিয়া।  মূলত তাদের সহযোগিতা নিয়েই বাশার সরকার হারানো অনেক এলাকার ওপর পুনঃনিয়ন্ত্রণ নিতে পেরেছে।  সর্বশেষ হামলার আগে দামেস্ক সফর করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ। 

উল্লেখ্য, সিরিয়ার ইদলিব প্রদেশে রয়েছে আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট নুসরা ফ্রন্ট ও তাহরির আল-শাম এবং আরো ছোট ছোট বিদ্রোহী গোষ্ঠী।  এসব গোষ্ঠী মূলত বাশার আল-আসাদের পতন চায়।  এদের একটি অংশকে সমর্থন ও সহযোগিতা করছে যুক্তরাষ্ট্র।  আরেকটি অংশকে সমর্থন দিচ্ছে তুরস্ক। 

তবে এখানে সমর্থনের ক্ষেত্রে তুরস্ক ও আমেরিকার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।  কারণ যুক্তরাষ্ট্র যে অংশকে সমর্থন দিচ্ছে তারা মূলত কুর্দি এবং তুরস্কের স্বার্থবিরোধী, তবে আসাদবিরোধী।  আর আঙ্কারা যে অংশকে সমর্থন দিচ্ছে তারা তুর্কিপন্থী কুর্দি এবং আসাদবিরোধী।  ফলে এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের মধ্যে মতবিরোধও দেখা দিয়েছে এর আগে।  পরে আলোচনার মাধ্যমে তা কিছুটা কমিয়ে আনা হয়েছে। 

ইদলিবে হামলায় তুরস্কের আরেকটি শঙ্কা রয়েছে।  আর তা হলো- সেখানকার লাখ লাখ লোক আবার দেশটির সীমান্ত অতিক্রম করবে।  অথচ ইতোমধ্যে কয়েক লাখ সিরীয় শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে আঙ্কারা। 

আর সেজন্যই আঙ্কারা আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির মীমাংসা করতে চায় এবং যাতে ব্যাপক প্রাণহানি না ঘটে সেদিকটি বিবেচনা করেই ব্যবস্থা নেয়ার পক্ষে।  এ লক্ষ্যে এর আগে আস্তানায় তিন পক্ষ অর্থাৎ রাশিয়া, ইরান ও তুরস্কের মধ্যে একটি বৈঠক হয়েছে।  আগামী ১০ সেপ্টেম্বর পরবর্তী বৈঠক তেহরানে হওয়ার কথা।  কিন্তু তার আগেই হামলা চালাল মস্কো ও দামেস্ক। 

সিরিয়া ও রাশিয়ার দাবি, ইদলিব এখন সন্ত্রাসীদের ঘাঁটি।  আর তাই সন্ত্রাসীদের দমনে তারা বদ্ধপরিকর এবং এ ব্যাপারে কারো পরামর্শ শুনতে নারাজ। 

সিরিয়ান অবজার্ভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস নামের লন্ডনভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন বলছে, ইদলিবে প্রায় ৩০ লাখ লোক বাস করে।  কিন্তু সাম্প্রতিক উত্তেজনায় এর অর্ধেক লোকই পালিয়ে গেছে। 

সুতরাং পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তুরস্কের ওই শান্তি প্রস্তাবের কী হবে, কিংবা হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও রাশিয়া ও সিরিয়ার হামলার প্রেক্ষাপটে ডোনাল্ড ট্রাম্প কী পদক্ষেপ নেবেন, অথবা সিরিয়ায় আবারো কত ভয়ানক মানবিক বিপর্যয় ঘটবে নাকি মানবতা রেহাই পাবে তা দেখার জন্য বিশ্ববাসীকে আপতত অপেক্ষা করতে হবে।