৮:২৩ পিএম, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, শুক্রবার | | ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪০




সিলেটে স্কুল ছাত্রীর বাল্যবিবাহ ঠেকিয়ে দিল থানা পুলিশ

০২ জুলাই ২০১৮, ০৩:২৫ পিএম | সাদি


হাবিব সরোয়ার আজাদ, সিলেট প্রতিনিধি : সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ থেকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ফুঁসলিয়ে নিয়ে আসা ৮ম শ্রেণীতে পড়ুয়া এক স্কুল ছাত্রীর বাল্য বিবাহ ঠেকিয়ে দিল সুনামগঞ্জের তাহিরপুর থানা পুলিশ। 

সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তাহিরপুর উপজেলার বড়দল উওর ইউনিয়নের ব্রাম্মণগাঁও গ্রাম থেকে ১৪ বছর বয়সী ওই স্কুল ছাত্রীকে থানার বাদাঘাট পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা উদ্ধার করে পিতা-মাতার হেফাজতে দিয়েছে। 

পুলিশ ও স্কুল ছাত্রীর অভিভাবক সুত্রে জানা যায়,  সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের বড়দল উওর ইউনিয়নের ব্রাম্মণগাঁও গ্রামের ছায়েদ মিয়ার ছেলে জামাল হোসেন (২০) সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারীতে শ্রমিকের কাজ করার সুবাধে সেখানকার টুকেরবাজার উচ্চ বিদ্যালয়ে ৮ম শ্রেণীতে পড়ুয়া এক স্কুলছাত্রীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ২৯ জুন শুক্রবার বিয়ের কথা বলে  ফুঁসলিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। 

পরবর্তীতে স্কুল ছাত্রীর পরিবারের লোকজন তাদের কিশোরী কন্যার সন্ধানে নেমে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে তাহিরপুরের ব্রাম্মণগাঁও গ্রামে ছায়েদ মিয়ার বাড়িতে তার ছেলে পাথর শ্রমিক জামাল হোসেনের সাথে রবিবার রাতে ওই স্কুল ছাত্রীর বাল্যবিবাহের প্রস্তুতির কথা জানতে পেরে ভিকটিমকে উদ্ধারে তাহিরপুর থানার ওসির শরনাপন্ন হন। 

স্কুল ছাত্রীর অভিভাবক ছাড়াই ছায়েদ মিয়া তার ছেলে জামালের সাথে ওই স্কুল ছাত্রীর বিয়ের কাজ সম্পন্ন করতে রবিবার দুপুরেই বিয়ের কেনাকাটা ও ভুরিভোজের সব প্রস্তুতি নিয়ে রাখেন। 

এদিকে উপজেলার ব্রাম্মণগাঁও গ্রামে ছায়েদের বাড়িতে বাল্যবিবাহের আয়োজন ও স্কুল ছাত্রীর অবস্থানের কথা জানতে পেরে থানার ওসি কৌশলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গ্রামের সালিসীদের দিয়ে চাঁপ সৃষ্টি করে প্রথমে বিয়ের আয়োজন পন্ড করান। 

পুলিশী চাঁপের বিষয়টি টের পেয়ে ছায়েদ ছেলে জামাল সহ স্বপরিবারে গাঁ ঢাকা দিয়ে রাতেই তার নিজ বাড়ি থেকে স্কুল ছাত্রীকে সড়িয়ে গ্রামের অন্য এক আত্বীয়ের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। 

পরবর্তীতে  থানার বাদাঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আমির ও এএসআই মনিরুল ইসলাম সোমবার সকালে একদল পুলিশ নিয়ে অভিযান চলিয়ে ব্রাম্মণগাঁও থেকে ওই স্কুল ছাত্রীকে উদ্ধার করে নিয়ে আসেন। 

তাহিরপুর থানার ওসি শ্রী নন্দন কান্তি ধর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, স্কুল ছাত্রীর পিতা কোন লিখিত অভিযোগ না করায় মানবিক কারনে ওই স্কুল ছাত্রীর শিক্ষা জীবনের কথা বিবেচনায় নিয়ে তাকে তার পিতা-মাতার হেফাজতে দেয়া হয়েছে। 



keya