৮:০৮ এএম, ২৬ এপ্রিল ২০১৮, বৃহস্পতিবার | | ১০ শা'বান ১৪৩৯

South Asian College

নাটোর-৪ আসনে আধিপত্য বিস্তারের মহড়া

সাংসদের পাল্টা জনসমাবেশের ডাক

১১ জানুয়ারী ২০১৮, ০৩:১৫ পিএম | মুন্না


মো. আখলাকুজ্জামান, গুরুদাসপুর প্রতিনিধি : গুরুদাসপুর উপজেলা আ.লীগের সাধারন সম্পাদক ও পৌর মেয়র শাহনেওয়াজ আলীকে আগামী জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী দাবী করেছেন আ.লীগের নেতা-কর্মিরা। 

বুধবার বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক জনসভায় মুহুর্মুহু স্লোগানের মাধ্যমে ওই দাবী তোলেন তৃণমূল পর্যায়ের আ.লীগ কর্মী-সমর্থকরা। 

কারণ হিসেবে জনসভায় উপস্থিত নেতা-কর্মিরা বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আ.লীগের সভাপতি মো. আব্দুল কুদ্দুসের সাথে গুরুদাসপুর উপজেলা আ.লীগের সাধারন সম্পাদক ও পৌর মেয়র শাহনেওয়াজ আলীর মধ্যে চলমান রাজনৈতিক বিরোধ আবারো প্রকাশ্য রুপ নিয়েছে। 

সর্বশেষ বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে মেয়র শাহনেওয়াজ আলী উপজেলা আ.লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আলহাজ আব্দুল বারীর সভাপতিত্বে গুরুদাসপুর পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এক জনসমাবেশ করেছেন।  অপরদিকে সংসদ সদস্য আব্দুল কুদ্দুসও একই মাঠে আগামী ১৭ জানুয়ারি বুধবার পাল্টা সমাবেশ ডেকেছেন।  এ নিয়ে আ.লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মিরা দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছেন। 

বুধবার অনুষ্ঠিত ওই জনসমাবেশে উপজেলা আ.লীগের সাধারন সম্পাদক মেয়র শাহনেওয়াজ আলীর পক্ষে উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন ও পৌরসভাসহ সকল ওয়ার্ড এবং বড়াইগ্রাম উপজেলা থেকে সকল সংগঠনের নেতা-কর্মি ও সমর্থকদের নিয়ে জনসভা করে আধিপত্য বিস্তারের মহড়া দেখিয়েছেন তিনি। 

সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন নাটোরের বর্ষিয়ান রাজনীতিক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. সাজেদুর রহমান খাঁন।  বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাধীনতা সরকারি চাকরিজীবি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মান্নান ও মহাসচিব মো. এমদাদুল হোসেন, নাটোর জেলা আ.লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ও গুরুদাসপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সরকার এমদাদুল হক মোহাম্মদ আলী এবং বাড়ইগ্রাম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ডা. সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারী। 

অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জেলা যুবলীগের সভাপতি অ্যাড. বাসিরুর রহমান এহিয়া খান চৌধুরী ও গুরুদাসপুর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. আলাল শেখ এবং উপজেলা মহিলা আ.লীগের সভাপতি মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মোছা. সাহিদা আক্তার মিতা, নাটোর জেলা পরিষদ সদস্য সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি সরকার মেহেদী হাসান প্রমূখ। 

বক্তারা অভিযোগ করেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল কুদ্দস জেলা আ.লীগের সভাপতি হওয়ার পর থেকে দলের নেতা-কর্মিদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে ফায়দা লুটার চেষ্টা করছেন।  এই বিভেদের প্রভাব শুধু গুরুদাসপুর উপজেলাতেই নয়- জেলার অন্য উপজেলাগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন রাজনৈতিক অভিজ্ঞরা। 

সংসদ সদস্য আবদুল কুদ্দুসের প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে তৃনমুল আ.লীগসহ সহযোগি সংগঠনের নেতা-কর্মি সমর্থকরা মেয়র শাহনেওয়াজ আলীর পক্ষ অবলম্বন করেছেন।  প্রতিবাদ হিসেবে ওই সমাবেশে যোগদান করেন কমপক্ষে দশ হাজার নারী-পুরুষ। 

বক্তারা দলের হাইকমান্ডের দৃষ্টিকার্ষণ করে আগামী জাতীয় নির্বাচনে সংসদ সদস্য আব্দুল কুদ্দুসকে দলীয় মনোনয়ন না দেওয়ার জন্য দাবী তোলেন।  একই সাথে  মেয়র শাহনেওয়াজ আলীকে দলীয় মনোনয়নের দাবী জানান।  এই দাবী আদায় না হওয়া পর্যন্ত সাংসদ বিরোধী আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়া হয়। 

জেলা আ.লীগের সভাপতি ও সংসদ সদস্য আব্দুল কুদ্দুস মুঠোফোনে বলেন, দলের নেতা-কর্মিরাই ভোট দিয়ে তাঁকে সভাপতি নির্বাচিত করেছেন।  জেলা আ.লীগ সভাপতি ও সরকার দলীয় সাংসদ হিসেবে সাংগঠনিক প্রক্রিয়ায় সংগঠন চালাচ্ছি।  কিন্তু দলের কতিপয় নেতা আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে তাঁর বিরুদ্ধে বিষোদগারে মেতে উঠেছেন।  তবে সময় হলে জনগণই সকল প্রশ্নের উত্তর দেবে। 

Abu-Dhabi


21-February

keya