১১:৫১ পিএম, ২০ নভেম্বর ২০১৯, বুধবার | | ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১




সহজে ভুলে যাওয়া ‘সাইলেন্ট স্ট্রোক’-এর লক্ষণ

০২ মার্চ ২০১৯, ০৪:০৮ পিএম | জাহিদ


এসএনএন২৪.কম : সহজেই কোনো জিনিস ভুলে যাওয়া বা কথা বলার সময় এক বিষয় থেকে নিমেষে অন্য বিষয়ে সরে যাওয়ার মতো ঘটনা  ‘নীরব স্ট্রোক’ (সাইলেন্ট স্ট্রোক)-এর লক্ষণ।  কানাডার টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নাল নিউরোবায়োলজি অব এজিংয়ে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন সূত্রে ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি এই বিষয়ে ডিটেইলে একটি সংবাদ প্রকাশ করেছে। 

চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন,  ডিমেনশিয়া ও স্ট্রোকের একটি প্রধান কারণ হলো এই ‘নীরব স্ট্রোক’।  চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই রোগটির নাম ‘সেরিব্রাল স্মল ভেসেল ডিসিজ’।  বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই স্নায়বিক রোগে যে কেউ আক্রান্ত হতে পারেন।  এই রোগের ফলে মস্তিষ্কের রক্ত​​প্রবাহে পরিবর্তন ঘটে এবং মস্তিষ্কের ‘হোয়াইট ম্যাটার’ বা সাদা বস্তু’ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।  এর ফলে স্মৃতি শক্তি নষ্ট হয়।  কারণ, ওই ‘হোয়াইট ম্যাটার’ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের সঙ্গে মস্তিষ্কের সংযোগসাধন ঘটায়। 

এই সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা কোনো কাজে মনোযোগী হতে পারেন না।  প্রতিদিনের সাধারণ কাজগুলো করার ক্ষেত্রেও তাঁদের বিভ্রান্ত হতে হয়।  জার্নাল নিউরোবায়োলজি অব এজিংয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে,  এই সমস্যা থাকা সত্ত্বেও ৫৫ থেকে ৮০ বছর বয়সের মানুষ, যাঁদের মস্তিষ্কের সাদা অংশ ক্ষতিগ্রস্ত, তাঁদের অর্ধেকই মনোযোগ ও কার্যনির্বাহী ক্ষমতার পরীক্ষার মূল্যায়নে স্বাভাবিক পরিসরের মধ্যেই নম্বর পেয়েছেন। 

কানাডার টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক কলকাতার অয়ন দে গবেষণামূলক এই প্রতিবেদনের ব্যাপারে বলেন, ‘আমাদের ফলাফলগুলোতে দেখা যাচ্ছে, সাইলেন্ট  স্ট্রোকের ঝুঁকি যাঁদের সব থেকে বেশি ছিল বা যাঁদের এই স্ট্রোক হয়েছে সেই ব্যক্তিরা অনেক ক্ষেত্রেই মনোনিবেশ করতে সক্ষম হওয়ার একটি উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখেছেন।  এমনকি নিউরোসাইকোলজিক্যাল পরীক্ষার মাধ্যমে লক্ষণগুলো শনাক্ত হওয়ার আগেই তাঁরা তফাত বুঝতে পেরেছেন। ’

এই স্ট্রোকগুলোকে ‘নীরব’ বলা হয় কারণ তারা কোনো দীর্ঘস্থায়ী প্রধান পরিবর্তন, যেমন কথা বলতে অসুবিধা বা পক্ষাঘাতের সমস্যা নিয়ে আসে না।  সাধারণত, এই ধরনের স্ট্রোক এমআরআই স্ক্যানের মাধ্যমে বোঝা যায়। 

ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ব্রায়ান লেভাইন বলেন, ‘আলঝাইমার্সের কোনো কার্যকরী চিকিৎসা নেই, তবে মস্তিষ্কের ভাসকুলার পরিবর্তনগুলো কমাতে ধূমপান বন্ধ, ব্যায়াম, খাবার ঠিক নিয়মে খাওয়া ও চাপ কমানোর ব্যবস্থা করা, এবং রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখলে এই সমস্যাও নিয়ন্ত্রণে থাকবে। ’