৭:০৮ এএম, ৮ আগস্ট ২০২২, সোমবার | | ১০ মুহররম ১৪৪৪




সড়ক দুর্ঘটনার বহু কারন তার মাঝে মূল কারণ

০২ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১২:২৫ পিএম |


নকিব ছিদ্দিকী:

পত্রিকার পাতা খুললে, টেলিভিশন চালু করলে প্রতিদিন সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়।  প্রতিটি দুর্ঘটনাই মর্মান্তিক এবং অনাকাঙ্ক্ষিত।  যে বাবা-মা তাঁর সন্তান হারায়, যে স্ত্রী তাঁর স্বামীকে হারায়, যে ভাই-বোন তাঁর সহোদরকে হারায়- তাদের কষ্ট বোঝা অন্যের পক্ষে কঠিন!  সড়ক দুর্ঘটনার পিছনে বিভিন্ন কারণ নিয়ে আলোচনা চলছে।  যেমন- চালকের অদক্ষতা, বেপরোয়া গতি, লাইসেন্স প্রদানে অনিয়ম, গাড়ির ফিটনেস না থাকা, সড়কের বেহাল দশা, সড়কে প্রয়োজনীয় সংকেতের অভাব ইত্যাদি।  আমাদের দেশের প্রতিটি সমস্যার পিছনে একটা মূল কারণ রয়েছে।  অন্যসব বিষয় বাদ দিয়ে শুধু সড়ক দুর্ঘটনার পিছনে মূল কারণটি সম্পর্কে আমার ব্যক্তিগত মতামতটি তুলে ধরছি।  গেল কদিন আগে ২৬ জানুয়ারী চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির সড়ক দুর্ঘটনায় এক নারীর শরীর ৪ খন্ড মৃত্যুর সংবাদটি এবং গতকাল ১ ফেব্রুয়ারী স্কুল ছাত্র মৃত্যুর সংবাদটি শুনি।  রাতে নগরীর জিইসিতে বসে সহকর্মীর সাথে ঘটনাটি নিয়ে আলাপকালে আমি মন্তব্য করি, চালকের অসাবধানতার ফলেই এই দুর্ঘটনা।  সেই সাথে এক বড়  ভাইয়ের গড়িচালক সঙ্গে সঙ্গে মন্তব্য করে, স্যার, কপালে মৃত্যু থাকলে হাজার সাবধান থাকলেও লাভ হবে না! গাড়িচালকের ঐ মন্তব্যটি শুনে আমার মনে হল,সড়ক দুর্ঘটনার মূল কারণটি আসলে এখানেই লুকিয়ে আছে।  আমাদের দেশের গাড়িচালকদের সুশিক্ষার অভাবই সড়ক দুর্ঘটনার মূল কারণ।  প্রায় প্রতিটি গাড়িচালকের মনে উপরের যুক্তিটি কাজ করে যে, দুর্ঘটনার পিছনে ভবিতব্য বা ভাগ্যই দায়ী।  তাই হাজার সাবধান থাকলেও সেটা এড়ানো যাবে না।  এই কথাটি যে নতুন শুনলাম তা নয়।  এসময় আমাদের পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানও প্রায় একই সুরে বলেছেন, দুর্ঘটনা কার হাতে ঘটবে, এটা বলা যায় না।   আমাদের দেশের বেশিরভাগ গাড়িচালক অশিক্ষিত, গন্ডমূর্খ।  অশিক্ষার কারণে এদের ভিতর অসংখ্য গোঁড়ামি কাজ করে।  তাই সঠিকভাবে লাইসেন্স প্রাপ্ত দক্ষ চালকও যদি ধরে নেয় দুর্ঘটনা ভাগ্যের ব্যাপার বা কপাল লিখন, তাহলে তাঁর গাড়িতে ওঠা অবশ্যই বিপদজনক।  কেননা, তার যদি এই জ্ঞানটুকু না থাকে যে, সাবধানে গাড়ি চালালে এবং ট্রাফিক আইন যথাযথভাবে মেনে চললে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দুর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব, তাহলে গাড়িচালক হিসেবে তাঁর সঠিক শিক্ষার অভাব আছে ধরে নিতে হবে।  চালকদের বেপরোয়া গতির পিছনেও কিন্তু এই কুযুক্তিটিই কাজ করে।  সে ধরেই নেয়, যত জোরেই চালাই না কেন- কপালে মরণ না থাকলে আমারে ঠেকায় কে! এটা এক ধরণের আত্মঘাতী জুয়ার মত! এরকম চালকদের গাড়িতে আমরা প্রতিনিয়ত জীবনবাজী রেখে চলাফেরা করছি! প্রায়ই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটছে।  বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায়, অপ্রশস্ত রাস্তায় একাধিক বাসের রেষারেষি বা প্রতিযোগিতা করে চালানোর ফলে পথচারী, রিকশা বা মোটর সাইকেল আরোহীকে ধাক্কা দিয়ে বাসচালক প্রাণহানির ঘটনা ঘটাচ্ছে।  যারা নিয়মিত বাসে চড়েন তারা খেয়াল করে দেখবেন, রাস্তায় থাকা পথচারী বা অন্য যানবাহনগুলোকে বাসচালকরা কোন পাত্তাই দিতে চায় না, এমনকি নিছক বাধ্য না হলে ব্রেক করতেও তাদের চরম অনিহা! এত দুর্ঘটনার পরও বাসচালকদের মধ্যে কোন বিকার নেই, কোন পরিবর্তন নেই! কারণ ঐ একটাই- তাদের ধারণা দুর্ঘটনা শুধুমাত্র 'কপাল লিখন'! আমাদের দেশে তাই চালকদের যথাযথ প্রশিক্ষণের সময় এই মনস্তাত্ত্বিক শিক্ষা দেয়াটাও জরুরী যে, সড়ক দুর্ঘটনা শুধু ভাগ্যের বিষয় নয়- এটা কর্মফল।  অর্থাৎ সাবধানে গাড়ি চালালে দুর্ঘটনা রোধ করা যায়। 


keya