১:৩৩ পিএম, ২০ জানুয়ারী ২০২২, বৃহস্পতিবার | | ১৬ জমাদিউস সানি ১৪৪৩




সড়কে দুর্ঘটনা ঘটলে আইন হাতে তুলে নেবেন না: প্রধানমন্ত্রী

১২ জানুয়ারী ২০২২, ০১:৪৪ পিএম |


এসএনএন২৪.কম:সড়কে দুর্ঘটনা ঘটলে কাউকে আইন হাতে তুলে নিয়ে গণপিটুনির মতো ঘটনা না ঘটনানোর আহ্বান জানিয়েছে  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমি একটা কথা বলতে চাই, দুর্ঘটনা দুর্ঘটনাই। 

অনেক সময় গাড়ির ধাক্কা লেগে পড়ে যায়। 

কিন্তু গণপিটুনি দিয়ে মেরে ফেলবে এই ভয়ে চালক না দাঁড়িয়ে দ্রুত গাড়ি টেনে চলে যায়৷ গাড়িটা দাড়ালে লোকটি হয়তো বেঁচে যেত।  কিন্তু ড্রাইভার ভয়ের কারণে টেনে চলে গেলে দুর্ঘটনার শিকার ব্যক্তি মারা যায় ৷ তাই কেউ আইন হাতে তুলে নেবেন না। 

বুধবার (১২ জানুয়ারি) সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় নবনির্মিত ঢাকা এয়ারপোর্ট মহাসড়কে শহিদ রমিজ উদ্দীন ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ সংলগ্ন পথচারী আন্ডারপাস, সিলেট শহর বাইপাস-গ্যারিসন লিংক-৪ মহাসড়ক; বালুখালী (কক্সবাজার)-ঘুনধুম (বান্দরবান) সীমান্ত সংযোগসড়ক এবং রাঙ্গামাটি জেলার নানিয়ারচর চেংগী নদীর উপর ৫০০ মিটার দীর্ঘ সেতু উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কথা বলেন।    প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রকল্পগুলো উদ্বোধন করেন। 

তিনি বলেন, একটা প্রবণতা দেখা যায় কোনো একটা দুর্ঘটনা ঘটলে চালককে ধরে পেটানো হয়৷ অনেক সময় গণপিটুনি দিয়ে মেরে ফেলা হয়।  দুর্ঘটনাটা কেন ঘটলো, কার জন্য ঘটলো- বিবেচনা করতে হবে৷ গণপিটুনি, গাড়ি ভাঙচুর করবেন না৷ সবাইকে ট্রাফিক আইন মেনে চলতে হবে। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মোবাইল ফোন কানে নিয়ে রাস্তা-রেল লাইন পার হবেন না।  ফোন কানে নিয়ে যেখানে-সেখান দিয়ে  দৌঁড়ে রাস্তা পার হবেন না।  প্রায়ই দেখা যায় ছাত্ররা মোবাইল ফোন কানে দিয়ে রাস্তার মধ্যে এসে পড়ে।  ফলে দ্রুত বেগে চলতে থাকা গাড়ি অনেক সময় ব্রেক করে নিয়ন্ত্রণে আনা যায় না।  চালকদেরও আমি বলব, গাড়ি চালাতে চালাতে ক্লান্ত হয়ে পড়লে বলতে হবে।  বিরতি দিয়ে বিশ্রাম নিতে পারেন।  তা না করে হেলপার দিয়ে গাড়ি চালাবেন না।  তার তো কোনো অভিজ্ঞতা নেই।  আমরা হাইওয়েতে চালকদের বিশ্রামের ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছি।  প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, লাইসেন্স যাতে যথাযথভাবে পায় সে ব্যবস্থা করতে হবে। 

তিনি বলেন, ছোট বেলা থেকেই যাতে সবার ট্রাফিক আইনের শিক্ষা থাকে সে উদ্যোগ নিতে হবে।  আমি শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে বলব উদ্যোগ নিতে।  প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে শিক্ষার্থীদের রাস্তা পারারের ব্যবস্থা করার জন্য নিজস্ব লোক থাতে হবে।  প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে উদ্যোগ নিতে হবে, কারণ নিজস্ব লোক থাকলে শিক্ষার্থীরা তাদের কথা ভালোভাবে শুনবে। 

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারোল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ, পরিবহন ও সেতুমন্ত্রণালয়ের সচিব নজরুল ইসলাম প্রমুখ।