১০:২১ পিএম, ২৩ অক্টোবর ২০১৮, মঙ্গলবার | | ১২ সফর ১৪৪০


সিংড়ায় যৌতুক লোভী স্বামীর নির্যাতনে গৃহবধূ হাসপাতালে

০৮ আগস্ট ২০১৮, ০৭:০০ পিএম | মাসুম


মো.রাশেদুল ইসলাম, নাটোর প্রতিনিধি : নাটোরের সিংড়ায় যৌতুক লোভী স্বামীর নির্যাতনের শিকার হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিছানায় যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে মমতাজ বেগম (২২) নামে এক গৃহবধু।  স্বামীর মধ্যযূগীয় নির্যাতনের শিকার হয়ে সোমবার রাত ৮টায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে।  বর্তমানে হাসপাতালের ৩৬নম্বর বেডে রয়েছেন গৃহবধু মমতাজ। 

এদিকে, নির্যাতিত মমতাজ বেগমের পাশে দাড়িয়েঁছে নাটোরের জেলা প্রশাসক শাহিনা খাতুন এবং সিংড়া থানার ওসি মনিরুল ইসলাম। 

নির্যাতিতার পরিবার ও পুলিশ জানায়, সিংড়া উপজেলার প্রত্যন্ত ডাহিয়া ইউনিয়নের পূর্ব ভেঙরি গ্রামের সবুজ হোসেনের সাথে তিন বছর আগে বিয়ে হয় মৌগ্রামের মকবুল প্রামানিকের মেয়ে মমতাজ বেগমের।  তাদের সংসারে দেড় বছরের একটি সন্তান রয়েছে।  বিয়ের সময় দেড় লাখ টাকা যৌতুক দেয় মমতাজের পরিবার।  কিন্তু স্বামী সবুজ হোসেন আরো যৌতুকের টাকা দাবী করেন। 

এ নিয়ে মাঝে মধ্যেই তাদের সংসারে ঝগড়া বিবাদ হয়।  সোমবার যৌতুকের টাকা নিয়ে শাশুরি শাফিয়া বেগমের সাথে ঝগড়া লাগলে বেধড়ক মারপিট করা হয় তাকে।  পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। 

নির্যাতনের শিকার মমতাজ বেগম বলেন, স্বামী ও শাশুড়ি শাফিয়া বেগম মিলে মাঝে মধ্যে তাকে যৌতুকের টাকার জন্য মারপিট করে।  সোমবার সন্ধ্যায় একই বিষয় নিয়ে ঝগড়া লাগলে স্বামী এবং শাশুরী তাকে বেধড়ক মারপিট করেছে। 

এদিকে, গণমাধ্যম কর্মীদের কাছ থেকে খবর পাওয়ার পর মঙ্গলবার রাত ১টায় হাসপাতালে নির্যাতিতা মমতাজ বেগমের কাছে ছুটে যান সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম।  মমতাজ বেগমের কাছে ঘটনা শুনে দেড় বছরের সন্তানকে তার কোলে ফিরিয়ে দেন ওসি।  পরে তার ৩টায় ওসির নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করে নিজ বাড়ি থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে সবুজ হোসেনকে। 

অপরদিকে, নির্যাতিত মমতাজ বেগমের পাশে দাঁড়িয়েছে নাটোরের জেলা প্রশাসক শাহিনা খাতুন।  গণমাধ্যম কর্মীদের কাছ থেকে খবর পাওয়ার তিনি সিংড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জরুরী ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। 

সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মনিরুল ইসলাম জানান, গণমাধ্যম কর্মীদের কাছ থেকে জানতে পেরে রাতে মমতাজের শিশু সন্তানকে তার কাছে ফিরিয়ে দিয়েছি এবং রাতেই অভিযান পরিচালনা করে মমতাজের স্বামী সবুজকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছি। 


keya