৭:৩৯ পিএম, ১৫ নভেম্বর ২০১৯, শুক্রবার | | ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১




হোঁচট খাচ্ছে পায়রায় সরকারি উদ্যোগে বিদ্যুৎ উৎপাদন

০৫ নভেম্বর ২০১৯, ১০:২৯ এএম | নকিব


এসএনএন২৪.কম: পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সঞ্চালন লাইন নির্মাণ শেষ না হওয়ায় হোঁচট খেতে চলেছে সুলভ মূল্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সরকারি উদ্যোগ। 

সময় মতো উৎপাদনে যেতে না পারায় শঙ্কা দেখা দিয়েছে বড় অঙ্কের লোকসানের। 

বিদ্যুৎ খাতের এমন মেগা প্রকল্পগুলো চালু হলে ধাপে-ধাপে কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ বন্ধের পরিকল্পনা করছে পিডিবি। 

আমদানি করা কয়লা দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে ২০১৬ সালে পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণকাজে নামে বাংলাদেশ ও চীনের যৌথ মালিকানার কোম্পানি বিসিপিসিএল মাত্র সাড়ে চার বছরের মাথায় এখন প্রায় প্রস্তুত এ মেগা প্রকল্পটি।  এরই মধ্যে ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানি করা কয়লার জাহাজ ভিড়েছে পায়রার জেটিতে।  শুরু হয়েছে আধুনিক ব্যবস্থাপনায় তা খালাসের প্রক্রিয়াও। 

১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এ প্ল্যান্টের প্রথম ইউনিট এখন বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত।  কিন্তু উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করার জন্য এখনো সঞ্চালন লাইন নির্মাণ শেষ করতে পারেনি আরেক রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পিজিসিবি।  ফলে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। 

পায়রা তাপ বিদ্যুৎ প্রকল্পের পরিচালক প্রকৌশলী শাহ আবদুল মাওলা বলেন, এখানে এতটাকা ইনভেস্ট করা হয়েছে যা প্রকল্প পুরোপুরি না চালালে ফেরত আসবে না। 

বাংলাদেশ-চায়না পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী এ এম খোরশেদুল ইসলাম বলেন, যে সমস্যাটা হয়েছে সেটা ঠিক করার চেষ্টা করছি আমরা। 

সুলভ মূল্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনের এ মেগা প্ল্যান্টগুলো চালুর ওপরই নির্ভর করছে কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ বন্ধের সিদ্ধান্ত। 

পিডিবির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী খালেদ মাহমুদ বলেন, ওইগুলোর মেয়াদ শেষ হলে আমরা আর মেয়াদ বাড়াব না।  সেই রকম একটা সিদ্ধান্ত আমাদের আছে।  এরইমধ্যে আমরা কিছু বন্ধও করে দিয়েছি। 

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. আহমেদ কায়কাউস বলেন, কিছুটা সমস্যা এখানে রয়েছে।  সবকিছু মিলে আমাদের ট্রান্সমিশন লাইনটা একটু বিলম্ব হয়ে যাচ্ছে। 

টারবাইন জেনারেটর, কোল ডোম, পানি পরিশোধনাগার, কনভেয়ার বেল্টসহ সার্বিক প্রস্তুতি শেষ হলেও বিদ্যুৎ সচিব বলছেন- সুফল পেতে এখনো অপেক্ষা দু'মাসের। 

আধুনিক প্রযুক্তির এ প্ল্যান্ট চালাতে প্রতিদিন পোড়াতে হবে প্রায় ১৩ হাজার টন টন কয়লা।  আর দূষণ প্রতিরোধে ব্যবহৃত হবে ব্যয়বহুল ডি-সালাফারাইজেশন প্রযুক্তি।