৮:১৯ পিএম, ১২ ডিসেম্বর ২০১৯, বৃহস্পতিবার | | ১৪ রবিউস সানি ১৪৪১




হবিগঞ্জ পৌরসভায় ভিজিএফের চাল নিয়ে চালবাজি

৩১ মে ২০১৯, ১০:৩০ এএম | জাহিদ


আখলাছ আহমেদ প্রিয়, হবিগঞ্জ : হবিগঞ্জ পৌরসভায় ভিজিএফ-এর চাল নিয়ে শুরু হয়েছে শুরু হয়েছে চালবাজি।  বিতরণে ওজনে কম দিয়ে অসহায় দরিদ্রদের সাথে করা হয়েছে ব্যাপক প্রতারণা।  এতে করে ফুসে উঠেছে গরীব অসহায় দুঃস্থরা। 

বৃহস্পতিবার বিকেলে চাল বিরতণে অনিয়মের অভিযোগ এনে বিক্ষোভ করে ৪নং ওয়ার্ডের ভোক্তভোগী হতদরিদ্ররা।  খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ শাখাওয়াত হোসেন রুবেল।  পরে তিনি বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছেন বলে উপস্থিত লোকজনদের আশ্বাস প্রদান করেন।  

পৌর এলাকার ৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা ফিরোজ মিয়া জানান, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে চৌধুরী বাজার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় নাতিরাবাদ মাঠে ভিজিএফের চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু করে কাউন্সিলর জুনেদ মিয়া।  এ সময় কার্ডধারী প্রতি জনকে ১৫ কেজি করে চাল দেয়ার কথা থাকলেও কাউন্সিলর নিজের ইচ্ছে মত কাউকে ৮ কেজি আবার কাউকে ১০ করে চাল বিতরণ করেন।  

ফিরোজ মিয়া আরো জানান, তাদের পাড়া রাধানগর চিড়াকান্দিতে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন অসহায়দের মধ্যে ভিজিএফের চাল এনেছেন।  তাদের প্রত্যেককেই প্রায় অর্ধেক করে চাল দেয়া হয়েছে।  

ভোক্তভোগী সুমি খাতুন জানান, আমরা আসহায় মানুষ।  ঈদকে সামনে রেখে আমারা খুশি মনে ভিজিএফের চাল আনতে গেছিলাম।  কিন্তু ১৫ কেজি করে দেয়ার কথা থাকলেও কাউকে দেয়া হয়েছে ৭ কেজি আবার কাউকে দেয়া হয়েছে ১০ কেজি করে।  কেন আমাদের চাল কম দেয়া হয়েছে কাউন্সিলরের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোন উত্তর দেয়নি।  

এদিকে, একই অবস্থা ৬নং ওয়ার্ডে।  এ ওয়ার্ডে সকাল থেকেই শহরের আরডিহল প্রাঙ্গণে চাল বিতরণ শুরু করেন কাউন্সিলর মোঃ নুর হোসেন।  ৪নং ওয়ার্ডের মত এ ওয়ার্ডেও প্রত্যেক অসহায়দের মধ্যে ৮ থেকে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়। 

৬নং ওয়ার্ডের পুরানমুন্সেফি এলাকার বাসিন্দা মনোয়ারা বেগম ও করচান বিবি জানান, তাদেরকে ১৫ কেজি করে চাল দেয়ার কথা।  কিন্তু কাউন্সিলর দুর্নীতি করে তাদেরসহ একাধিক লোকজনকে ৮ থেকে ১০ কেজি করে চাল দিয়েছেন।  তাই এর সুষ্ঠ বিচার চান তারা।  এছাড়াও পৌর এলাকার আরো বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডে চাল বিতরণের অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।  

হবিগঞ্জ পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র দিলীপ দাস জানান, পৌর এলাকায় ভিজিএফের আওতাধীন প্রায় ৪ হাজার ৬ শত ২১ জন অসহায় গরীব লোকের মধ্যে চাল বিতরণ করা হয়েছে।  তাদের প্রত্যেককে ১৫ কেজি করে চাল দেয়ার কথা।  যদি কোন কাউন্সিলর বিতরণে অনিয়ম করে তাকে তা হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।  

সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ শাখাওয়াত হোসেন রুবেল জানান, চাল বিতরণে অনিয়ম হয়েছে বিষয়টি আমি শুনেছি এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি।  ৪নং ওয়ার্ডের রাধানগর এলাকার কিছু লোকজন তারা চাল কম পেয়েছেন বলে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।  অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিষয়টি তদন্ত করে আইনত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।