৭:১৪ এএম, ২১ জানুয়ারী ২০১৮, রোববার | | ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৯

South Asian College

হবিগঞ্জ শহরে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ

০৩ জানুয়ারী ২০১৮, ০৮:৩৬ এএম | মুন্না


আখলাছ আহমেদ প্রিয়, হবিগঞ্জ প্রতিনিধি : হবিগঞ্জ শহরে ফাইবার অপ্টিক্যাল ক্যাবল স্থাপনের কাজে নিয়োজিত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কান্ড জ্ঞাগহীনতার কারণে চরম গ্যাস দূর্ভোগে পড়েছেন হবিগঞ্জ শহরবাসি।  শুধু তাই নয়, অল্পের জন্য ভয়াবহ বিষ্ফোরণ থেকে রক্ষা পেয়েছে হবিগঞ্জ শহর।  এতে শহরবাসী ভোগান্তি কাটিয়েছে পুরো একদিন। 

মঙ্গলবার রাত ১ টা পর্যন্ত শহরজুড়ে চলছিল গ্যাসের জন্য হাহাকার।  রান্না-বান্না করতে না পেরে অনেকেই বাহির থেকে খাবার সংগ্রহ করেছেন।  যে কারণে খাবার সংকটে পড়ে শহরে হোটেল ও রেস্তোরা গুলো।  এ নিয়ে জনমনে ক্ষোভ ও উত্তেজনা দেখা দেয়।  

মঙ্গলবার দুপুরে হবিগঞ্জ শহরের পৌদ্দার বাড়ি সিএনজি পাম্প এলাকায় ফাইবার অপ্টিক্যাল স্থানপনের জন্য খনন কাজ চলছিল।  এসময় সংশ্লিষ্ঠদের কান্ডজ্ঞানহীনতায় হবিগঞ্জ শহরে সংযুক্ত জালালাবাদ গ্যাসের প্রধান সঞ্চালন লাইনটি কেটে যায়।  মুহুর্তেই চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে গ্যাস।  সৃষ্টি হয় অগ্নিকান্ড।  লোকজন তখন আতংক গ্রস্থ হয়ে চারদিকে করতে থাকেন ছুটাছুটি। 

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে প্রাণপন চেষ্টা করে আগুণ নিয়ন্ত্রন করে।  তখন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম আজহারুল ইসলাম, ভাইস চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান আউয়াল, লুকড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফরহাদ উদ্দিন আব্বাস, তেঘরিয়া ইউনিয়নের চেয়াম্যান আনু মিয়া, গোপায়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আক্তার হোসেন, রাজিউড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শেখ কামাল। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ফায়ারকর্মী ও স্থানীয় লোকজন তাৎক্ষণিক আগুণ নিয়ন্ত্রন না করলে ভয়াবহ দূর্ঘটনার কবলে পড়তে হত শরবাসিকে।  কারণ পাশেই ছিল সিএনজি পাম্প স্টেশন।  সেখানে অপেক্ষমান ছিল অসংখ্য গাড়ি।  অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন শহরবাসি। 

এদিকে, এ ঘটনার পর গ্যাসের প্রধান সঞ্চালন লাইনটি বন্ধ করে দেয় জালালাবাদ কর্তৃপক্ষ।  যে কারণে মঙ্গলবার দুপুর ১ টা থেকে রাত ১ টা পর্যন্ত টানা ১২ ঘন্টা গ্যাস সংকটে শরবাসিকে।  বাসা বাড়ির রান্না বারা থেকে শুরু করে বন্ধ হয়ে যায় শহরের হোটেল রেস্টুরেন্ট গুলোও।  যে কারণে সীমাহীন খাবার সংকটে পড়েন শহরবাসি।  পুরো শহরজুরে শুরু হয় হাহাকার। 

অনেকেই জানান, সা¤প্রতিক সময়ে এতবড় গ্যাস সংকটে পড়তে হয়নি শহরবাসিকে।  লক্ষ্য করা গেছে অনেক স্থানে বাসার সামনে বিকল্প চুলা তৈরী করে পেপারের কাগজ দিয়ে রান্না করতে।  গ্যাস না থাকার কারনে অনেক পরিবারকেই অনাহারে দিন কাটাতে হচ্ছে।  কেউ বা আবার বাসার ছাদে অস্থায়ী লাকড়ির চুলা বানিয়ে কোন রকম রান্নার কাজ সেরেছেন। 

সদর উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফেরদৌস আরা বেগম জানান, গ্যাস না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন তাহার পরিবার।  খাবার সংকটে ছিলেন সারাদিন।  বাসায় চুলা ও লাকড়ি না থাকায় রান্না বান্না করতে হিমশিম পড়েছেন।  অবশেষে শহরের হোটেল ও রেস্তোরায় খাবার না পেয়ে ইট দিয়ে চুলা তৈরী করে কাগজ পুড়ে তৈরী করেছেন রাতের খাবার। 

এ ব্যাপারে ইন্টানেট ক্যাবল স্থাপনের কাজে নিয়োজিত আর.এম.জি কোম্পানীর ট্রেকার মঞ্জুরুল আলম জানান, গ্যাসের সঞ্চালন লাইন বন্ধ হওয়ার পর সেখানে তাদের কাজ অব্যাহত ছিল।  তিনি জানান, অসতর্কতার জন্য এরকম দূর্ঘটনা ঘটেছে। 

জালালাবাদ গ্যাস কোম্পানীর ম্যানেজার দেলোয়ার হোসেন জানান, শহরের গ্যাসের প্রধান সরবরাহ লাইনের উপর খনন কাজ চলছে।  অথচ, তাদেরকে কেউ অবগত করেনি।  যে কোম্পানী কাজ করছে তাদের দায়িত্বহীনতার পরিচয় বহন করে।  ওই কোম্পানীর জন্য হবিগঞ্জ শহরবাসী চরম দুর্ভোগের স্বীকার হয়েছেন। 

তিনি আরও জানান, রাত পর্যন্ত শ্রমিকরা কাজ করছে, তবে ক্রটি সরানো সম্ভব হচ্ছে না।  এছাড়া মাঝে মধ্যে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হওয়ার কারনে তাদের কাজের ব্যাঘাত ঘটছে।  শ্রমিকরা সারা রাত কাজ করবে।  তবে মনে হচ্ছে বুধবারের আগে গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে না। 

জালালাবাদ গ্যাসের অভিযোগের ব্যাপারে ক্যাবল স্থাপন কোম্পানীর ইনচার্জ মাহবুবুর রহমানের সাথে টেলিফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। 

Abu-Dhabi


21-February

keya