৪:৫৪ পিএম, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮, সোমবার | | ৮ রবিউস সানি ১৪৪০




হারিয়ে যাচ্ছে দিন দিন শীতলপাটি বুনন শিল্পটি

০৭ জানুয়ারী ২০১৮, ০৯:৪৬ এএম | নকিব


এসএনএন২৪.কম : সম্প্রতি ইউনেস্কো সিলেটের শীতলপাটিকে দেশের সংস্কৃতির অনুষঙ্গ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। 

যা দেশের গৌরব বাড়িয়েছে।  কিন্তু প্রয়োজনীয় উপকরণ আর পুঁজির অভাবে দিন দিন এই শিল্প হারিয়ে যেতে বসেছে।  এছাড়া সঠিক মর্যাদা না পাওয়ায় পূর্বপুরুষের পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় যেতে বাধ্য হচ্ছেন কারিগররা।  তবে জেলা প্রশাসন বলছে, এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সব ধরণের সহযোগিতা দেয়া হবে। 

শীতলপাটি তৈরি করা হয় মুর্তা গাছ থেকে।  সরু বাঁশের মতো দেখতে এই গাছের ছাল থেকে প্রথমে খুব সূক্ষ্মভাবে বেতী সংগ্রহ করা হয়।  পরে এসব বেতীতে রং মাখিয়ে রোদে শুকানো হয়।  এরপর সুনিপুণ হাতে বানানো হয় বিভিন্ন নকশার রং-বেরঙের শীতলপাটি। 

তবে বর্তমানে আধুনিকতার সাথে তাল মিলিয়ে চলতে না পারায় শিল্পটি হারিয়ে যেতে বসেছে।  দেখা দিয়েছে শীতলপাটি তৈরির উপকরণ আর পুঁজির অভাব।  এছাড়া যথাযোগ্য মর্যাদা কিংবা পারিশ্রমিক না পাওয়ায় বাপ-দাদার এ পেশাকে আঁকড়ে ধরে থাকাটা কারিগরদের জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছে।  তাই সরকারের কাছে সাহায্যের আহবান জানিয়েছেন তারা। 

কারিগর ও ব্যবসায়ীরা বলেন, 'আমার বাপ দাদা এই পাটি বানিয়ে ব্যবসা করতো।  যে পরিশ্রম করি তাতে টাকা মেলে না।  ১টা পাটি বানাতে ১ মাস লাগে।  পেটতো চলন লাগবে। 

মৌলভীবাজার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আশরাফুর রহমান এবং মৌলভীবাজার বিসিক প্রমোশন কর্মকর্তা মো. মুজিবুর রহমান জানান, ইউনেস্কো স্বীকৃতিপ্রাপ্ত এই শিল্পটি টিকিয়ে রাখতে বুনন শিল্পীদের প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহযোগিতা দেয়া হবে। 

মৌলভীবাজার বিসিক প্রমোশন কর্মকর্তা মো. মুজিবুর রহমান বলেন, এই শিল্পের সঙ্গে যারা জড়িত আছে তাদেরকে ঋণের ব্যবস্থা করা এবং আরো উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা বিসিকের পক্ষ থেকে নেওয়া হবে। 

বিসিকের দেয়া তথ্য মতে, জেলার রাজনগর, বড়লেখা, জুড়ি ও সদরে এক হাজার ২শ ১৬টি পরিবার শীতলপাটি শিল্পের সাথে জড়িত রয়েছেন। 



keya