৭:২৬ পিএম, ১৭ নভেম্বর ২০১৯, রোববার | | ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১




হিরো আলম এমপি হলে ইসি সচিব কি করবেন?

২০ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৪:২৪ পিএম | জাহিদ


এসএনএন২৪.কম : ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বুধবার এক সভায় বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনে স্বতন্ত্র এম পি প্রার্থী  হিরো আলম সম্পর্কে কিছু  মন্তব্য করেন। 

ইসি সচিব বলেন, হিরো আলম পর্যন্ত ইসিকে হাইকোর্ট দেখায়।  সেও বলে যে নির্বাচন কমিশনকে আমরা হাইকোর্ট দেখিয়ে ছাড়ছি।  বুঝেন অবস্থাটা। 

বাংলাদেশের সংবিধানে শুধু সাজাপ্রাপ্ত ছাড়া সবাই ভোটে প্রার্থী হওয়ার অধিকার আছে।  একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনেক সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি প্রার্থী হওয়ার চেষ্টা করতে হাইকোর্ট পর্যন্ত গিয়েছেন।  তাদের নিয়ে মাননীয় ইসি সচিব কোনো মন্তব্য করলেন না।  অনেক প্রার্থীর বিরুদ্ধে ফৌজদারী মামলা রয়েছে।  মোবাইল চুরি, মাছ চুরিরও মামলা রয়েছে।  বিভিন্ন অপরাধে কারগারেও আছেন।  মাননীয় সচিব তাদের নিয়ে কোনো মন্তব্য করলেন না।  কিন্তু হিরো আলমের নামে এখন পর্যন্ত কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতের অভিযোগ নেই।  শুধু দেখতে কালো।  তাকে নিয়ে এতো ইনসাল্ট কেনো ?

নির্বাচনে প্রতীক বরাদ বা বৈধ প্রার্থী ঘোষনার পর সকল প্রার্থীর সমান অধিকার।  কোনো মন্ত্রী এমপি প্রার্থী হোক, আর কোনো গ্রাম পুলিশ এমপি প্রার্থী হোক।  উভয় প্রার্থী সমান নির্বাচনী অধিকার পাবেন নির্বাচনের ফলাফল সরকারী ভাবে প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত।  সে ক্ষেত্রে হিরো আলমও সম অধিকার পাবেন।  দেশের সংবিধান তাকে সেই অধিকার দিয়েছেন।  ইসি সচিব একটি দায়িত্বশীল পদে থেকে নির্বাচনের পূর্ব মুহুত্বে তার এ ধারণে মন্তব্য দুঃখ জনক না সংবিধান পরিপস্থী ?

তবে যে যাই বলি না কেন, ইসি সচিব মহোদয় এ ধরণের মন্তব্য করতে পারেন না।  তিনি এমন ইনসাল্ট (অপমান) করে কথা বলে নাগরিকদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ প্রকাশ করেছেন।  একজন সচিব এমপি প্রার্থীর সঙ্গে তুই-তোমারি করে কথা বলতে পারেন না।  সব মানুষই নির্বাচন করার অধিকার রাখে।  গরিব বা দেখতে খারাপ বা কালো মানুষ বলে কি নির্বাচন করতে পারবে না ? সচিবরা হচ্ছেন রাষ্ট্রের কর্মচারী।  জনগণের টাকায় তাদের বেতন হয়।  জনগণের সঙ্গে আদব নিয়ে কথা বলা দরকার। 

গুগল ছার্চে হিরো আলমের অবস্থান ১০তম।  সেই দিক থেকে আমরা বলতে পারি হিরো আলমের জনপ্রিয়তা আছে।  সৃষ্টিকর্তা হিরো আলমকে এমপি নির্বাচত করলে সাংবিধানিক ভাবে ইসি সচিব মহোদয় হিরো আলমকে যথাযথ সম্মান দিতে বাধ্য।  জনগণের ভোটে হিরো আলম এমপি হলে তখন ইসি সচিব কি করবেন ?

৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লড়তে বগুড়া-৪ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে ছিলেন হিরো আলম।  কিন্তু মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন।  পরে তিনি বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করলে নির্বাচন কমিশনও তা খারিজ করেন।  ইসির সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন হিরো আলমের আইনজীবী।  ওই রিট আবেদনের শুনানি নিয়েই আদালত তার মনোনয়নপত্র গ্রহণের জন্য ইসিকে নির্দেশ দিয়েছেন।  স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মোট ভোটারের এক শতাংশ স্বাক্ষর মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় বিধান মতো হিরো আলমও জমা দেন।  পরে কিছু স্বাক্ষর জালের অভিযোগে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। 

আদেশের পর হিরো আলম সাংবাদিকদের বলেন,  আমি এখন খুব খুশি।  হাইকোর্টে যে ন্যায় বিচার পাওয়া যায়, তা প্রমাণ হলো।  ইসি যে বলছিল আমার ভোটার তালিকা ভুয়া, তা আজ মিথ্যা প্রমাণ হয়েছে।  ইসিকে হাইকোর্ট দেখিয়ে দিলাম। 

হিরো আলম বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনে প্রথমে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন চেয়েছিলেন।  তা না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন। 

আসাদুজ্জামান সাজু, লেখক ও সাংবাদিক