৮:৪১ পিএম, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, শুক্রবার | | ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪০




হালদার ভাঙনে নদীগর্ভে বিলীন স্কুল ঘরবাড়িসহ ফসলি জমি

১২ জুলাই ২০১৮, ১০:২৯ এএম | জাহিদ


প্রদীপ শীল, রাউজান প্রতিনিধি : বর্ষা মৌসুমে হালদার ভাঙন তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে।  নদী গর্ভে বিলীন হচ্ছে ফসলি জমিসহ শত শত বাড়িঘর।  ভাঙনের ভয়াবহতায় ছোট হয়ে আসছে রাউজানের মানচিত্র। 

হালদার ভাঙনে শত শত একর ফসলী জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।  নদীতে ভেঙে পড়ছে নদী পাড়ের মানুষের বসতঘরসহ ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।  নদীর বিধ্বংসি ভাঙনে ইতিমধ্যে মধ্যে নদীতে তলিয়ে গেছে ওই এলাকার শতাধিক পরিবারের ঘর। 

এদিকে সর্তা, ডাবুয়া ও তেলপাড়ি খাল হয়ে হালদা নদীতে নেমে আসা পাহাড়ী পানির স্রোতে ভাংছে গহিরা,নোয়াজিশপুর এলাকার বিভিন্ন গ্রাম।  নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ঘরবাড়ী,হাটবাজার।  চলমান বর্ষায় এই ভাঙন তীব্র হওয়ার আশঙ্কায় নদীর পাড়ের মানুষ রয়েছে চরম উৎকন্ঠায়। 

ভাঙন কবলিত গহিরার দক্ষিণ পূর্বকোতোয়ালী ঘোনা পরিদর্শনে দেখা যায় এই এলাকার  একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি বাড়ী নদীতে বিলিন হয়ে গেছে।  এখন ভাঙন ছুঁই ছুঁই করছে গ্রামের প্রধান সড়কটি।  হালদার তীব্র ভাঙনে স্কুল ভবনের পর এবার বিস্তৃর্ণ ফসলি জমি চলে যাচ্ছে নদী গর্ভে। 

স্থানীয়দের বলেছেন, ২০১৭ সালের ৯ ডিসেম্বর হালদার পাড় রক্ষায় রাউজান ও হাটহাজারী অংশে ২১২ কোটি ৮লাখ  টাকার একটি প্রকল্পের কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হলেও  গহিরা ইউনিয়নের কোতোয়ালী ঘোনা এলাকার হালদার পাড় রক্ষায় কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।  যদি প্রকল্পটিতে গহিরা কোতোয়ালী ঘোনার ভাঙন কবলিত পাড় রক্ষায় ব্যবস্থা নেয়া হতো তাহলে রক্ষা পেত রাস্তাঘাট, শত শত বসতঘর, ফসলি জমিসহ বিভিন্ন স্থাপনা

স্থানীয় সমাজ সেবক আলহাজ্ব খোরশেদ আলম জানিয়েছেন ইতিপূর্বের ভাঙ্গনে দক্ষিণ পূর্ব কোতোয়ালীঘোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, ঘরবাড়ী নদীতে বিলিন হয়েছে।  রাউজানের সাংসদ এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী স্কুলটির স্থান পরিবর্তন করে প্রায় দেড় কোটি ব্যয়ে একটি প্রকল্পের অধীনে নতুন পাকা ভবন করে দিয়েছেন।  তিনি জানান এখন কয়েক’শ একর ধানী জমি নদী গর্ভে বিলিন করে এই ভাঙ্গন এসে পড়ছে মূল গ্রামের দিকে। 

এই বর্ষায় গ্রামের প্রধান সড়কটির বিলিন হতে পারে বলে তিনি আশংকা প্রকাশ করছেন।  নোয়াজিশপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সরোদ্দী সিকদার বলেছেন তার ইউনিয়নে ফতেনগর, ইন্দিরাঘাট এলাকার ভাঙন চলছে।  ইন্দ্রিরাহাট বাজারটির একাংশ ইতিমধ্যে নদীগর্ভে চলে গেছে।  নদী ভাঙ্গান কবলিতরা বলেছেন রাউজানের সাংসদের প্রচেষ্টায় হালদার ভাঙ্গ রোধ হয়েছে রাউজানের অনেক গ্রাম। 

তিনি সব ভাঙ্গন কবলিত এলাকা রক্ষার চেষ্টা করে আসলেও পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকল্প তৈরীতে কচ্ছপগতির কারণে তার সম্ভব হচ্ছে না।   প্রসঙ্গত, ২০১৭সালের ৪এপ্রিল ঢাকার শেরে বাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে একনেকের ২০১৬-১৭ অর্থ বছরের ২৩তম সভায় ২১২ কোটি ৮ লাখ টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদিত হয়। 

প্রকল্পটির আওতায় রাউজান ও হাটহাজারী অংশে ১২.১২ কিলোমিটার নদী তীর সংরক্ষণ কাজ, ৬ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ, ১৫ কিলোমিটার বাঁধ মেরামত, ৪ কিলোমিটার বিদ্যমান রাস্তা ও বাঁধ উঁচুকরণ এবং গাডওয়াল নির্মাণ করার কথা ছিল।  সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে প্রকল্পটির কাজা আগামী ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। 



keya