১০:৫৯ পিএম, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮, শনিবার | | ৬ রবিউস সানি ১৪৪০




ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষিকা

হাসনা হেনাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত

০৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৫:২৪ পিএম | জাহিদ


এসএনএন২৪.কম : ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বরখাস্ত শ্রেণিশিক্ষক হাসনা হেনাকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা মামলায় বৃহস্পতিবার (৬ ডিসেম্বর) কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। 

বৃহস্পতিবার (৬ ডিসেম্বর) দুপুর পৌনে ৪টায় ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে শিক্ষিকা হাসনা হেনাকে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।  বিচারক শুনানি শেষে জামিনের আবেদন না মঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।  ঢাকার মহানগর হাকিম আবু সাঈদের আদালতে এ মামলার শুনানি হয়। 

ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য হাসনা হেনাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, ডিবি পুলিশ পরিদর্শক কারুল হাসান তালুকদার।  আর আসামিপক্ষের আইনজীবী জাহাঙ্গীর আলম জামিনের আবেদন করেন। 

এর আগে মঙ্গলবার (৪ ডিসেম্বর) রাজধানী পল্টন থানায় অরিত্রীর বাবা দিলীপ অধিকারী ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌসসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন।  দণ্ডবিধির ৩০৫ ধারায় মামলাটি করা হয়। 

বুধবার (৫ ডিসেম্বর) রাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনায় শ্রেণিশিক্ষক হাসনা হেনাকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (পূর্ব) একটি টিম রাজধানীর উত্তরা থেকে গ্রেফতার করে। 

গ্রেফতারের বিষয়ে ডিবির (পূর্ব) উপকমিশনার খন্দকার নুরুন্নবীর ভাষ্য, আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা পাওয়ার পর থেকেই অভিযুক্ত শিক্ষকদের গ্রেফতারে তৎপরতা শুরু করেন গোয়েন্দারা। হাসনা হেনার অবস্থান নিশ্চিত হয়ে রাত ১১টার দিকে উত্তরায় অভিযান চালানো হয়।  সেখান থেকে তাকে গ্রেফতার করে আনা হয় মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে। 

এর আগে বুধবার (৫ ডিসেম্বর) প্রতিষ্ঠানটির গভর্নিং বডি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মেনে ভিকারুননিসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস, শাখাপ্রধান জিনাত আখতার ও অরিত্রীর শ্রেণিশিক্ষক হাসনা হেনা বরখাস্ত করে। 

বুধবার (৫ ডিসেম্বর) বিকেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় অরিত্রীর আত্মহত্যার ঘটনায় প্ররোচনাকারী হিসেবে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ, শাখা প্রধান এবং এক শ্রেণিশিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে র‍্যাব ও পুলিশের প্রতি অনুরোধ জানায়। 

উল্লেখ্য, অরিত্রীর বাবা দিলীপ অধিকারীর অভিযোগ, গত রোববার পরীক্ষা চলাকালে শিক্ষক অরিত্রীর কাছে মোবাইল ফোন পান।  মোবাইলে নকল করেছে এমন অভিযোগে অরিত্রীকে সোমবার তার মা-বাবাকে নিয়ে স্কুলে যেতে বলা হয়।  তিনি স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে সোমবার স্কুলে গেলে ভাইস প্রিন্সিপাল তাদের অপমান করে কক্ষ থেকে বের হয়ে যেতে বলেন।  মেয়ের টিসি নিয়ে যেতে বলেন।  পরে প্রিন্সিপালের কক্ষে গেলে তিনিও একই রকম আচরণ করেন।  এ সময় অরিত্রী দ্রুত প্রিন্সিপালের কক্ষ থেকে বের হয়ে যায়।  পরে বাসায় গিয়ে তিনি দেখেন, অরিত্রী তার কক্ষে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়নায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ঝুলছে। 



keya