১০:৫৩ এএম, ২২ আগস্ট ২০১৯, বৃহস্পতিবার | | ২০ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০




হয়রানির প্রতিবাদ করায় ধান ক্রয় বন্ধ, ঈদ নিয়ে শঙ্কা কৃষকের

০৭ আগস্ট ২০১৯, ১১:০৪ এএম | নকিব


আজিজুল ইসলাম বারী, লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ ধান ক্রয়ে কৃষকদের হয়রানি করায় কৃষকদের অভিযোগে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রতিবাদ করায় লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা খাদ্য গুদামে ধান চাল ক্রয় বন্ধ করেছেন ভারপ্রাপ্ত গুদাম কর্মকর্তা। 

মঙ্গলবার(০৬ আগস্ট) দুপুর থেকে ধান চাল ক্রয় বন্ধ করে দেন উপজেলা খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা কাণিজ ফাতেমা।  

পুলিশ ও ভুক্তভোগী কৃষকরা জানান, উপজেলার ৮টা ইউনিয়নের কৃষকদের কাছ থেকে কৃষি বিভাগের তালিকা অনুযায়ী প্রতি কেজি ২৬টাকা মুল্যে ধান ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।  প্রতি কৃষক ৪৮০ কেজি হারে ধান বিক্রির সুযোগ পায়।  এ উপজেলার জন্য ৯০৬ মেঃটন বরাদ্ধের ইতোমধ্যে ৩৬০ মেঃটন ক্রয় করে খাদ্যগুদাম।  

আগে থেকেই লটারীর মাধ্যমে কৃষকদের তালিকা চুড়ান্ত করে উপজেলা প্রশাসন।  সেই তালিকা অনুযায়ী খাদ্যগুদাম সরকারী মুল্যে ধান ক্রয় করার কথা।  কিন্তু উপজেলা খাদ্য গুদাম সাধারন কৃষকদের বিভিন্ন ভাবে হয়রানী করে টাকার বিনিময়ে  ব্যবসায়ীদের ধান ক্রয় শুরু করে।  কৃষকরা ধান নিয়ে গেলে ধানের আদ্রতা, চিটাসহ বিভিন্ন অযুহাতে হয়রানী করে ফেরায়ে দেয়।  টাকা না দিলে কোন কৃষকদের ধান ক্রয় করেন না বলে কৃষকদের অভিযোগ।  তালিকায় নাম থাকার পরেও অনেক কৃষক গুদামে ধান নিয়ে গিয়ে জানতে পারেন তার নামে ধান আগেই গুদামে ক্রয় হয়েছে।  ফলে তাদেরকে পুনরায় পরিবহন খরচ গুনে বাড়ি ফিরে যেতে হচ্ছে।  

আদিতমারী কাচারী পাড়া গ্রামের কৃষক আনোয়ার হোসেন ও সারপুকুরের আব্দুল বাকী বলেন, ঈদ করার জন্য ধান বিক্রি করতে সকালেই ধান নিয়ে গুদামে এসেছি।  কিন্তু দুপুরের আগে ধান গুদামের গেট অতিক্রম করতে দেয়নি।  দুপুরে জোর করে প্রবেশ করলে ধান বাহির করে দেয়া হয়।  ট্রাকে ট্রাকে আসা ব্যবসায়ীদের ধান নিচ্ছেন।  অথচ আমাদের ধান শেষ পর্যন্ত নেন নি।  ঈদের খরচ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় তারা।  

সারপুকুরের কৃষক আফজাল ও হাসমত আলী বলেন, কৃষি অফিসের তালিকায় নাম থাকায় ধান নিয়ে গুদামে গিয়ে শুনি আমাদের ধান অনেক আগেই ক্রয় করা হয়েছে।  অবশেষে ভ্যান ভাড়া দিয়ে ধান ফিরে এনে কম দামে বাজারে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছি।  গুদামের লোকজন টাকার বিনিময়ে তাদের নামের ধান ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়েছে বলেও দাবি করেন তারা। 

উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক আবু সাঈদ মুরাদ বলেন, বাড়ির ধান নিয়ে গুদামে ৩দিন ঘুরেছি।  ৪র্থ দিনে এক হাজার টাকা নেয়ার পর ধান নিয়েছেন।  গুদাম কর্মকর্তা তার অফিসের দারোয়ান চঞ্চলের মাধ্যমে টাকা আদায় করেন।  চঞ্চল টাকা না পেলে গুদাম কর্মকর্তা ধান নেন না।  কৃষকরা ফিরে গেলে রাতের আঁধারেও গুদামে ব্যবসায়ীর ধান ক্রয় হয়।  

ভুক্তভোগী কৃষকরা হয়রানী বন্ধে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে বিচার চান।  এমন অভিযোগে উপজেলা চেয়ারম্যান ফারুক ইমরুল কায়েস গুদামে গিয়ে কৃষকদের ভোগান্তি দেখে প্রতিবাদ করে গুদাম কর্মকর্তাকে কৃষকদের হয়রানী না করতে নির্দেশনা প্রদান করেন।  

নিজের দোষ ঢাকতে কৌশলী গুদাম কর্মকর্তা কাণিজ ফাতেমা পুলিশ ডেকে কৃষকদের গুদাম চত্ত্বর থেকে বের করে দেন এবং উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে লাঞ্চিতের অভিযোগ তুলে ধান চাল ক্রয় বন্ধ করে দেন।  ফলে ভোগান্তিতে পরেন ধান নিয়ে আসা কৃষকরা।  একই স্টেশনে দীর্ঘ তিন বছর চাকুরীর সুবাধে গুদাম কর্মকর্তা কাণিজ ফাতেমা অনিয়মকে নিয়মে পরিনত করে ঘুষের রাজত্ব কায়েম করেছেন বলে কৃষকদের অভিযোগ।  

আদিতমারী উপজেলা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি এলএসডি) কাণিজ ফাতেমা ঘুষের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বিনা অনুমতিতে গুদামে প্রবেশ করে উপজেলা চেয়ারম্যান আমাকেসহ আমার কর্মচারীকে লাঞ্চিত করেন।  এ কারনে থানা পুলিশের সহায়তা নেয়া হয়।  এ ঘটনার বিচার না হওয়া পর্যন্ত গুদামে ধান চাল ক্রয় কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।  ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে থানায় সাধারন ডায়েরী(জিডি) করা হবে বলেও জানান তিনি। 

আদিতমারী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি তদন্ত) সাইফুল ইসলাম বলেন, জনগন গুদামে হট্টগোল করছে বলে গুদাম থেকে ফোন আসায় ফোর্স পাঠানো হয়।  তবে এ ঘটনায় কোন জিডি হয়নি বলেও জানান তিনি। 

আদিতমারী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক ইমরুল কায়েস বলেন, টাকা ছাড়া সাধারন কৃষকদের ধান ক্রয় না করে বিভিন্ন ভাবে হয়রানী করে ব্যবসায়ীদের ধান ক্রয় করছে বলে কৃষকরা অভিযোগ করেন।  বিষয়টি জানতে গুদাম কর্মকর্তাকে কয়েকবার অফিসে ডেকে পাঠানোর পরেও না আসায় নিজেই গুদামে গিয়ে কৃষকদের ভোগান্তি দেখতে পেয়েছি।  তাই কৃষকদের ভোগান্তি না করতে তাদের নির্দেশনা দিয়ে এসেছি।  এমন একটি তুচ্ছ ঘটনাকে বড় করে কৃষকদের ধান ক্রয় বন্ধ করা চরম অন্যায়।  বিধিমত ব্যবস্থা নেয়া হবে।