৩:২৫ এএম, ২৩ নভেম্বর ২০১৯, শনিবার | | ২৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১




১০ দিনের রিমান্ডে সম্রাট

১৫ অক্টোবর ২০১৯, ০২:৫৪ পিএম | নকিব


এসএনএন২৪.কম: যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের বিরুদ্ধে রমনা থানায় দায়ের করা মাদক ও অস্ত্র মামলায় মোট ১০ দিন রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। 

মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তোফাজ্জল হোসেন শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। 

এর আগে মঙ্গলবার সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে সম্রাটকে ঢাকার সিএমএম আদালতের হাজত খানায় এনে রাখা হয়। 

সংশ্লিষ্ট আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) নিজাম উদ্দিন এ তথ্য জানান। 

আসামি পক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে  জামিনের আবেদন করেন।  অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজাদ রহমানসহ আরও কয়েকজন আইনজীবী জামিন বাতিল চেয়ে রিমান্ড দাবি করেন।  উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক পৃথক দুই মামলায় পাঁচ দিন করে মোট ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। 

গত ৭ অক্টোবর অস্ত্র আইনের মামলায় সম্রাটকে গ্রেফতার দেখিয়ে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন রমনা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম।  একই দিনে মাদক আইনের মামলায় সম্রাটকে গ্রেফতার দেখিয়ে ১০ দিনের  রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন একই থানার পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র)  মাহফুজুল হক ভূঞা।  ওই দিন (৭ অক্টোবর) সন্ধায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বেগম ইয়াসমিন আরা শুনানির জন্য ৯ অক্টোবর দিন ধার্য করেন। 

কিন্তু ৯ অক্টোবর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি থাকায় সম্রাটকে আদালতে হাজির করা হয়নি।  ফলে বিচারক শুনানির জন্য আজ  সোমবার (১৫ অক্টোবর)  এ দিন ধার্য করেন। 

প্রসঙ্গত, গত ৭ অক্টোবর (সোমবার) সম্রাটের বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।  উভয় মামলার এজাহারে বলা হয়েছে— মতিঝিল, আরামবাগ, ফকিরাপুল ও পল্টনসহ রাজধানীতে ১০টি ক্লাবে ক্যাসিনো ব্যবসা ছিল সম্রাটের।  সবার কাছে সে ‘ক্যাসিনো সম্রাট’ হিসেবে পরিচিত।  পাশাপাশি, দলীয় পদের অপব্যবহার করে চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি করতো।  কেউ চাঁদা দিতে না চাইলে তাকে ধরে নিয়ে নির্যাতন করতো তার ক্যাডাররা।  সম্রাটের কার্যালয় থেকে র‌্যাব অবৈধ অস্ত্র, মাদকসহ নির্যাতন করার জন্য ইলেকট্রিক শকড দেওয়ার মেশিন উদ্ধার করেছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। 

পুলিশ ও র‌্যাব সূত্র জানায়, সম্রাটের বিরুদ্ধে রমনা থানায় দায়ের করা দুটি মামলারই বাদী র‌্যাবের নায়েব সুবেদার (ডিএডি) আব্দুল খালেক।  মাদক মামলায় সম্রাটের পাশাপাশি তার সঙ্গে আটক আরমানকেও আসামি করা হয়েছে। 

এ প্রসঙ্গে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান বলেন, ‘মামলা হয়েছে।  যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ও গুরুত্ব দিয়ে মামলা দুটি তদন্ত করা হবে। ’

উল্লেখ্য, বিভিন্ন স্পোর্টস ক্লাবের আড়ালে ক্যাসিনো ব্যবসা চালানোর অভিযোগে গত ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে অভিযান শুরু করে র‌্যাব।  এরই ধারাবাহিকতায় ওই দিনই গ্রেফতার করা হয় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে।  এর দুদিন পর গ্রেফতার করা হয় যুবলীগ নেতা জিকে শামীমকে।  অভিযানের প্রথম দিন থেকেই আলোচনায় আসে ইসমাইল হোসনে চৌধুরী সম্রাটের নাম।  গত ২৩ সেপ্টেম্বর অন্যদের সঙ্গে সম্রাটেরও দেশ ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ও ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়।  গত  ৬ অক্টোবর ভোরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয় তাকে। 

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, র‌্যাবের একটি দল জানতে পারে, চলমান ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে অন্যতম পলাতক আসামি ক্যাসিনো সম্রাট গ্রেফতারের ভয়ে কুমিল্লা সীমান্ত দিয়ে প্রতিবেশী দেশ ভারতে পালিয়ে যাওয়ার জন্য কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম এলাকায় লুকিয়ে আছে।  এই সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব সদর দফতরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সরওয়ার আলম ও নিজাম উদ্দিন আহম্মেদের নেতৃত্বে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে গিয়ে আলকরা গ্রামের কঞ্জুশ্রীপুর গ্রামের মনির চৌধুরীর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে সম্রাট ও আরমানকে গ্রেফতার করা হয়।  আরমানকে মাদক সেবনরত অবস্থায় পাওয়া যাওয়ায় তাকে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তাৎক্ষণিক ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।  আর সম্রাটের কাকরাইলের কার্যালয়ে অস্ট্রেলিয়ান ক্যাঙ্গারুর চামড়া পাওয়ায় তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। 

এ প্রসঙ্গে র‌্যাব সদর দফতরের উপ-পরিচালক (মিডিয়া) মিজানুর রহমান বলেন, ‘সম্রাটের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা র‌্যাবই তদন্ত করবে।  এরইমধ্যে তদন্ত-প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ’


keya