৩:৩৯ এএম, ১৭ আগস্ট ২০১৮, শুক্রবার | | ৫ জ্বিলহজ্জ ১৪৩৯


১৬ ডিসেম্বর শুধু দিবস নয়, একটি গৌরবময় বিজয়ের ইতিহাস

১৬ ডিসেম্বর ২০১৭, ০১:২০ এএম | সাদি


এসএনএন২৪.কম : “আজ আমাদের বিজয় দিবস, লাল সবুজের দেশ, মা-ছেলের চির চেনা স্বাধীন বাংলাদেশ”। 

আজ ১৬ ই ডিসেম্বর।  আমাদের মহান বিজয় দিবস।  বছর পরিক্রমার মধ্য দিয়ে হাজার হাজার গৌবর গাঁথা নিয়ে এই দিনটি আবারও ফিরে এসেছে সবার মাঝে।  ১৬ই ডিসেম্বর বাঙ্গালীদের জন্য একটি অবিস্বরনীয় সাফল্যে ও গর্বের দিন।  এই ঐতিহাসিক দিনেই আমাদের দেশ বিজয় লাভ করে।  শত্রুমুক্ত হয় আমাদের মাতৃভূমি বাংলাদেশ। 

বাঙ্গালীদের জীবনে ১৬ ডিসেম্বর কেবল মাত্র একটি দিবস নয়, একটি গৌরবময় বিজয়ের ইতিহাস।  এই ইতিহাস বুকের তাজা রক্ত, এক সাগর অশ্রু ও হাজার হাজার মা-বোনের সম্ভ্রম দিয়ে রচিত একটি জাতীর বিপুল আত্মত্যাগের গৌরবগাঁথা।  বাংলার সাহসী দামাল ছেলেদের ত্যাগ তিতিক্ষা আর বুকের তাজা রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয় আমাদের মুক্তির রক্তগোলাপ স্বাধীনতা।  মহান মুক্তিযুদ্ধ বাঙ্গালী জাতীর জীবনে একটি সর্বোত্তম ইতিহাস।  মুক্তিযুদ্ধ আমাদের জাতীয় জীবনে সবচেয়ে গৌরবময় ঘটনা।  যা আজ বাঙ্গালীদের করেছে গর্বিত ও মহিমান্বিত। 

বাঙ্গালী জাতীয় জীবনে এটি একটি মহত্তম অর্জনের দিন।  তাই দিনটিকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্বরণ করে বাঙ্গালী।  সারাদেশে নানা কর্মসূচীর মধ্যে দিয়ে পালন করা হয় ১৬ই ডিসেম্বর বিজয় দিবস।  ইতিহাসের পাতা বলে, দীর্ঘ ৪৬ বছর পূর্বে ১৯৭১ সালের এই দিনেই বাঙ্গালীর স্বাধীনতা সংগ্রামের বিজয় সুচিত হয় পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্যে দিয়ে।  লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত হয় আমাদের প্রিয় স্বাধীনতা।  ৩০ লাখ শহীদের এক সাগর রক্ত, আর ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের চরম মূল্য দিয়ে আমাদের এই মহান অর্জন। 

ইতিহাসের পাতা আরো বলে, ১৯৭১ সালের ৭ ই মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতিতে রেসকোর্স ময়দানে ঘোষণা করেন, “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম।  এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম”।  বঙ্গবন্ধুর কন্ঠে উচ্চারিত ধ্বনি সারা বাংলায় জাগরিত হলো।  প্রতিধ্বনিত হলো শিশু-কিশোর, বৃদ্ধ-জোয়ান যুবকসহ ৭ কোটি বাঙ্গালীর কন্ঠে।  বঙ্গবন্ধুর এই আহব্বানে ধীরে ধীরে মুক্তি পাগল বাঙ্গালী জাতি জেগে উঠল। 

১৯৭১ সালের ২৫ সে মার্চ কালোরাতে পাকিস্তানী বাহিনীরা হিংস্র হায়েনার মত ঝাপিয়ে পড়েছিল নিরীহ নিরস্ত্র ঘুমন্ত বাঙালীর উপর।  চালায় অমানবিক নির্যাতন, হামলা, গণধর্ষণ ও গণহত্যা শুরু করে।  কেড়ে নিয়েছিল অসংখ্য বাঙালীর প্রাণ।  এ রাতেই পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাসভবন, পিলখানাস্থ, বিডিআর সদর দপ্তর, রাজারবাগ পুলিশ লাইন, ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়সহ বিভিন্নস্থানে হামলা চালায়।  ২৬ সে মার্চ বাংলার দামাল ছেলেরা শত্রুদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলে।  শুরু হয় স্বাধীনতা যুদ্ধ। 

বাঙ্গালীরা ধীরে ধীরে নেমে পড়ে যুদ্ধের প্রান্তরে।  দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধ শেষে বাঙ্গালী জাতী উপনীত হয় স্বাধীনতা সংগ্রামে।  বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগ তিতিক্ষার ফলে পতন ঘটে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর।  বাংলার দামাল ছেলেরা সাহসিকতার মাধ্যমে রক্ত দিয়ে অন্ধকারের বৃন্ত হতে ১৯৭১ এর ১৬ই ডিসেম্বর ছিনিয়ে আনে স্বাধীনতার লাল সূর্য। 

এই দিনে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্যে দিয়ে বিজয় লাভ করে আমাদের সোনার বাংলাদেশ।  দীর্ঘ দিনের আন্দোলনের সংগ্রাম, জেল-জুলুম, রাজনৈতিক টান পোড়ানের মধ্য দিয়ে ৭১ এর মাসে একমাত্র শেখ মুজিবুর রহমানই অর্জন করেছিলেন স্বাধীনতা ঘোষনার সর্বাধনিক অধিকার।  তাই এদেশের মানুষ আজ গভীর শ্রদ্ধার সাথে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের।  যাদের অমর কীর্তি আজ এই সোনার বাংলাদেশ।  আজ আনন্দের এই দিনে দুঃখের সহীতে একটি কথা লিখতে হয় ।  বিভিন্ন পত্র পত্রিকা দেখে উপলব্ধি করেছি। 

মুক্তিযুদ্ধের সময় আমাদের দেশের বিপক্ষে পাকিস্তানী বাহিনীকে সহযোগীতা করেছিল এদেশেরই কিছু স্বার্থন্বেষী লোক।  যাদের আজ চিহ্নিত নাম রাজাকার, আলবদর বাহিনী।  যারা আজ বড় পর্দার মুখোশ পড়ে আমাদের সাথে সমাজে বসবাস করছেন।  অথচ, আমরা ভুলে গেছি যে তারাই আমাদের শত্রু আমাদের দেশের শত্রু।  যারা সাধারণ স্বার্থের বিনিময়ে আমাদের সোনার দেশকে বিক্রি করে দিয়েছিলো পাক হানাদার বাহিনীর হাতে। 

যার কারণে লুন্ঠিত হয়েছিল আমার  কিশোরী বোনের ইজ্জত, ঝড়ে ছিলো আমার বৃদ্ধ মায়ের এক সাগর অশ্রু, ক্ষয় হয়েছিলো আমার যুবক ভাইদের তাজা রক্ত।  আজ প্রশ্ন জাগে, সে কি ভুলে গেছে দেশ, ভুলে গেছে জাতী? না ভুলে যায়নি।  মোরা ভুলিনী, ভুলবনা।  এ পৃথিবীতে বাংলাদেশ নামে একটি মানচিত্র যতদিন থাকবে ততদিন পর্যন্ত বাঙ্গালী জাতী সেদিনের কথা ভুলতে পারেনা, পারবেনা বলে বিশ্বাস করি।  পরিশেষে পাঠকদের উদ্দেশ্যে করে একটি কথা বলতে চাই, আপনার কি বাংলার মাটিতেই এদেশের শত্রু রাজাকার যুদ্ধপরাধীদের বিচার দেখতে চান, তাহলে আসুন.... আমরা আজ থেকে সমাজে তালাশ করি, রাজাকার ধরি।   তাদের মুখোশ খুলে দিয়ে, কাঠগড়ায় ভরি। 

সাজা হবে ফাঁসির মঞ্চে, এটাই হবে বেশ,
শান্তি পাবে শহীদদের আত্মা, কলঙ্খ মুক্ত হবে দেশ। 


লেখক, আখলাছ আহমেদ প্রিয়, সংগঠক ও সংবাদকর্মী
সাংগঠনিক সম্পাদক, ওসমানী স্মৃতি পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটি।