১:২৮ পিএম, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮, সোমবার | | ৮ রবিউস সানি ১৪৪০




২য় বিশ্বযুদ্ধে একমাত্র শহীদ রাঙ্গুনিয়ার ঠান্ডা মিয়া

১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১২:৪৭ পিএম | জাহিদ


আব্বাস হোসাইন আফতাব, রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি : ২য় বিশ্বযুদ্ধে নিহত রাঙ্গুনিয়ার একমাত্র শহীদ ঠান্ডা মিয়ার বাড়ি সৈয়দ বাড়ি গ্রামে।  তাঁর পিতার নাম মনিরুজ্জামান ও মায়ের নাম শাহাব খাতুন। 

২ রা সেপ্টেম্বর  ১৯৪৫  সালে ২২ বছর বয়সে অবিবাহিত অবস্থায় তিনি মারা যান।  ইন্ডিয়ান পাইওনিয়ার করপ্স সৈনিক ছিলেন ঠান্ডা মিয়া।  ২য় বিশ্ব যুদ্ধে নিহত তিনিসহ চট্টগ্রামের ৬ জন  রয়েছেন ।  মারা যাওয়ার পর তাকে চিটাগাং ওয়ার সিমেট্রিতে কবর দেয়া হয়।  এখানে ৭৫৫ জনের সমাধি রয়েছে।  চট্টগ্রাম ওয়ার সিমেট্রি’র রেজিষ্ট্রারে এই সব তথ্য লেখা রয়েছে। 

ঠান্ডা মিয়ার ভাগিনা মো. মুছা তৈয়্যবী বলেন,  তার মায়ের কাছে শুনেছেন স্কুলের নবম শ্রেনি থেকে তিনি ইন্ডিয়ান আর্মিতে সৈনিক পদে যোগ দেন ।  ফুটবল খেলা খুবই পারদর্শী ছিলেন তিনি।  যুদ্ধের সময় তার বুকে গুলি লাগলে তাঁকে চন্দ্রঘোনা খ্রিষ্টীয়ান মিশনারি হাসপাতালে নিয়ে আসা হয় সেখানে তিনি মারা যান।  মারা যাওয়ার পর তাকে চট্টগ্রাম ওয়ার সিমেট্রিতে কবর দেয়া হয়। 

এ সময় তার মা শাহাব খাতুনকে তার ব্যবহৃত কাপড় ও একটি টিনের ট্রাঙ্ক দিয়ে যান।  ফুটবল খেলতে গিয়ে বুকে আঘাত পেয়েছেন বলে সেসময় তাকে জানানো হয়।  তাঁর ছবি কিংবা স্মৃতিচিহ্ন কিছুই না থাকলেও তার ব্যবহৃত একটি টিনের ট্রাঙ্ক যত্নে রেখে দিয়েছেন মামা মুছা তৈয়্যবী।  ৫ বোন এক ভাইয়ের মধ্যে ঠান্ডা মিয়া ছিল সবার বড়।  ২ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যুতে পরিবারের পক্ষ থেকে ধর্মীয় কর্মসূচি পালন  করা হয়। 

টিটাগাং ওয়ার সিমেট্রির কথা- চিটাগাং ওয়ার সিমেট্রির অপর নাম চিটাগাং কমনওয়েলথ ওয়ার সিমেট্রি।  এটি মূলত কমনওয়েলথ ওয়ার গ্রেভস কমিশন কর্তৃক পরিচালিত একটি সমাধি সৌধ।  ১৯৩৯ সাল থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত সংগঠিত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ব্রিটিশ সেনাবাহিনী কর্তৃক এই সিমেট্রি প্রতিষ্ঠিত হয়।  দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়  ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর ১৪ তম পদাতিক বাহিনী চট্টগ্রামে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করত এবং এখানে যুদ্ধে আহত সেনাদের চিকিৎসার জন্য ১৫২ তম জেনারেল হাসপাতাল চালু করেছিল। 

এই হাসপাতালের কার্যক্রম  ১৯৪৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ১৯৪৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত চালু ছিল।  এই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অথবা যুদ্ধক্ষেত্রে মারা যাওয়া মোট ৪০০ জন যোদ্ধাকে কবর দেওয়া হয়।  তাদের মধ্যে বড় একটি অংশ বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী ভারতের সেভেন সিস্টার্সভুক্ত আসাম রাজ্যের লুসাই পাহাড় থেকে যুদ্ধে মারা যাওয়া অনেক সেনার মরদেহ এখানে স্থানান্তর করে সমাধিস্থ করা হয়।  এই সিমেট্রি প্রতিষ্ঠা করা উদ্দেশ্য ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যে সকল সেনা মারা গেছে তাদের সম্মান জানানো।  দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর এই ওয়ার সিমেট্রিতে দেশের আরও অনেক অস্থায়ী সিমেট্রি থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত সেনাদের লাশ এনে সমাধিস্থ করা হয়। 

চিটাগাং ওয়ার সিমেট্রিতে মোট ৭৫৫ টি কবর রয়েছ।  ৭৫৫ টি কবরের মধ্যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে কমনওয়েলথ ভুক্ত দেশগুলোর মোট ৭৩১ জন সেনা কবর রয়েছে।  কমনওয়েলথ ভুক্ত দেশগুলোর বাইরে এখানে একজন নেদারল্যান্ডের নৌবাহিনীর একজন সদস্যদের কবর রয়েছে এবং ১৯ জন জাপানি সেনার কবরও এখানে রয়েছে।  কমনওয়েলথভুক্ত যে দেশগুলোর সেনা সদস্যের কবর রয়েছে তার মধ্যে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর বেশী সংখ্যক সদস্যের কবর রয়েছে। 

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত হওয়া মোট ৪৭১ জন সেনার কবর চিটাগাং ওয়ার সিমেট্রি তে রয়েছে।  এছাড়া অবিভক্ত ভারতীয় উপমহাদেশের ২০৭ জন,কানাডার ২৫ জন,অস্ট্রেলিয়ার ৯ জন, নিউজিল্যান্ডের ১ জন সেনার কবর রয়েছে।  এছাড়া দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত হন নি এমন চারজন ব্রিটিশ সেনার কবরও এই সিমেট্রিতে রয়েছে। 

চিটাগাং ওয়ার সিমেট্রির মোট ১৭ টি কবরের মানুষদের পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায় নি।  তারা আজও অজানা হয়েই চিটাগাং ওয়ার সিমেট্রি তে চিরনিদ্রায় শুয়ে আছেন।