৫:২৪ পিএম, ২৫ নভেম্বর ২০১৭, শনিবার | | ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

South Asian College

ইত্যা দাখিল মাদ্রাসাটি এমপিও ভূক্ত না হওয়ায় মানবেতর জীবন যাপন শিক্ষকদের

২ যুগে নির্মিত হয়নি একটি সময়োপযোগী ভবন

০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০১:১৬ পিএম | ফখরুল


হাবিবুর রহমান (মনিরামপুর): প্রায় ২যুগ পেরিয়ে গেলেও এমপিও ভূক্ত হয়নি যশোরের মনিরামপুর উপজেলার ইত্যা স্লুইসগেইট মাদ্রাসাটি।  ১৯৯৭ সালে মরহুম হাবিবুর রহমান হাবিব নামে এক ব্যক্তির দান করা ১০১ শতক জমির উপর নির্মিত ইত্যা স্লুইসগেইট দাখিল মাদ্রাসাটি।  কাশিমনগর ইউনিয়নের হরিহর নদীর কাছে সুন্দর মনোরম পরিবেশে ইত্যা গ্রামের নামে গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতি বছর শিক্ষার্থীরা পাবলিক পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করে আসছে। 

প্রতিষ্ঠার প্রায় দুইযুগ পেরোলোও নির্মিত হয়নি সময়োপয়োগী একটি একাডেমিক ভবন।  ২০ বছরের শিক্ষাকতা জীবনে বেতন পাইনি জীবন সংগ্রামের বোঝা টানতে টানতে এখন আমি পরিশান্ত ক্লান্ত।  আর পারছি না! ঈদ এলে তো স্ত্রী সন্তানদের সামনে চোখের পানি ফেলা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না।  তবুও পাওয়ার আশায় বুক বেধেছি, কথাগুলো বলেছিলেন এমপিও না হওয়া ইত্যা স্লুইসগেইট দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা রুহুল আমিন। 

শুধু রুহুল আমিন নন মাদ্রাসা বাকি শিক্ষক কর্মচারীর পরিবারের অবস্থা একই।  শিক্ষকদের অনুদানে গড়ে ওঠে প্রতিষ্ঠানটি।  শুরুতে ১৫ জন শিক্ষক আর ৩৫০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা শুরু করে।  এমপিও হবে বেতন পেয়ে স্ত্রী সন্তানদের মুখে হাসি ফুটবে এই আশায় আজও তাদের পথ চলা। 

এদিকে শিক্ষকরা বেতন না পেলেও দায়িত্ব পালন করে চলেছেন ঠিকঠাক।  খোজ নিয়ে জানাগেছে, প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের সংসারের ঘানি টানতে সপ্তাহে এক দুইদিন মাদ্রাসা ছেড়ে মাঠে নামতে হয়।  তারপর ও বর্তমানে সেখানে ২৫০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে বলে মাদ্রাসার পক্ষ থেকে জানানো হয়। 

স্থানীয়রা ও মাদ্রাসাটির প্রশংসা করেছেন।  মাদ্রাসার সুপার রুহুল আমিন আরও বলেন গত ২০ বছর ধরে পৈত্রিক সমপত্তি বিক্রি করে মাদ্রাসার পেছেনে ১৮ লাখ টাকা ব্যায় করছি।  অথচ নিজের অনার্স পড়–য়া ছেলেকে অর্থের অভাবে লেখা পড়া করাতে পারিনি।  এখন সংসার চালাতে পরের কমিউটার দোকানে কাজ করে। 

তাছাড়া ইংরেজিতে অনার্স পড়া মেয়ের ও বিয়ে দিয়ে দিতে হলো।  তিনি আরো বলেন, লজ্জার কথা কী বলব! সপ্তাহের এক দিন মাঠের কাজে না গেলে সংসার চলে না।  তবে আগামি সংসদ নির্বাচনের আগে এমপিও পাবেন বলে তিনি আশাবাদী তাছাড়া মাদ্রাসায় চেয়ার বেঞ্চের সংকট।  প্

রতিষ্ঠানের সভাপতি মোঃ শহিদুল ইসলাম (ইউপি সদস্য) বলেন, মাদ্রাসাটি খুব ভালো লেখাপাড়া হয়।  তবে এই ধারা কতদিন বজায় থাকবে? মাষ্টাররা কেউ তো বেতন পায় না।  তাছাড়া জরাজীর্ন পুরাতন টিনশেড ভবনে একটু বৃষ্টি হলেই শিক্ষর্থীদের ভিজে ক্লাস করতে হয়। 

এব্যাপারে একাধিকবার পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ ও সংশ্লিষ্ঠদের অবগত করে ফল পাওয়া য়াযনি।  চলতি বর্ষা মৌসুমে মাঠে পানি ভরে গেছে।  জলাবদ্ধতা যোগ হয়ে দুর্ভোগ এখানে নতুন মাত্রা নিয়েছে।  দীর্ঘ প্রায় দুই যুগ ধরে বেতন বঞ্চিত ভূক্ত ভোগী শিক্ষকদের তাদের চরম দুরবস্থার কথা বিবেচনা করে দ্রততার ভিত্তিতে এমপিও ভূক্ত এবং একটি সময়োপযোগী ভবন নির্মানের আকুল নিবেদন জানিয়ে মাননীয় প্রধান মন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষা সচিবের সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন। 






Abu-Dhabi


21-February

keya