৪:৫৬ এএম, ১৯ অক্টোবর ২০১৮, শুক্রবার | | ৮ সফর ১৪৪০


'৩২ ধারা' নিয়ে বিতর্ক

৩০ জানুয়ারী ২০১৮, ০৯:৪৬ পিএম | নিশি


এসএনএন২৪.কম : ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৩২ ধারা নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে।  আইনমন্ত্রী বলছেন, তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারার অপপ্রয়োগ রুখতেই ৩২ ধারা, সাংবাদিকতার সঙ্গে এ ধারা সম্পৃক্ত নয়। 

একই ধরনের মত দিয়েছেন সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ।  যদিও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ডক্টর শাহদীন মালিকের মতে, এ ধারা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ করবে। 

তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার পর ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নামে নতুন আরেকটি আইনের খসড়ায় সোমবার অনুমোদন দেয় মন্ত্রীসভা।  নতুন এ আইনে বিতর্কিত ৫৭ ধারা বিলুপ্ত হলেও ৫৭ ধারার বিষয়টি নতুন মোড়কে ৩২ ধারায় প্রতিস্থাপন করা নিয়ে দেখা দিয়েছে বিতর্ক। 

বিতর্কিত এ ধারায় বলা হয়েছে, সরকারি,আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে বেআইনিভাবে প্রবেশ করে তথ্য উপাত্ত ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে গোপনে রেকর্ড করা গুপ্তচরবৃত্তির অপরাধ।  যার শাস্তি ১৪ বছরের কারাদণ্ড ও ২০ লাখ টাকা জরিমানা। 

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানান, ৫৭ ধারার অপপ্রয়োগ বন্ধ করতেই ৩২ ধারা। সাংবাদিকতার সাথে এ ধারা এবং আইনটির কোন সম্পর্ক নেই। মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি। 

আইনমন্ত্রী বলেন, 'বাক স্বাধীনতা হরণ করার চেষ্টাও করা হয়নি এবং এই আইনে কারও বাক স্বাধীনতা হরণ হয় নাই।  যদি ছাপিয়ে দেন যে, কেউ চুরি করছে।  সেটা অপরাধ হতে পারে না।  কোনো বইতে নাই, সেটা অপরাধ।  তাহলে কম্পিউটারের মধ্যে থাকলেও কোন বেআইনি কাজের কথা আপনি যদি প্রকাশ করেন তাহলে সেটা অপরাধ হতে পারে না, কোন আইনে অপরাধ না। '

যদিও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৩২ ধারা নিয়ে ভিন্ন ভিন্নমত দিয়েছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।  সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদের মতে, এ ধারা নিয়ে সাংবাদিকদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। 

তিনি বলেন, 'এই ধারায় সাংবাদিক কিংবা মিডিয়ার উদ্বেগের কোনো প্রশ্নই নাই।  আপনারাও নিশ্চয়ই চাইবেন না যে সরকারের কোনো গোপনীয় বিষয় আপনি নিয়ে সেটা প্রকাশ করে দেবেন।  যাতে করে রাষ্ট্রের ক্ষতি হবে। '

আর সিনিয়র আইনজীবী ডক্টর শাহদীন মালিকের মতে, এ ধারা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ করবে। 

তিনি বলেন, '৩২ ধারার ফলে অনুসন্ধানী রিপোর্ট বন্ধ হয়ে যাবে।  আর অনুসন্ধানী রিপোর্ট বন্ধ হয়ে যাওয়া মানে মিডিয়া বা গণমাধ্যম তার প্রধান করাটা করা থেকে বিরত থাকবে এবং সরকার ও আধাসরকারীর যে কথাগুলো বলছে তারা জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে উঠে যাবে। '

চলতি অধিবেশনেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাশের জন্য সংসদ তোলার কথা রয়েছে। 


keya