২:০০ পিএম, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯, রোববার | | ১০ রবিউস সানি ১৪৪১




৪০বছর ধরে ভাসমান সেলুন দিয়ে জনসেবায় শ্রীপুরের আছমত আলী

১১ নভেম্বর ২০১৯, ১০:১৪ এএম | নকিব


আলফাজ সরকার আকাশ শ্রীপুর(গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ কোনদিন সাতখামাইর বাজার, কোনদিন বরমী,আবার কোনদিন টেংরা বাজারে নিয়মিত থাকেন তিনি । 

বাজার ছাড়াও কেনদিন চার রাস্তার মোরে কিংবা আঞ্চলিক সড়কের পাশে অথবা ফুটপাতে পাটের বস্তা দিয়ে বানানো চটের বিছানায় পিঁড়িতে খদ্দেরকে বসিয়ে চুল কাটা বা শেভ করিয়ে ৪০ বছর ধরে মানুষের সেবা দিয়ে আসছেন গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার আছমত আলী (৬৫)। 

১০ নভেম্বর রবিবার দুপুরে উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের ছাতিরবাজার এলাকায় কথা হয় তার সাথে। 

মোঃ আছমত আলী (৬৫) উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের গোদারচালা গ্রামের মৃত আঃ সোবহানের ছেলে।  

কাজের ফাঁকে ফাঁকে জীবন নামের গল্পের কিছুটা শুনিয়ে গেলেন তিনি । 

জীবন যুদ্ধের বর্ণনায় তিনি জানান, তখনো ছাতিরবাজার জমে উঠেনি।  রাস্তার উত্তর পাশে বসে তিনি তার ভাসমান সেলুনের কার্যক্রম শুরু করেছিলেন সেই ৪০ বছর আগে।  সেকালে চুল কেটে প্রথমে মুঠোচাল থেকে অাধা পয়সা এরপর ১পয়সা পাওয়া যেতো।  এখনো কোনদিন ১০০,২০০ বা সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা পাওয়া যায়।  এমনও দিন যায়, কোনো খদ্দেরই পাওয়া যায় না বলে জানান আছমত আলী ।   

সরকারের কাছে সহযোগীতা কামনা করে তিনি বলেন, এখন তো বয়সের ভারে ততোটা শারীরিক শক্তি পাই না।  তাই বয়স্ক ভাতার ব্যবস্থা করা হলে বাকি জীবনে কিছুটা হলেও আরাম পাওয়া যেতো। 

অসচ্ছল ভাতাভোগীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে আছমত আলীর উপযুক্ততা সম্পর্কে জানতে চাইলে তেলিহাটি ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড সদস্য হাসান হাফিজুর রহমান দীপক জানান,  আছমত আলী সহয়তার জন্য কখনো ইউনিয়ন পরিষদে আসেনি।  খোঁজ নিয়ে তার জন্য কিছু একটা করা হবে বলে জানান তিনি।  

শ্রীপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মনজুরুল হক জানান, স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্যদের দেয়া তালিকায় আছমত আলীর নাম আসলে অবশ্যই ভাতার আওতায় আনা হবে।  

শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ শামছুল আরেফিন জানান, বার্ধক্য ও হতদরিদ্র হওয়ার পরও আছমত আলী কাজের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করেন যা অন্যান্যদের জন্য অনুকরণীয়।  উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার সাথে কথা বলে তাকে পরবর্তী ভাতাভোগীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।