১:২৩ পিএম, ১১ ডিসেম্বর ২০১৭, সোমবার | | ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

South Asian College

৬ই ডিসেম্বর আখাউড়া হানাদার মুক্ত দিবস উদযাপিত

০৬ ডিসেম্বর ২০১৭, ০৫:৫৩ পিএম | সাদি


আশরাফুল মামুন, আখাউড়া (ব্রাক্ষণবাড়িয়া) প্রতিনিধি: পুস্পস্তবক অর্পন, আনন্দ শোভাযাত্রা, জাতীয় পতাকা উত্তোলন, আলোচনাসভা সহ নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আখাউড়ায় বুধবার মুক্ত দিবস পালিত হয়েছে। 

এ উপলক্ষে সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হয়।  আনন্দ শোভাযাত্রাটি পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।  আনন্দ শোভা যাত্রায় উপজেলা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, উপজেলা আওয়ামীলীগ,মু ক্তিযোদ্ধা সংসদ, আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, ব্যবসায়ী, শিক্ষক, ছাত্র, সাংস্কৃতিক সংগঠন, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার লোকজন অংশ নেন। 

এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. শামছুজ্জামান, পৌরসভা মেয়র মো. তাকজিল খলিফা কাজল, আখাউড়া থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি তদন্ত) মো. আরিফুল আমিন, উপজেলা আওয়ামীলীগের আহবায়ক অধ্যক্ষ জয়নাল আবেদীন, যুগ্ম আহবায়ক মো. আবুল কাশেম, মো. মনির হোসেন বাবুল, মো. সেলিম ভূইয়া, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. আবু সাইদ ভূইয়া, মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ জামশেদ শাহ, মো. রফিকুল ইসলাম খাদেম, সমাজ সেবক এসএম শাহজাদা খাদেম, আমরা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান উপজেলা শাখার সভাপতি মো. আনিসুজ্জামান আনিস,সদস্য সচিব সালাহউদ্দিন সুমন,

উপজেলা যুবলীগ নেতা আব্দুল মমিন বাবুল, আখাউড়া প্রেস ক্লাব সাধারণ সম্পাদক কাজী হান্নান খাদেম, পাক্ষিক খবরের খোঁজে পত্রিকার সম্পাদক বিশ্বজিৎপাল বাবু, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. মাহতাব মিয়া, উপজেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক মো. শরীফুল ইসলাম ও সহ - সভাপতি শামিম মোল্লা প্রমূখ। 

শোভাযাত্রা শেষে আখাউড়া পৌষ্ট অফিসের সামনে অস্থায়ীভাবে নির্মিত মঞ্চে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।  জাতীয় পতাকা উত্তোলন শেষে একই স্থানে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। 

আমরা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংগঠনের আহবায়ক আনিছুজ্জামানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ শামছুজ্জামান, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. আবু সাইয়িদ মিয়া, মুক্তিযোদ্ধা মো. রফিকুল হক খাদেম (কানু), সৈয়দ জামসেদ শাহ্, উপজেলা আওয়ামীলীগের আহবায়ক অধ্যক্ষ মো. জয়নাল আবেদীন, ওসি (তদন্ত) আরিফুল আমিন প্রমুখ। 

এর আগে উপজেলা স্মৃতি সৌধে পুস্পস্তবক অর্পন করা হয়।  মুক্ত দিবস উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আখাউড়া পৌরসভা ও আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান উপজেলা শাখার সহযোগিতায় এ অনুষ্ঠান করা হয়।  পরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। 

১৯৭১ সালে এই দিনে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর কবল থেকে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে আখাউড়া মুক্ত হয়।  বীরমুক্তিযোদ্ধারা অসীম সাহসে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীকে পরজিত করে স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলন করেন পৌর শহরের সড়ক বাজার পোষ্ট অফিসের সামনে।  ২৫ মার্চ রাতে পাক বাহিনী ঢাকায় আক্রমন করলে সে দিন থেকেই সারা বাংলাদেশে পাক বাহিনীর সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে।  স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতের ত্রিপুরা ঘেষা আখাউড়া ছিল পূর্বাঞ্চলীয় প্রবেশদার ৭১ রনাঙ্গনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জনপদ ছিল।  এ যুদ্ধে এলাকার মানুষদের অবদান সবচাইতে বেশী ছিল। 

১৯৭১ সালে ৭ মার্চ জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষনের পর থেকে আখাউড়া উপজেলার সর্বস্তরের জনগন মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন।  মুক্তিযোদ্ধ পরিচালনার জন্য দেশ প্রেমিক, বুদ্ধিজীবি, ছাত্র, যুবক, শ্রমিকনেতা কর্মীসহ সর্বস্তরের জনগনের উপস্থিতিতে আখাউড়ায় গঠন করা হয় সর্ব দলীয় সংগ্রাম পরিষদ।  ওই পরিষদের নেতৃত্বে ছিলেন কাজী ওয়াহেদুর রহমান লিলু মিয়া। 

এস ফোর্সের অধিনায়ক লে: কর্নেল সফিউল্লার তত্বাবধানে এ যুদ্ধ চলতে থাকে।  ৩০ নভেম্বর ও ১লা ডিসেম্বর আখাউড়া উত্তরে সীমান্তবর্তী আজমপুর, রাজাপুর, সিঙ্গারবিল, মিরাশানি এলাকায় আধুনিক অস্ত্রে সস্ত্রে পাক বাহিনীর সঙ্গে মুক্তি বাহিনীর যুদ্ধ হয়।  টানা ৩ দিন চলে এ যুদ্ধ।  এ যুদ্ধ অন্তত ৩৫ পাক সেনা নিহত হয়।  বন্দী করা হয় ৫ জনকে।  মুক্তি বাহিনীর নায়েক সুবেদার আশরাফ আলী খান এ সময় শহীদ হন।  আহত হয় অনেক মুক্তিযোদ্ধা।  মুক্তিযোদ্ধাদের মারমুখি আক্রমনে পাক বাহিনী দাড়াতে পাড়েনি।  তারা তখন পিছু হটতে লাগলেন। 

৩রা ডিসেম্বর রাতে মুক্তিবাহিনীরা আজমপুর অবস্থান নিলে সেখানেও অভিরাম যুদ্ধ হয়।  ওই যুদ্ধে পাক হানাদার বাহিনীর ১১জন সৈন্য নিতহ হয়।  মুক্তিবাহিনীর ২ সিপাহী ও ১ নায়েক সুবেদার শহীদ হন।  ৪ও ৫ ডিসেম্বর অভিরাম যুদ্ধে পাক হানাদার বাহিনীর প্রায় ১৭০ জন সৈন্য নিতহ হয়।  তখন গোটা আখাউড়া এলাকা মুক্তিবাহিনীর দখলে চলে আসে।  অভিরাম যুদ্ধের পর ৬ ই ডিসেম্বর আখাউড়া পুরোপুরি হানাদার মুক্ত হয়।