৫:১৬ পিএম, ২৬ মে ২০১৯, রোববার | | ২১ রমজান ১৪৪০




৬ ডিসেম্বর স্বাধীনতার স্বাদ পায় হবিগঞ্জবাসী

০৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ১১:১৮ এএম | জাহিদ


মিজানুর রহমান সোহেল, হবিগঞ্জ : আজ ৬ ডিসেম্বর।  হবিগঞ্জ মুক্ত দিবস।  ১৯৭১ সালের এই দিনেই হবিগঞ্জবাসী স্বাধীনতার স্বাদ পেয়েছিলেন।  এ দিনে দীর্ঘ ৯ মাসের অবরুদ্ধ পরিবেশের অবসান হয়েছিল।  শীতের সকালের স‚র্যের রক্তিম আভা ছড়িয়ে পড়েছিল পাকিস্তানি হানাদার মুক্ত আলো-বাতাসে।  আনন্দে উৎফুল­ হয়ে উঠেছিল হবিগঞ্জবাসী।  এছাড়া একই দিন মুক্ত হয় জেলার চুনারুঘাট ও নবীগঞ্জ। 

১৯৭১ সালে ৬ ডিসেম্বর স‚র্যাস্তের পর হবিগঞ্জ শহরে নেমে আসে ভ‚তুড়ে নিস্তব্ধতা।  স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে মুক্তিযোদ্ধাদের বিজয়ের খবর শোনার জন্য শহরবাসী রেডিওতে কান পেতেছিলেন।  এর কদিন আগেই বিদ্যুৎকেন্দ্র, শায়েস্তানগর ও উমেদনগরে বীর মুক্তিযোদ্ধারা প্রচণ্ড গুলিবর্ষণের মাধ্যমে তাদের আগমনবার্তা ঘোষণা করেছিলেন। 

খোয়াই নদীর ওপার থেকে মুক্তিযোদ্ধারা গুলি ছুড়তে থাকেন।  শায়েস্তানগর এলাকায় বর্তমানের টেলিফোন এক্সচেঞ্জের স্থানে পাকিস্তানি মিলিশিয়াদের একটি ক্যাম্প ছিল।  তবে তারা আগের দিনই শহর ছেড়ে চলে যায়। 

পাকিস্তানিদের দালাল অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আব্দুল­াহর শায়েস্তানগরের বাসভবনে একা হামলা চালাতে গিয়ে রাজাকারের গুলিতে নিহত হন মুক্তিযোদ্ধা সাবেক সেনাসদস্য ন‚রুল ইসলাম মাসুদ।  তিনি শহীদ হওয়ার পর মুক্তিযোদ্ধারা শহরে আর কোনো প্রতিরোধের সম্মুখীন হননি।  রাজাকার, আলবদর আর সামস বাহিনীর সদস্যরা মুক্তিযোদ্ধাদের তীব্র হামলার মুখে রাতেই শহর ছেড়ে পালিয়ে যায়। 

৬ ডিসেম্বরে শীতের সকালে রক্তিম স‚র্য তার তীক্ষ্ণতা দিয়ে বিজয়ী মুক্তিযোদ্ধাদের আরও সতেজ করে তোলে।  শহরবাসী বাংলার দামাল মুক্তিযোদ্ধাদের অভিবাদন জানায়।  তারা জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে মুক্ত হবিগঞ্জ শহরের রাস্তায় নেমে এসে বিজয়ের উল্লাস প্রকাশ করে।  এ ছিল এক বিস্ময়কর অনুভ‚তি। 

মুক্ত হবিগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধাদের যে দলটি প্রথমে প্রবেশ করে তার নেতৃত্বে ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত ল্যান্স নায়েক আব্দুস শহীদ।  তার সঙ্গে আরও যে কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন তারা হলেন সদর উপজেলার বহুলা গ্রামের লতিফ, মশাজানের অবসরপ্রাপ্ত হাবিলদার আব্দুল কাইয়ুম, সুলতান মাহমুদপুরের মুহাম্মদ আজিম, সুলতানশীর আব্দুল মালেক, হবিগঞ্জ পৌর এলাকার সাবু মিয়া, রইছ আলী, উমেদনগরের শুকুর মিয়া, বাহুবলের হাবিব মিয়া, রাজিউড়ার আলফু মিয়াসহ ৩৫ জন। 

তারা সকাল ১০-১১ টার দিকে পইলের রাস্তা দিয়ে শহরে প্রবেশ করে।  এর আগে তাদের অবস্থান ছিল সাবাসপুর, বক্তারপুর ও সুয়াইয়া গ্রামে।  দলটি শহর প্রদক্ষিণ করে থানায় গিয়ে স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করেন।  পরে মুক্তিযোদ্ধাদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানায় হাজার হাজার জনগণ। 


keya