১২:৫৪ পিএম, ৩১ মার্চ ২০২০, মঙ্গলবার | | ৬ শা'বান ১৪৪১




৭ বছর বয়সে ঢাকা থেকে হারিয়ে যাওয়া মুক্তা পিতা মাতা ভাই বোনদের ফিরে পেতে চান

১৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ১০:৪৪ এএম | নকিব


মুহাঃ দেলোয়ার হোসাইন পিরোজপুরঃ ভাগ্যের নির্মম পরিহাস কখন যে কাকে কোথায় নিয়ে যায়, তা কেউ বলতে পারে না। 

তবুও জীবন চলে যায় বহমান নদীর মত ভাসতে ভাসতে মানুষ কোনো না কোন গন্তব্যে পৌঁছে যায়। 

আর এই গন্তব্য কারো জন্য হয় সুখের, আবার কারো জন্য দুঃখের।  এমনি এক দুঃখিনীর নাম মুক্তা বেগম। 

যে কোন সিনেমার গল্পকেও হার মানাবে যুবতী মুক্তা বেগমের বাস্তব জীবনের গল্প! মুক্তা হারিয়ে ফেলেছেন পিতা মাতাসহ তার স্বজনদের। 

এখন তার পিতা মাতা ভাই বোনদের ফিরে পেতে চান তিনি।  মুুক্তা বেগম এর বক্তব্য ঃ আমার বাড়ি কুমিল্লা, পিতার নাম আব্দুল বারেক, মায়ের নাম-সাহিদা বেগম, আমরা ৫ভাই বোন ছিলাম, আমি মেঝ, বড় বোনের নাম পারভীন, সেঝো বোন জান্নাতুল তার পর এক ভাই তার নাম সুজন, তার পর ছোট বোন নাম মিসু।  আমার বয়স যখন ৮ বছর তখন আমি ঢাকার বাড্ডা থেকে হারিয়ে যাই। 

তখন একলোক আমাকে আমার মা বাবার কাছে পৌছে দিবেন বলে নিয়ে যান ঢাকা গাজীপুর চৌরাস্তা এলাকার অজানা এক রাস্তার ভিতর দিয়ে একটি গ্রামে ।  সেখানে বসে তিনি আমার সাথে থাকা পিতার দেওয়া স্বার্ণের জিনিস নিয়ে চম্পট দেন। 

ওই জায়াগয় বসে আমি খুবই কান্নাকাটি করি।  তখন এক লোক সেখান থেকে আমাকে নিয়ে যান।  সে পরের দিন সকাল বেল আমার পিতা মাতাকে খুজে বেড় করবে বলে কিন্তু সে না খোজাখুজী করে তাদের বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করাতে আমাকে রেখে দেন।  আমি আমার মা বাবার কাছে যেতে চাইলে তারা বলেন তোমার মা, বাবাকে খুজে পাইনি।  এভাবে দিন কাটতে থাকে এক পর্যায় ২ বছর পর তাহারা একদিন অডিনের্স থেকে আসে টংগিতে। 

আমাকে তারা লেখা পড়ার কোন সুযোগ দিত না বাসার কার্জ কর্ম করাত তাই আমি লেখা পড়া জানিনা আমি বড় হয়ে গেছি।  এরকম করে অনেক বছর কেটে যায়।  তার পর একদিন ভান্ডারিয়া নিবাসী আউয়াল ফারজীর ছেলে মোঃ সোহাগ ফরাজীর দোকান থেকে পেঁয়াজ কিনতে গেলে তার সাথে সম্পর্ক হওয়ার এক পর্যায় তার সাথে পালিয়ে এসে বিবাহ বন্ধনে আবব্দ হই। 

এখন আমার দুই ছেলে ও স্বামী নিয়া সংসার করছি।  কিন্তু আমি আমার মা বাবা ভাই বোনদের পাওয়ার জন্য সব সব সময় বেকুল হয়ে কেঁদে ফিরি।  আমি তাদেরকে ফিরে পেতে চাই।  বাবা-মা ও ভাই বোনদের কথা মনে পড়ে।  মনে পড়লে আমার বড় কষ্ট হয়। 


keya