৫:১৬ পিএম, ২২ অক্টোবর ২০১৮, সোমবার | | ১১ সফর ১৪৪০


সুনামগঞ্জে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্ধি, কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি

১১ আগস্ট ২০১৭, ১০:২৮ পিএম | নকিব


হাবিব সরোয়ার আজাদ, সিলেটঃ ওপাড় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা তিন দিনের বৃষ্টিপাতের মুখে সুনামগঞ্জে শুক্রবার রাত থেকে বন্যা পরিস্থিরি সৃষ্টি হয়েছে।  এতে জেলার দু’উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্ধি হওয়ার পাশাপাশি ওপারের পাহাড়ি ঢলের পানিতে ভেসে গেছে ৫০ দোকানের কয়েক কোটি টাকার মালামাল। 

ভোক্তভোগীরা জানান, তাহিরপুরের সীমান্তনদী জাঁদুকাঁটা দিয়ে তীব্র পানির তোড়ে বাঁধ ভেঙ্গে শুক্রবার রাতে আনোয়ারপুর বাজারের কমপক্ষ্যে ৫০ দোকানপাঠ’র কয়েককোটি টাকার মালামাল ঢলের পানিতে ভেসে গেছে। ’ তাহিরপুর  ও বিশ্বম্ভরপুর এ দুটি উপজেলায় পাহাড়ী ঢলের মুখে অধিকাংশ পাকা সড়ক পানিতে ডুবে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় জেলা শহরের সাথে  পলাশ শরীফগঞ্জ লাউড়েরগড় ও সুনামগঞ্জ বিম্ভম্ভপুর তাহিরপুর সড়কে শুক্রবার সন্ধার পর থেকে চারচাকার যানবাহন সহ সব ধরণের যোগোযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ’

তাহিরপুরের উপজেলার বালিজুড়ি ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বাবুল মিয়া শুক্রবার রাতে  বললেন, বাজারের পুর্বপাশের পাঁকা সড়ক ও বাঁধ ভেঙ্গে জাঁদুকাঁটা নদীর প্রবল ঢলের পানিতে ছোট- বড় ৫০টি দোকানের মালামাল পানিতে ভেসে গিয়ে কমপক্ষ্যে কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। ’ আপাতত হতাহতের কথা বিবেচনায় নিয়ে নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার পথে ওই ৫০ দোকানের ব্যবসায়ী ও কর্মচারীরা দোকানকোটা ফেলে রেখে রাতে নিরাপদে সড়ে এসেছেন। ’

বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানিয়া সুলতানা জানান,  শুক্রবার উপজেলার ১১ টি গ্রামের কয়েক হাজার লোকজন পানিবন্ধি হয়ে পড়েছেন। ’

বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হারুন অর রশীদ জানান, গত তিন দিনের পাহাড়ি ঢল ও অবিরাম বৃষ্টির পানিতে এ উপজেলার প্রায় অর্ধলক্ষঅধিক লোকজন পানিবন্ধি হয়ে মানবেতর জীপন যাপন করছেন। ’

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড সুত্রে জানা গেছে, জেলার সুরমা নদীর পানি শুক্রবার সন্ধার পর থেকে বিপদসীমার ৫৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।  একই সাথে মেঘালয় পাহাড় থেকে অবিরাম বৃষ্টির সাথে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তাহিরপুরের সীমান্তনদী জাঁদুকাঁটা, পাটলাই, বাগলী ছড়া নদীর পানির বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার কারনে এ উপজেলার কমপেক্ষ্য সাত ইউনিয়নের ৫০ গ্রামের অর্ধলক্ষাধিক লোকজন পানিবন্ধি হয়ে পড়েছেন শুক্রবার বিকেল থেকে।  শনি-মাটিয়াইয়ান সহ ছোট বড় ২৩টি হাওরের পানি রাত সঘনিয়ে আসার সাথে সাথে হু হু কওে বাড়ছে।  উপজেলার বড়ছড়া, চারাগাঁও বাগলী ও সীমান্তনদী জাদুকাঁটা ঢলের পানির কারনে শ্রমিক শুণ্য হয়ে পড়েছে। ’

জানা গেছে, জেলা জুড়ে আকস্মিক পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিপাতের কারনে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা প্রশানক মো. সাবিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে জেলা দুর্য়োগ ব্যবস্থাপনা কমিটি করনীয় নির্ধারনে জরুরী বৈঠকে বসেছিলেন। ’