১১:২৮ এএম, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, শুক্রবার | | ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪০




গাইবান্ধায় প্রধান শিক্ষক হয়েও সহকারী শিক্ষক পদে বেতন উত্তোলন

২৯ অক্টোবর ২০১৭, ০৬:০৮ পিএম | নিশি


তোফায়েল হোসেন জাকির, গাইবান্ধা প্রতিনিধি : গাইবান্ধার এক শিক্ষক সহকারী শিক্ষকের পদ ছেড়ে দিয়ে প্রধান শিক্ষক হয়েও বিধি বর্হিভূত ভাবে সহকারী শিক্ষক পদের বেতন ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। 

এ গোঁমর ফাঁস হয়ে যাওয়ায় সুনিল কুমার গাঙ্গুলী নামের ওই প্রধান শিক্ষক অবশেষে বাধ্য হয়ে অবৈধপন্থায় উত্তোলনকৃত বেতন ভাতার অর্থ সরকারী কোষাগারে ফেরত দিয়েছেন বলে জানা গেছে।  ঘটনাটি জেলার নলডাঙ্গা উমেশ চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ে। 

রোববার সংশ্লিষ্ট তথ্যসুত্রে জানা যায়, ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক থেকে সুনিল কুমার গাঙ্গুলী পদোন্নতি নিয়ে প্রায় আড়াই বছর আগে একই বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্ত হয়ে যথারীতি যোগদান করেন। 

কিন্তু মামলা মোকাদ্দমাসহ নানাবিধ কারণে দীর্ঘদিন তিনি প্রধান শিক্ষকের বেতন ভাতা না পাওয়ায় ছলচাতুরীর আশ্রয় নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চোখে ফাঁকি দিয়ে সুকৌশলে সহকারী শিক্ষকের পদ আঁকড়ে ধরে থেকে নির্বিঘ্নে বেতন ভাতা উত্তোলন করে আসছিলেন। 

সম্পতি প্রধান শিক্ষক সুনিল কুমার গাঙ্গুলীর এহেন দূর্নীতির চিত্র সংশ্লিষ্ট বড় কর্তারাসহ অনেকেই জেনে ফেলেন।  এ পরিস্থিতিতে কর্তৃপক্ষ এ অর্থ জরুরী ভিত্তিতে সরকারের তহবিলে ফেরত দেয়ার জন্য মৌখিকভাবে তাকে নির্দেশে দেন।  এতে তিনি অনেকটা যেন বে-কায়দায় পড়ে যান। 

এমতবস্থায় বেগতিক ভেবে প্রধান শিক্ষক সুনিল কুমার গাঙ্গুলী তড়িঘড়ি করে অবৈধভাবে উত্তোলনকৃত সমুদয় বেতন ভাতাদি ট্রেজারী চালানের মাধ্যমে সাদুল্যাপুর সোনালী ব্যাংকে ফেরত দেন বলে ব্যাংক সুত্রে জানা যায়।  এভাবে জালজালিয়াতি করে অবৈধপন্থায় বেতন ভাতা উত্তোলন ও তা ফেরত দিলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অদ্যবধি প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি। 

এদিকে এ অর্থ ফেরত দেয়ার পর তিনি প্রধান শিক্ষকের বেতন ভাতার (এমপিও ) জন্য দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন।  কিন্তু প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ কালীন সময়ে সুনিল কুমার গাঙ্গুলীর ওই নিয়োগ অবৈধ ও যোগসাজসী দাবী করে প্রতিপক্ষ প্রার্থীরা সাদুল্যাপুর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে একটি মামলা রুজু করেন। 

যাহার নং ৫১/২০১৫ অন্য।  মামলাটি এখন পর্যন্ত চলমান থাকলেও সুচতুর প্রধান শিক্ষক এরই মধ্যে মামলার সকল তথ্যাদি গোপন করে অত্যান্ত চুপিসারে সম্প্রতি গত জুন/২০১৭ মাসে তিনি এমপিও ভূক্ত হন বলে জানা গেছে । 

এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক সুনিল কুমার গাঙ্গুলীর নিকট জানতে চাওয়া হলে এ ঘটনাটি অস্বীকার করেন তিন।