৮:৩৬ এএম, ১৪ নভেম্বর ২০১৮, বুধবার | | ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪০


খাগড়াছড়ির রামগড় ও লক্ষীছড়িতে পৃথক পাহাড় ধ্বস, ৩ শিশুর মৃত্যু।

১৮ জুন ২০১৭, ০৬:০৯ এএম | জাহিদ


এম. সাইফুর রহমান, খাগড়াছড়ি : খাগড়াছড়ির জেলার রামগড় ও লক্ষীছড়ি উপজেলায় পৃথক পাহাড় ধসের ঘটনায় তিন শিশু নিহত ও আরো ২জন আহত হয়েছে।  এই ঘটনায় পাহাড়ের মানুষের মধ্যে নতুন করে আতংক দেখা দিয়েছে। রাতভর প্রবল বৃষ্টির কারণে জেলার রামগড় উপজেলার পাতাছড়া ইউনিয়নের বুদংপাড়া গ্রামে রবিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে পাহাড় ধসে বাড়ির ওপর আছড়ে পড়লে দিনমজুর মো: মোস্তফা মিয়ার দুই ছেলে মাটি চাপা পড়ে। 

পরে প্রায় একঘন্টার চেষ্টার পর স্থানীয়রা মাটি অপসারণ করে শিশু দুটির লাশ উদ্ধার করে।  সহোদর দুই শিশু হলো নুরনবী (১৪) ও নুর হোসেন (১০)।  এ ঘটনায় ২টি গরু, ৩টি ছাগলসহ বেশ কিছু মুরগি ছাপা পড়ে আছে।  স্থানীয়রা, পুলিশ, সেনাবাহিনী ও রেড ক্রিসেন্টের কর্মীরা উদ্ধার অভিযানে অংশ নেন।  থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়ার কারনে উদ্ধার কাজে বিগ্ন হচ্ছে।  তবে অভিযান অব্যাহত রয়েছে রয়েছে বলে জানালেন  রামগড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ শরিফুল ইসলাম। 

এদিকে জেলার লক্ষীছড়ি উপজেলা সদরের যতীন্দ্র কার্বারি পাড়ায় পাহাড় ধসে নিকন চাকমা (৯) নামের আরেক শিশু নিহত হয়েছে।  সকাল ৭টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।  ওই ঘটনায় আরো ২জন আহত হয়েছে বলে স্থানীয় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সুপার জ্যোতি চাকমা জানিয়েছেন।  এর আগে গত মঙ্গলবার লক্ষীছড়ি উপজেলার বর্মাছড়ি এলঅকায় পাহাড় ধসে একজনের মৃত্যু হয়েছে।  ছাড়াও টানা বৃষ্টির কারণে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ছোট খাটো পাহাড় ধসের খবর পাওয়া গেছে। 

রামগড় উপজেলা পাতাছড়া ইউনিয়নে পাহাড় ধ্বসে অন্তত ৮টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভেঙ্গে মাটি ছাপা পড়ে আছে। 
প্রবল বর্ষনে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে জেলার লক্ষীছড়ি ও গুইমারা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। গুইমারা উপজেলার হাফছড়ির ইউনিয়নে তলিয়ে গেছে ঘর-বাড়ি, ফসলি জমি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।  এ ইউনিয়নের জালিয়াপাড়া-সিন্ধুকছড়ি সড়কের বেইলি সেতুর ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় আপাতত যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। 

পানিবন্ধী হয়ে পড়েছে প্রায় অর্ধশত পরিবার।   জেলার লক্ষীছড়ি উপজেলা সদরের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হালদা নদীর দু‘কুল ভাসিয়ে পানিতে ডুবে গেছে বহু ঘরবাড়ি।  ইতিমধ্যে উপজেলা সদরের, বেলতলী পাড়া, হাইস্কুলের সংলগ্ন এলাকা, উপজেলা পরিষদ ভবন সংলগ্ন এলাকা, লক্ষীছড়তিে গুচ্ছগ্রামের কিছু অংশ, হাতিয়াছড়া গ্রাম সংলগ্ন এলাকায় পানি উঠেছে।  ফলে দুর্ভোগে পড়েছে স্থানীয়রা।  

অন্যদিকে গত দু’ সপ্তাহ ধরে টানা বর্ষণে খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার বিভিন্ন পাহাড়ে ভাঙ্গন দেখা দেয়ায় প্রশাসনের তাৎক্ষনিক ব্যবস্থায় দু’টি আশ্রয় কেন্দ্রে প্রায় ২৫ পরিবার আশ্রয় নিয়েছে।  আশ্রিতদের মাঝে উপজেলা প্রশাসন চাউল ও নগদ অর্থ প্রদানের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে একটি কেন্দ্রের ৯ পবিরাবের ৩০জনের মাঝে কাপড় বিতরণ করা হয়েছে।  শুক্রবার সকাল থেকে উপজেলা প্রশাসন মাঠে নেমেছে। 

উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ে পাদদেশে বসবাসরত নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে দ্রুত সরে যেতে প্রশাসনের মাইকিংয়ের পাশাপাশি নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতায় বিকাল নাগাদ দু’ছড়ি পাড়া ও মুসলিমপাড়ার দু’টি আশ্রয় কেন্দ্রে ২৫ পরিবার আশ্রয় নিলেও দু’ছড়ি পাড়ার আশ্রয় কেন্দ্রে থেকে ইতোমধ্যে অনেকে নিজ নিজ বাড়ীতে ফিরে গেছে।  ফলে সদরের মুসলিমপাড়া কেন্দ্রে আশ্রিত ৯ পরিবারের ৩০ জনের মাঝে শনিবার বিকাল ৩টায় সিন্দুকছড়ি জোনের উদ্যোগে কাপড় বিতরণ করা হয়। 

বিতরণকালে সিন্দুকছড়ি জোনের ক্যাপ্টেন মো. তৌহিদুল ইসলাম, ইউপি চেয়ারম্যান মো. শফিকুর রহমান ফারুক, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আবদুল জব্বার, ইউপি সদস্য মো. কামাল হোসেন ও ইউপি সচিব মো. মোশারফ হোসেন মজনুসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। 


keya