৩:০২ এএম, ১০ আগস্ট ২০২২, বুধবার | | ১২ মুহররম ১৪৪৪




সুনামগঞ্জে হাওরে বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম

৩০ নভেম্বর -০০০১, ১২:০০ এএম | মোহাম্মদ হেলাল


হাবিব সরোয়ার আজাদ, সুনামগঞ্জ : সুনামগঞ্জে কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) প্রকল্পের আওতায় হাওরের বোরো ফসল রক্ষায় বাঁধ নির্মাণের কাজ প্রতি বছরের ন্যায় এবারো নির্দিষ্ট সময়ে শুরু হয়নি।  জেলার তাহিরপুর সহ কোন হাওরেই বাঁধ নির্মাণ ও মেরামতের কাজ শুরু করা  হয়নি। ’ এ অবস্থায় জেলা কৃষকরা আবারো বিলম্বে তরিগড়ি করে নামকাওয়াস্তে বাঁধের কাজ করে  কয়েক কোটি টাকা লুপাটের আশংকা করছেন।   প্রায় জেলার সব কটি হাওওে ১০ কোটি ৭২ লাখ টাকার বাঁধ মেরামত ও সংস্কারের বরাদ্দ দেয়া হলেও শনিবার পর্য্যন্ত জেলার কোন হাওরেই পিআইসর লোকজন এক কোদাল মাটিও ফেলেননি। ’
জানা গেছে, নিয়ম অনুযায়ী প্রতি বছরের ১৫ ডিসেম্বর থেকে বাঁধের কাজ শুরু করার থাকলেও কবে কাজ শুরু হবে তা জানেন না হাওরের উপকারভোগী কৃষক ও স্থানীয় এলাকাবাসী।  তবে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের দাবি খুব শীঘ্রই বাঁধের কাজ শুরু করা হবে। 
চলতি বোরো মৌসুমে জেলার মোট ৩৭টি বড় হাওরসহ মোট ৪২টি  হাওরে ২৩০ টি পিআইসি (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি)’র মাধ্যমে বাঁধ নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করবে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড।  এবারের মোট বরাদ্দ ধরা হয়েছে ১০ কোটি ৭২ লাখ টাকা। 
জেলার তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা, মধ্যনগর, দিরাই,শাল্লা উপজেলায় শনিবার  বিভিন্ন হাওর পাড়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে কোন বাঁধেই কাজ আরম্ভ হয়নি। 
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে হাওরে বোরো ধান রোপনের কাজ শুরু করছেন কৃষকরা।  ধর্মপাশা উপজেলার জয়শ্রী গ্রামের কৃষক এখলাছ মিয়া জানান, তাদের এলাকার বৃহৎ তিনটি হাওর ধারাম, সোনামড়ল ও কাইমজার হাওরের বাঁধের কাজ শুরু হয়নি।  পিআইসির লোকজন বলছেন কাজ শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ’ তিনি আরো বলেন,‘ কোন বছরই এই সময় হাওরের বাঁধের কাজ শুরু হয় না।  প্রতি বছরই ফাল্গন-চৈত্র মাসে বাঁধের কাজ শুরু হয়।  বাঁধ নিয়ে সাধারণ কৃষকদরে কথা শুনেন না কেউ। ’
তাহিরপুর উপজেলার শনির হাওর পাড়ের রামজীবনপুর গ্রামের কৃষক আলী আহমদ মুরাদ বলেন,‘ ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও মেরামতের কোন প্রস্ততিই নেই পাউবো ও পিআইসি কমিটির।  এবিষয়ে পিআইসির সভাপতিকে জিজ্ঞেস করলে অস্পষ্ট কথা বলেন।  প্রতি বছরের ন্যায় এবারো দেরীতে বাঁধ নির্মাণ হবে।  ফলে গেল বছরের মত এবারো ঝিঁকিতে পড়বে হাওরের বোরো ফসল। ’
মধ্যনগর রুপ নগর গ্রামের কৃষক সবুজ আলম, গোলগাঁও’র আলী হোসেন পলাশ  বলেন,‘এখন পর্যন্ত ধর্মপাশা ও মধ্যনগর এলাকার কোন হাওরেই বাঁধের কাজ শুরু হয়নি।  পাউবো ও পিআইসিদের কোন প্রস্তুতি লক্ষ্য করা যায়নি। ’
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের দিরাই উপ বিভাগের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী খলিলুর রহমান বলেন,‘ দিরাই-শাল্লার সংসদ সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এমপি অসুস্থ থাকায় উনার কাছ থেকে কমিটির সদস্যদের নাম পেতে একটু দেরী হচ্ছে।  আমি ঢাকায় গিয়ে উনার সাথে দেখা করে কমিটিতে সদস্যদের নাম দেয়ার অনুরোধ জানিয়েছি।  পিআইসি  গঠন করতে বিলম্ব হওয়ায় কাজ শুরু করতে পারছি না। 
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী সুনামগঞ্জ পওর উপ বিভাগ ১ ও ২ এর উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী রনজন দাস বলেন,‘আমাদের পিআইসি গঠনের কাজ শেষ। 
 এদিকে তাহিরপুরের কাউকান্দি মাটিয়াইন হাওর পাড়ের কৃষক শামসুল হক, বড়দলের ইলিয়াস হোসেন, জামালগঞ্জের ফেনারবাকের কৃষক আলা উদ্দিন, শাল্লার হরিমণ দাস আংখা প্রকাশ কওে বলেন, বিগত বছরেরন ন্যায় চলতি মৌসুমেও ফসল তোলা আগ মুহুর্তেই বাঁধের নামমকাওয়াওস্তে কাজ হবে আর লুপাট হবে কয়েককোটি টাকা, ঝকিতে পড়বে হয়ত সব কয়টি হাওরে একমাত্র বোরো ফসল। ’
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আফছর উদ্দিন জানান, খুব শ্রীঘ্রই হাওরে বেরীবাঁধ মেরামত ও নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে। 

সম্পাদনায় : রফিকুল ইসলাম-১৩, এসএনএন২৪.কম

 


keya