৪:৩৪ পিএম, ২১ আগস্ট ২০১৮, মঙ্গলবার | | ৯ জ্বিলহজ্জ ১৪৩৯


রাজবাড়ীর কালুখালিতে বিরোধ পূন্য জমির উপর ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে জবরদখল

১০ এপ্রিল ২০১৮, ০৫:৪৮ পিএম | সাদি


এম,মনিরুজ্জামান, রাজবাড়ী  প্রতিনিধি : রাজবাড়ীর কালুখালি ডিগ্রী কলেজের পাশে রতনদিয়া মৌজায় বিরোধ পূন্য জমির উপর ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে নির্মান কাজ করে দীর্ঘ দিনের দখলী সম্প্রতি জবরদখল করার অভিযোগ উঠেছে। 

মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় রাহেলা খাতুনের জমির উপর থাকা ঘর ভেঙ্গে ফজলুল হক গংরা ওই টিন দিয়েই পুরো ২৯শতক জমির চার পাশে বেড়া দিয়ে ঘিরে দখলে নিয়েছে।  তার লোকজন সেখানে কাজ করছে।  এদিকে রাজবাড়ীর বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে রাহেলা খাতুন বাদী হয়ে ১৪৪ ধারায় মামলা দায়ের করেছে তার জমিতে অবৈধ দখরদার মোঃ ফজলুল হকসহ তার ভাই ও ছেলেসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে। 

সেই আবেদনে রাজবাড়ীর বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত ২১/০৩/১৮ তারিখে শান্তি শৃংখলা রক্ষার দাবিতে উভয় পক্ষকে বিরোধপূর্ন ওই মিতে কোন পক্ষকে নির্মান কাজ না করার জন্য ২৬৯নং স্বরকে নির্দেশ দিয়ে ১৪৪ধারা জারি করে কালুখালি থানাকে সে আদেশ তামিল করা জন্য বলেছে। ১৪৪ ধারার মিসপি নং-১০৪/২০১৮। 

মামলার বাদী রাহেলা খাতুন সাংবাদিকদের জানান, রতনদিয়া মৌজার এস এ ৪৮৯নং খতিয়ান এসএ ৪৬১/৫৩০ নং দাগের ১২শতক জমি ২০০৪সােেল রেজিষ্ট্রিকৃত সাফ কবলা মুলে শ্রী গোপাল চন্দ্র পালিত এর কাছ থেকে খরিদ করেন এবং তৎসংলগ্ন পানি উন্নয়ন বোর্ডের এস এ ৭৩নং খতিয়ানের অধীন ৪৬১ নং দাগের ১৭শতক জমি লিজ গ্রহন করে দীর্ঘ  দিন যাবৎ সে ভোগ দখল করে আসছে।  তিনি ২০০৫ সালে তার খরিদ করা ১২ শতক জমি সরকারীভাবে মিউটিশনও করায়েছেন।  যার নং  অঈ[খ]-১ঢ-চ-১-২৫-২০০৪-০৫] ।  ওই  জমিতে ২টি চার চালা ও ১টি ছাপড়া ঘর এবং মেগুনিসহ বিভিন্ন কাঠের গাছ রোপন করে দখলে রেকেছি। 

এর একটি ঘর ফজলুল হকরা ভেঙ্গে সেই টিন দিয়েই চার সীমানায় বেড়া দিয়েছে।  কিন্তু একই এলাকার ফজলুল হক ও তার ও ছেলেরা কৌশলে হঠাৎ বিএস রেকর্ডের মাধ্যমে ওই ১২ শতক জমি তাদের খরিদ করা আছে বলে দখল নিতে আসলে বিরোধ সৃষ্টি হয়।  পরে রাহেলা খাতুন ওই জমি নিয়ে রাজবাড়ীর বিজ্ঞ ২য় যুগ্ন জেলা জজ আদালতে দেওয়ানী মামলা নং ৩২/১৮ দাখিল করেছেন। 

মামলার বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।  তারপরও ফজলুল হকগংরা জমির জবরদখল করতে বিভিন্ন সময়ে হুমকি দেয়ায় বাধ্য হয়ে রাহেলা খাতুন আদালতে ১৪৪ধার জারির আবেদন করেন।  তাতেও তার জমি বেদখল হয়ে যাওয়ায় মহিলা হিসেবে সে এখন নিরুপায় হয়ে গেছেন।  রাহেলার স্বামী মোঃ শহিদুজ্জামান দীর্ঘদিন কুয়েত প্রবাসী। 

সে বৃদ্ব শ্বশুড়রের কাছে বসবাস করছেন।  এ সুযোগে কালুখালির আওয়ামী লীগ নামধারী ফজলুল হকগংরা ৬এপ্রিল শুক্রবার ভোরে তার দখলী জমির জবর দখল করে নিয়েছে।  রাহেলা খাতুন এতে বাঁধা দিলে ফজলুল হক তার প্রান নাশের হুমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেয়। তখন রাহেলা কালুখালি থানা গেলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে পুলিশ দেখে ফজলুল হকের লোকজন সরে যায়।  পরে পুলিশ চলে গেলে আবার ফজলুল হকের লোকজন টিনের বেড়া দিয়ে পুরো জায়গা ঘিরে ফেলে। 

এ বিষয়ে কালুখালি খানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আমিনুল ইসলাম বলেন, ১৪৪ ধারার আদেশ এর একটি কপি আমি পেয়েছি।  যার জন্য ওই বিরোধপুর্ন জমিতে ১৪৪ধরা রক্ষাতে পুলিশ সেখানে গেলে ফজলুল হক ও তার ভাইরা ওসিকে জানায়, বিরোধপূর্ন ও আদালতে ১২শতক জমিতে ১৪৪ধার দেয়া আছে, তারা সে জমিতে কোন কাজ করবে না।  ফজলুল হক শুধু পানি উন্নয়ন বোর্ডের পত্তন নেয়া জমি ঘিরে কাজ করবে।  তাতে শান্তি ভঙ্গ হবে না।  ফলে পুলিশ ওই জমিতে উভয় পক্ষকে কাজ করতে আদালতের নিষেধাজ্ঞা মেনে চলতে পরামর্শ দিয়ে চলে আসে।