৪:১৯ পিএম, ২৪ অক্টোবর ২০২১, রোববার | | ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩




রায়গঞ্জে এমপির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জেলা নেতৃবৃন্দের সুপারিশ

৩০ নভেম্বর -০০০১, ১২:০০ এএম | মোহাম্মদ হেলাল


এম.আবদুল্লাহ্ সরকার, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হককে মারাত্বক মারপিট করা সহ দলীয় কোন্দল সৃষ্টি করার অভিযোগ এনে রায়গঞ্জ-তাড়াশ এলাকার এমপি মম আমজাদ হোসেন মিলন এমপির বিরুদ্ধে রঙ্গিন পোষ্টারে ছেয়ে গেছে তার নির্বাচনী এলাকা। 

৬৪ সিরাজগঞ্জ-৩ (তাড়াশ-রায়গঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য গাজী ম ম আমজাদ হোসেন মিলনকে ওই হামলার ঘটনায় মদদদাদা হিসেবে পোস্টারে উল্লেখ করা হয়েছে।  পোষ্টারে এমপি মিলনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন কথাও লেখা রয়েছে। 

রায়গঞ্জ, তাড়াশ ও সলঙ্গার সর্বস্তরের জনগনের পক্ষে উল্লেখ করে পোস্টারগুলো সাঁটানো হলেও এর ওপরে জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পুত্র সজিব ওয়াজেদ জয়ের ছবি এবং জয়বাংলা, জয়বঙ্গবন্ধু স্লোগানও যুক্ত করা হয়েছে। 

অপরদিকে একই ঘটনায় হামলাকারীদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে তাড়াশ উপজেলা আওয়ামী লীগ থেকে ওইসব এলাকায় পৃথক পোস্টার সাঁটানো হলেও তাতে এমপি মিলনের নাম উল্লেখ করা হয়নি। 

পোস্টার সাঁটানোর বিষয়ে তাড়াশ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জিত কর্মকার বলেন, ‘তাড়াশ ও রায়গঞ্জ উপজেলাসহ সলঙ্গা থানার বিভিন্ন স্থানে দু’ধরনের পোস্টার সাটানো হয়েছে।  এর মধ্যে একটি দলীয় এবং অন্যটি সর্বস্তরের জনসাধারনের পক্ষে কে বা কারা সাঁটিয়েছে, তা আমাদের জানা নেই। 

এদিকে, উপজেলা চেয়ারম্যানকে হামলা, মারপীট ও কোপানোর ঘটনায় সাংসদ গাজী ম ম আমজাদ হোসেন মিলনকে ইন্ধনদাতা ও মদদদাতা হিসেবে উল্লেখ করে এবং তার বেশ কয়েকজর স্বজনকে আসামি করে তাড়াশ থানায় গত মঙ্গলবার দুপুরে মামলা করা হয়।  এর পর পুলিশ ওইদিন এমপির ভাগ্নে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি আব্দুল খালেককে গ্রেফতার করলেও এরপর আর কেউই গ্রেফতার হয়নি। 

গত ৩০ অক্টোবর তাড়াশ উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা সভায় এমপি মিলনের সঙ্গে উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল হক, সদর ইউপি চেয়ারম্যান বাবলু শেখ ও বারুহাস ইউপি চেয়ারম্যান মোক্তার হোসেনের বাক-বিতণ্ডা ও উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। 

এরপর সভা পণ্ড হলে উপজেলা চেয়ারম্যানসহ অন্যান্য ইউপি চেয়ারম্যানরা উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ের চেয়ারম্যানের কক্ষে বসে আলাদা সভা শুরু করেন। 
এ সময় ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন বিদ্যুত এবং এমপি মিলনের দুই ছেলে জর্জিয়াস মিলন রুবেল ও জাকির হোসেন জুয়েলের নেতৃত্বে একদল দলীয় চিহ্নিত সন্ত্রাসী অতর্কীত হামলা চালিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যনকে মারপিট ও কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। 

এ সময় তার কক্ষ ভাঙচুর ও বেশ কয়েকজন ইউপি চেয়ারম্যানকেও লাঞ্ছিত করা হয়।  উপজেলা চেয়ারম্যান হককে তাৎক্ষনিক পুলিশ উদ্ধার করে তাড়াশ উপজেলা হাসপাতাল, পরে সদর হাসপাতাল এবং সন্ধ্যার পর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে পাঠায়।  ঘটনা জানাজানি হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে যায়। 

তাড়াশ থানার ওসি এটিএম আমিনুল ইসলাম শুক্রবার সন্ধ্যায় বলেন, ‘আসামীরা তাড়াশে নেই।  সবাই  পলাতক রয়েছে।  এদের সবাই এখন ঢাকায় অবস্থান করছে বলে জানা গেছে। ’

অপরদিকে, তাড়াশের চলমান দলীয় কোন্দল ও হামলার বিষয় নিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।  ওই সভায় তাড়াশ উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল হকের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতরা সরকার দলীয় হলে তাদের বহিষ্কারের বিষয়ে প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। 

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক সভাপতি, মৎস্যমন্ত্রী এবং বর্তমান জেলা পরিষদ প্রশাসক আব্দুল লতিফ বিশ্বাস এ ধরনের সিদ্ধান্তের সত্যতা স্বীকার করে শুক্রবার বলেন, দলীয় সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করে তাদের বিষয়ে প্রতিবেদন জেলা কার্যালয়ে জমা দিতে তাড়াশ উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের তিন দিনের সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। 

প্রতিবেদন পাওয়ার পর দোষীদের দল থেকে বহিষ্কার করা হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 
 

 

 

সম্পাদনায়:সাইমুন/এসএনএন২৪.কম