১১:১০ পিএম, ১৭ আগস্ট ২০২২, বুধবার | | ১৯ মুহররম ১৪৪৪




গোলামুর রহমান মাইজভান্ডরীর ফকির গুহা আস্তানা শরীফে ওরশ ও কিছু অজানা কাহিনী

০৬ মার্চ ২০২২, ১১:৫৩ এএম |


প্রদীপ শীল, রাউজানঃ আধ্যাতিক জগতের প্রাণ পুরুষ মাইজভান্ডার দরবার শরীফের অন্যতম অলি হজরত গোলামুর রহমান মাইজভান্ডরী (প্রকাশ বাবা ভান্ডারী) আস্তানা শরীফের বার্ষিক ওরশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

গতকাল ৫ মার্চ শনিবার রাঙ্গামাটি জেলার কাউখালী উপজেলার ফটিকছড়ি ইউনিয়নের ফকির গুহা আস্তানা শরীফে নানা আয়োজনে এই বার্ষিক ওরশ শরীফ সম্পন্ন হয়।  

কর্মসূচীর মধ্যে ছিল খতমে কোরআন, মিলাদ মাহফিল ও চেমা মাহফিল।  পোড়া বাজার এলাকায় অনুষ্ঠিত মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন মাইজভান্ডারি ওলামা পরিষদের সদস্য মাওলানা শায়েস্তা খান আহাজারি মাইজভান্ডারি। 

মাহফিলে প্রধান অতিথি ছিলেন কাউখালী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শামসুদ্দোহা চৌধুরী, বিশেষ অতিথি ছিলেন মাইজভান্ডার দরবার শরীফের শাহজাদা ডা. সৈয়দ মিকতাহ নুর মাইজভান্ডারি, কাউখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস এম শহিদুল ইসলাম,  বক্তব্য রাখেন আস্তানা শরীফের খাদেম গোলাম সরওয়ার, রাউজান প্রেসক্লাবের সভাপতি শফিউল আলম, শাহাবুদ্দিন, মোহাম্মদ মন্নান, ফোরকান কোম্পানি, জামাল কোম্পানি, ওসমান কোম্পানি, আহমেদ ছাপা সওদাগর, তছলিম উদ্দিন, মোহাম্মদ ওসমান প্রমুখ। 

জানা যায়, গোলামুর রহমান মাইজভান্ডারি প্রকাশ বাবা ভান্ডারী একজন সাধক পুরুষ ছিলেন।  তিনি আজ থেকে শত বছর আগে রাঙ্গামাটি জেলার কাউখালী উপজেলার ফটিকছড়ি ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ী গহিন অরন্যের ফরিদ খালী খালের পাশে পাহাড়ের গুহায় কঠিন রেয়াজতে মগ্ন ছিলেন।  তিনি ওখানে দীর্ঘদিন মানবশুন্য পর্বত শিখায় সাধনা করে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করেন । 

বর্তমানে এই এলাকাটি ফকির গুহা নামে পরিচিত।  আধুনিক ও তথ্য প্রযুক্তির এই বিশ্বে বাবা ভান্ডারীর আস্তানায় জিয়ারত করতে প্রায় চার কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে যেতে হয়।  বর্তমানে আস্তানা শরীফে যাওয়ার পথে বিচ্ছিন্ন কিছু পাহাড়ী আদিবাসীদের বসতি গড়ে উঠলেও সেখানে কোন বাঙ্গালীর পরিবারের বসতি নেই।  রাউজান উপজেলার শেষ সীমান্তবর্তী হলদিয়া ইউনিয়ন অতিক্রম করে কাউখালী উপজেলার ডাবুয়া ইউনিয়নের পোড়া বাজার পযর্ন্ত গাড়ী নিয়ে যাওয়া যায়।  সেখান থেকে ফরিদ খালী খালে হাটুজল দিয়ে পায়ে হেঁটে চার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করলে কাউখালীর ফটিকছড়ি ইউনিয়নের বাবা ভান্ডরীর আস্তানা শরীফ। 

এই আস্তানা শরীফে প্রতিদিন শতশত ভক্ত আশেকদের পদচারনায় মুখরিত হয়।  প্রতি বছর ৫ মার্চ বাবা ভান্ডারীর ওরশ অনুষ্ঠিত হয়।  ওরশ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মাইজভান্ডার দরবারের অনুসারীরা কঠিন পথ পাড়ি দিয়ে মনের বাসনা পূর্ণ করতে সমবেত হয়।  খতিত আছে তিনটি গুহায় বাবা ভান্ডারী কঠিন রিয়াজন করেন। 

এই তিনটি উচ্চু পাহাড়ের গর্তে আগত ভক্তরা জিয়ারত করেন।  এছাড়া মোমবাতি ও আগরবাতি জ্বালিয়ে বাবা ভান্ডারীকে স্মরণ করেন।  লোকমুখে প্রচলিত আছে সেখানে হজরত গোলামুর রহমান বাবা ভান্ডারী দীর্ঘ ১২ বছর কঠিন রেয়াজত করেন।  সেখানে তিনি রেয়াজত শেষ করে রাউজান উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের অপর দুর্গম পাহাড়ী এলাকা বটপুকুরিয়া এসে আবোরো কঠিন রেয়াজত শুরু করেন। 

পরবর্তীতে মাইজভান্ডারী ত্বরিকার প্রর্বতক হজরত গাউসুল আজম আহম্মদ উল্লাহ মাইজভান্ডারীর নির্দেশে বটপুকুরিয়া থেকে মাইজভান্ডার দারবার শরীফে নিয়ে যাওয় হয় এই আধ্যাতিক সাধককে।  


keya