১:১৫ পিএম, ১৮ অক্টোবর ২০১৭, বুধবার | | ২৭ মুহররম ১৪৩৯

South Asian College

মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি

২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০৯:১৪ এএম | নিশি


এসএনএন২৪.কম : হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা কড়া নাড়ছে দুয়ারে।  মহালয়ার মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হলেও মূলত মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে ঘটা করে শুরু হয় দুর্গাপূজা।  আর মাত্র চার দিন পরেই সেই মাহেন্দ্রক্ষণ।  ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে প্রতিমা তৈরির কাজ।  এখন প্রতিমাগুলো রঙিন করার কাজে ব্যস্ত প্রতিমাশিল্পীরা।  তুলির আঁচড়ে সুন্দর করে তোলা হচ্ছে দুর্গা, গণেশ, কার্তিক, সরস্বতী, লক্ষ্মী ও মহিষাসুরের প্রতিমা। 

পূজামণ্ডপকে পূর্ণাঙ্গ শৈল্পিক রূপ করে ভক্ত-দর্শনার্থীদের কাছে দৃষ্টিনন্দন করা কারুশিল্পীদেরও এখন ব্যস্ত সময় কাটছে।  পূজার প্রস্তুতির এ শেষ মুহূর্তে এখন যেন দম ফেলার  ফুরসত নেই শিল্পীদের।  দুর্গা পূজাকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পী, ডেকোরেটর এবং হিন্দুধর্মালম্বী লোকজন।  পূজামণ্ডপকে ঘিরে চলছে মঞ্চ, প্যান্ডেল, তোরণ নির্মাণ ও আলোকসজ্জার কাজ।  এরই মধ্যে মৃৎশিল্পীরা প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ করেছেন, এখন রং-তুলির আঁচড় দিয়ে প্রতিমা অঙ্কনের কাজ করছেন।  রং-তুলির আঁচড়ের কাজ শেষ হলেই পোশাক-অলংকার পরিয়ে দৃষ্টিনন্দন করা হবে প্রতিমাগুলোকে। 

ভক্তদের মাঝেও এখন উৎসবের আমেজ।  ঘুরে ঘুরে দেখছেন রাজধানীর পূজামণ্ডপগুলো।  উৎসবের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই এ সম্প্রদায়ের লোকজনের মধ্যে বিরাজ করছে দেবীকে বরণ করে নেয়ার প্রস্তুতি। 

সরেজমিনে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দির, কলাবাগান, পুরান ঢাকার শাঁখারীবাজার, তাঁতীবাজার, লক্ষীবাজার, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের  শ্রীশ্রী কালীমন্দিরে গিয়ে দেখা যায় সবত্রই চলছে পূজার জোর প্রস্তুতি।  বেশির ভাগ মন্দিরের প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ।  এখন প্রতিমাগুলো রং করার কাজে ব্যস্ত শিল্পীরা। 

রাজধানীর অন্যতম পুরোনো মন্দির ঢাকেশ্বরী।  শুক্রবার দুপুরে সেখানে গিয়ে দেখা যায়, দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পী, ডেকোরেটর এবং হিন্দুধর্মালম্বী লোকজন।  পূজামণ্ডপকে ঘিরে চলছে মঞ্চ, প্যান্ডেল, তোরণ নির্মাণ ও আলোকসজ্জার কাজ। 

ঢাকেশ্বরী মন্দিরে প্রতিমায় রং-তুলির আঁচড় দেয়ার আগে প্রতিমাগুলোকে আরও মিহি করে তুলছেন প্রতিমাশিল্পী রুহি দাশ পাল।  গণমাধ্যমকর্মীর সঙ্গে কথা বলবেন সেই সময়টুকু নেই।  কাজের ব্যস্ততা নিয়ে রুহি দাশ ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘নিজ হাতে মনের মাধুরী মিশিয়ে মা'কে তৈরির সৌভাগ্য ক'জনের ভাগ্যে হয়! মহামায়া ভগবতী মা দুর্গার আশীর্বাদেই আমি এ পেশায় এসেছি।  তবে আমাদের পরিশ্রম অনুযায়ী মূল্যায়ন করা হয় না।  যার কারণে এই পেশায় নতুন করে ছেলেরা আসতে চাইছে না। ’

তিনি জানান, চুক্তি ও মজুরি দুইভাবেই তিনি প্রতিমা তৈরি করেন।  তবে প্রতিমা তৈরির কাজে মজুরির চেয়ে মায়ের প্রতি প্রেম ও ভক্তির জন্যই তিনি এ কাজ করেন। 

কলাবাগান মাঠে বেশ জাঁকজমকভাবে সাজসজ্জা চলছে।  রাজধানীতে দুর্গাপূজার জন্য বড় কয়েকটি মণ্ডপের একটি এই কলাবাগান।  এখনো কাজ শেষ হয়নি।  এখনো প্রতিমায় রং করা বাকি। 

কলাবাগান পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক নিরঞ্জন পাল বলেন, ‘আজ থেকেই শুরু হবে প্রতিমায় রং করার কাজ।  দুই দিনের মধ্যেই প্রতিমায় রংসহ তোরণ, প্যান্ডেল, আলোকসজ্জা সব কাজই শেষ হয়ে যাবে।  প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা জোরদারের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।  সরকার এ ব্যাপারে খুবই আন্তরিক।  পূজার শেষ পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আমাদের সহযোগিতা করবে। ’

মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শ্যামল কুমার রায় বলেন,  ‘রাজধানীসহ সারাদেশে গত বছরের তুলনায় এ বছর পূজার সংখ্যা বেশি।  পূজা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে আমাদের দফায় দফায় বৈঠক চলছে।  নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পূজা মণ্ডপে পর্যাপ্তসংখ্যক পুলিশ এবং আনসার দিতে বলা হয়েছে।  এর পাশাপাশি প্রতি মণ্ডপে ১০ জন করে স্বেচ্ছাসেবক রাখা হবে।  তাদের কার্ড দেবে মহানগর পূজা কমিটি।  এর বাইরে কেউ স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে ঘোরাফেরা করতে পারবে না। ’

এবার সারাদেশে ৩০ হাজার ৭৭টি মণ্ডপে দূর্গাপূজা হবে।  গতবারের চেয়ে এবার ৬৮২টি মণ্ডপ বেশি।  রাজধানীতে ২৩১টি পূজামণ্ডপ বসেছে এবার। 

ঢাকায় এবার ছয়টি স্থানে প্রথমবারের মতো পূজা অনুষ্ঠিত হবে।  এগুলো হচ্ছে পল্টন বধির স্কুল, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকার বিজি প্রেস ও বেগুনবাড়ি, ক্যান্টনমেন্ট থানা এলাকা ও বারিধারা ডিওএইচএস। 

এবার পুলিশ প্রশাসন গুরত্বপূর্ণ মনে করে ছয়টি মন্দির ও মণ্ডপে সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থা রাখছে।  এগুলো হচ্ছে ঢাকেশ্বরী মন্দির, রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশন, বনানী, কলাবাগান, বসুন্ধরা ও রমনা কালীমন্দির। 

২৬ সেপ্টেম্বর ষষ্ঠী পূজার মধ্যদিয়ে মর্তে আগমন ঘটবে দেবী দুর্গার।  ২৭ সেপ্টেম্বর মহাসপ্তমী পূজা এবং এর পরদিন মহাঅষ্টমী ও সন্ধিপূজা অনুষ্ঠিত হবে।  ২৯ সেপ্টেম্বর মহানবমী।  ৩০ সেপ্টেম্বর বিজয়া দশমীর মধ্যদিয়ে শেষ হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা।