২:৪১ পিএম, ১৯ আগস্ট ২০২২, শুক্রবার | | ২১ মুহররম ১৪৪৪




পুলিশের সামনে ছাত্রলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা!

০৪ জুলাই ২০২২, ১০:০৬ এএম |


এসএনএন২৪.কমঃ কক্সবাজারের খুরুশকুলে আওয়ামী লীগের সম্মেলনে গিয়ে হামলার আশঙ্কায় নিরাপত্তার জন্য আশ্রয় নিয়েছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের কাছে।  নেতারা নিরাপত্তার জন্য দ্রুত ডেকে নেন পুলিশ সদস্যদের। 

কিন্তু পুলিশের সামনেই সংঘবদ্ধ চক্র কুপিয়ে খুন করে কক্সবাজার সদর উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল উদ্দিনকে। 

এ সময় আহত হয়েছেন আরও চারজন।  তাদের মধ্যে ছাত্রলীগ নেতা রমজানকে গুরুতর আহত অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। 

রোববার (৩ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় খুরুশকুলের ডেইলপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।  নিহত ফয়সাল ওই এলাকারই মৃত লাল মোহাম্মদের ছেলে। 

কক্সবাজার সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক মাহমুদুল করিম মাদু জানান, খুরুশকুল ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সম্মেলন ছিল রোববার।  সম্মেলনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক।  সম্মেলন দেখতে গিয়েছিলেন ফয়সাল।  তার ওপর হামলা করতে একটি সংঘবদ্ধ চক্র বাইরে অবস্থান করছে টের পেয়ে তিনি বিষয়টি আওয়ামী লীগ নেতাদের জানান। 

এরপর বিষয়টি কক্সবাজার সদর থানার ওসিকে জানানো হলে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ।  আওয়ামী লীগ নেতারা ফয়সালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পুলিশকে অনুরোধ জানিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন

পুলিশের ৩ জন সদস্য নিয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়া উপপরিদর্শক (এসআই) রায়হান ফয়সালকে একটি অটোরিকশাযোগে অন্য জায়গায়  সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন।  এ সময় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে পুলিশের সদস্য বাড়ানোর এবং পুলিশের গাড়িযোগে ঘটনাস্থল থেকে তাকে সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করা হয়। 

কিন্তু পুলিশ সদস্যরা অটোরিকশায় ফয়সালকে এবং কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতাকে তুলে দিয়ে তাদের পেছনে যেতে থাকেন।  কিছুদূর যেতেই সংঘবদ্ধ চক্রটি ফয়সালের ওপর হামলা চালায়।  এতে ফয়সাল নিহত এবং অপর ৪ জন আহত হন। 

কক্সবাজার সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক জসিম উদ্দিন জানান, হামলাকারীরা পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে।  সদস্য কম থাকায় ছাত্রলীগ নেতার প্রাণ রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে পুলিশ। 

এ হামলা আওয়ামী লীগের অন্তর্কোন্দল নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, হামলাকারীরা বিএনপি-জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।  অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার করা জরুরি। 

ছাত্রলীগ নেতা ফয়সালের মৃত্যুর ঘটনায় সদর হাসপাতালে ভিড় করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।  ঘটনার পরপরই ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করেছেন। 

জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মারুফ আদনান বলেন, ছাত্রলীগ নেতা ফয়সাল হত্যাকাণ্ড পূর্বপরিকল্পিত।  পুলিশ তার নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।  এ ঘটনায় জড়িতদের আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতারের দাবি জানাই।  একই সাথে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। 

সদর হাসপাতালে কক্সবাজার সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সেলিম উদ্দিনের সঙ্গে দেখা হলে তিনি গণমাধ্যমের সঙ্গে কোনো কথা বলতে রাজি হননি। 

এ বিষয়ে জানতে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুনীর-উল গীয়াস, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রফিকুল ইসলাম ও পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন ধরেননি। 

স্থানীয়রা জানান, প্রায় এক বছর আগে একই এলাকায় রাতের অন্ধকারে ধানক্ষেতে নিয়ে গিয়ে নুরুল হুদা নামে রামু কলেজের এক ছাত্রকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।  সেই ঘটনার সঙ্গে ছাত্রলীগ নেতা ফয়সাল উদ্দিনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে আসছিলেন নিহত নুরুল হুদার স্বজনরা।  সেই ঘটনার জের ধরে নিহত নুরুল হুদার আত্মীয়-স্বজনরা ফয়সালের হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। 


keya