৮:৫২ এএম, ২৮ নভেম্বর ২০২১, রোববার | | ২২ রবিউস সানি ১৪৪৩




আইয়ুব বাচ্চু তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ

১৮ অক্টোবর ২০২১, ১২:৪১ পিএম |


এসএনএন২৪.কম: কিংবদন্তি রক গায়ক-গিটারিস্ট আইয়ুব বাচ্চু তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ। 

২০১৮ সালের এদিনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে চিরনিদ্রায় চলে যান ওই গিটারের জাদুকর। 

আজ তাকে হারানো তিন বছর পূর্ণ হলো। 

যাদের হাত ধরে দেশীয় ব্যান্ড সংগীত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তাদের একজন ছিলেন তিনি।  রুপালি গিটার ফেলে চলে গেছেন সবার প্রিয় এবি বস, কিন্তু আজও তিনি প্রাণবন্ত হয়ে আছেন ভক্তদের হৃদয়ে।  আছেন রোজকার চর্চায়।  

এদিনকে ঘিরে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ বেশ কিছু এলাকায় আয়োজন থাকছে।   

আইয়ুব বাচ্চুর পরিবার জানায়, কয়েকটি এতিমখানায় খাবার পরিবেশন ছাড়াও দোয়া অনুষ্ঠান হবে। 

প্রয়াতের স্ত্রী ফেরদৌস আক্তার চন্দনা বলেন, আমরা পারিবারিকভাবে দোয়ার আয়োজন করি।  এবারও করবো।  এছাড়া কয়েকটি এতিমখানায় শিশুদের জন্য খাবার পাঠানো হবে।  ’

এদিকে আইয়ুব বাচ্চুর তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী স্মরণে তার আত্মার মাগফেরাত কামনায় রাজধানীর মগবাজারের একটি কমিউনিটি পয়েন্টে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে ঢাকাস্থ চট্টগ্রাম মিউজিসিয়ান’স ক্লাব। 

১৯৬২ সালের ১৬ আগস্ট চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আইয়ুব বাচ্চু।  ১৯৭৮ সালে ফিলিংস ব্যান্ডের মাধ্যমে সংগীত জগতে তার পথচলা শুরু হয়।  ১৯৮০ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত সোলস ব্যান্ডে লিড গিটারিস্ট হিসেবে যুক্ত ছিলেন তিনি।  ১৯৯১ সালে এলআরবি ব্যান্ড গঠন করেন আইয়ুব বাচ্চু।  এর প্রথম অ্যালবাম ‘এলআরবি’ বাজারে আসে ১৯৯২ সালে।  এটাই দেশের প্রথম ডাবল অ্যালবাম। 

এলআরবির অন্য অ্যালবামগুলো- ‘সুখ’ (১৯৯৩), ‘তবুও’ (১৯৯৪), ‘ঘুমন্ত শহরে’ (১৯৯৫), ‘ফেরারি মন’ (১৯৯৬), ‘আমাদের’ (১৯৯৮), ‘বিস্ময়’ (১৯৯৮), ‘মন চাইলে মন পাবে’ (২০০১), ‘অচেনা জীবন’ (২০০৩), ‘মনে আছে নাকি নাই’ (২০০৫), ‘স্পর্শ’ (২০০৮), ‘যুদ্ধ’ (২০১২), ‘রাখে আল্লাহ মারে কে’ (২০১৬)। 

১৯৮৬ সালে প্রকাশিত ‘রক্তগোলাপ’ তার প্রথম প্রকাশিত একক অ্যালবাম।  তার সাফল্যের শুরুটা হয় দ্বিতীয় একক অ্যালবাম ‘ময়না’র (১৯৮৮) মাধ্যমে।  ১৯৯৫ সালে বাজারে আসে তার তৃতীয় একক অ্যালবাম ‘কষ্ট’।  এর প্রায় সব গানই জনপ্রিয়তা পায়।  বিশেষ করে ‘কষ্ট কাকে বলে’, ‘কষ্ট পেতে ভালোবাসি’, ‘অবাক হৃদয়’, ‘আমিও মানুষ’ গানগুলো।  তার অন্য একক অ্যালবামগুলো- ‘সময়’ (১৯৯৮), ‘একা’ (১৯৯৯), ‘প্রেম তুমি কি’ (২০০২), ‘দুটি মন’ (২০০২), ‘কাফেলা’ (২০০২), ‘রিমঝিম বৃষ্টি’ (২০০৮), ‘বলিনি কখনো’ (২০০৯), ‘জীবনের গল্প’ (২০১৫)। 

আইয়ুব বাচ্চুর গাওয়া গানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় ‘চলো বদলে যাই’।  এর কথা ও সুর তারই।  শ্রোতাপ্রিয় গানের তালিকায় আরও রয়েছে ‘শেষ চিঠি কেমন এমন চিঠি’, ‘ঘুম ভাঙা শহরে’, ‘হকার’, ‘সুখ’, ‘রুপালি গিটার’, ‘গতকাল রাতে’, ‘তারা ভরা রাতে’, ‘এখন অনেক রাত’ ইত্যাদি। 

রক ঘরানার গানের এই শিল্পী আধুনিক আর লোকগীতিতেও শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছেন।  বেশ কিছু চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক করেছেন তিনি।  চলচ্চিত্রে তার গাওয়া প্রথম গান ‘লুটতরাজ’ ছবির ‘অনন্ত প্রেম তুমি দাও আমাকে’।  এছাড়া ‘আম্মাজান’ ছবির শিরোনাম গানও জনপ্রিয়। 

দীর্ঘ কয়েক দশকে অসংখ্য কালজয়ী, জনপ্রিয় গান উপহার দিয়েছেন আইয়ুব বাচ্চু।  ‘চলো বদলে যাই,’ ‘হাসতে দেখো,’ ‘এখন অনেক রাত,’ ‘রুপালি গিটার’, ‘মেয়ে’ ‘আমি কষ্ট পেতে ভালোবাসি,’ ‘সুখের এ পৃথিবী,’ ‘ফেরারি মন,’ ‘উড়াল দেবো আকাশে,’ ‘বাংলাদেশ,’ ‘আমি বারো মাস তোমায় ভালোবাসি,’ ‘এক আকাশের তারা,’ ‘সেই তারা ভরা রাতে,’ ‘কবিতা,’ ‘আমি তো প্রেমে পড়িনি,’ ‘তিন পুরুষ,’ ‘যেওনা চলে বন্ধু,’ ‘বেলা শেষে ফিরে এসে,’ ‘আমি তো প্রেমে পড়িনি,’ ‘তিন পুরুষ’সহ অসংখ্য জনপ্রিয় গানের স্রষ্টা তিনি।