৩:৩৩ পিএম, ২৪ অক্টোবর ২০২১, রোববার | | ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩




ভারতের সঙ্গে পানি সমস্যার সমাধানের তাগিদ

৩০ নভেম্বর -০০০১, ১২:০০ এএম | মোহাম্মদ হেলাল


বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক বাড়াতে অভিন্ন নদীর পানি বন্টন ইস্যুর সমাধানের তাগিদ দেয়া হয়েছে এক সেমিনারে।  বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ও বাংলাদেশে ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধণ শ্রিংলার উপস্থিতিতে ওই সেমিনারে বক্তারা বলেছেন, পানি নিয়ে সমস্যার সমাধান হলে লাভবান হবে দুই দেশই। 

 

বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘ভারত-বাংলাদেশ নৌ যোগাযোগ উন্নীতকরণ’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করে ভারত-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ-আইবিসিসিআই। 

বর্তমান সরকারের আমলে দুই দেশের মধ্যে অভিন্ন কিছু সমস্যার সমাধান বলেও পানি নিয়ে সমস্যার সমাধানে অগ্রগতি নেই।  ৯০ দশকের মাঝামাঝি সময়ে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে গঙ্গা নদীর পানি বণ্টন নিয়ে চুক্তি হলেও তিস্তাসহ বেশ কিছু নদীর পানিবণ্টন নিয়ে সমস্যা রয়েই গেছে।  বিশেষ করে তিস্তার পানিবণ্টন নিয়ে ‍চুক্তি আটকে যাওয়ায় বাংলাদেশে এ নিয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া আছে।   

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক হয়েছে রক্তের মাধ্যমে।  গত বছর ভারতের সঙ্গে প্রায় ২৯ শতাংশ বাণিজ্য বেড়েছে।  এটা আরও বাড়ানো সম্ভব। 

বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বলেন,‘উভয় দেশের বাণিজ্য ও যোগাযোগের উন্নয়নের জন্য ওয়াটারওয়েজ কানিক্টিভিটি খুবই জরুরি।  ব্যবসা বাণিজ্য বৃদ্ধির জন্য যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের কোন বিকল্প নেই। ’

ইনস্টিউট অব পলিসি অ্যাডভোকেসি অ্যান্ড গর্ভনেন্স এর একজন প্রতিনিধি বলেন, ‘ভারত আমাদের সবচেয়ে কাছের বন্ধু হওয়া সত্ত্বেও স্বাধীনতার পর আমাদের সাথে তাদের নৌ যোগাযোগ সম্পর্ক গড়ে ওঠেনি।  তবে এটা হলে দুই দেশই অনেক বেশি লাভবান হতো। ’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের শিক্ষক সৈয়দ মুনির খসরু বলেন, ‘যেখান থেকে পানি উৎসারিত হয়, সেখানকার মানুষদের পানি দিতে কোন রকম ছাড় না দেয়ার একটি মানসিকতা থাকে।  কিন্তু শুকনো মৌসুমে পানি ছাড়লে যে বাণিজ্য ও পর্যটন খাতে যে পরিমাণ আয় হবে তাতে উভয় দেশই অনেক লাভবান হবে। ’

ভারতে বাংলাদেশের সাবেক হাইকমিশনার তারিক এ করিম বলেন, নৌ যোগাযোগ ছাড়া কোনভাবেই বাণিজ্য বৃদ্ধি সম্ভব নয়।  বাণিজ্য ছাড়া যে কোন দেশ তার কাঙ্খিত উন্নয়নের শিখরে পৌঁছাতে পারে না।  তার মতে, নৌ যোগাযোগ বাড়িয়ে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যে ৬০ শতাংশ খরচ কমানো সম্ভব।