১২:৫৭ পিএম, ২০ আগস্ট ২০১৮, সোমবার | | ৮ জ্বিলহজ্জ ১৪৩৯


কুষ্টিয়া জেলা শিল্পকলা একাডেমীর নতুন ভবন নির্মান কাজের উদ্বোধন

১৯ জুলাই ২০১৭, ০৪:১১ পিএম | সাদি


এসএম জামাল, কুষ্টিয়া প্রতিনিধি : সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে হলে লেখাপড়ার পাশাপাশি সংস্কৃতি চর্চা প্রয়োজন।  যারা গান গাইছেন, ছবি আঁকছেন, কিংবা কবিতা লিখছেন সবাই কিন্তু সংস্কৃতি চর্চা করছেন।  আর যারা এগুলো শুনছেন তারা সৃজনশীলতার মধ্যে রয়েছেন।  সন্তানকে সংস্কৃতিমনা করে তৈরি করতে বাবা-মাকে তার সন্তানের প্রতি বিশেষ নজর দিতে হবে। 

বুধবার দুপুরে ৩২ কোটি ব্যয়ে কুষ্টিয়া জেলা শিল্পকলা একাডেমির তিন তলা ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। 

আসাদুজ্জামান নূর বলেন, আমাদের ছেলেমেয়েরা বইয়ের ভারে বাকা হয়ে হাটে।  জিপিএ ফাইভ পাওয়ার প্রত্যাশা করে।  স্কুল-কলেজের পরীক্ষায় ফার্স্ট হলে চলবে না জীবনের ক্ষেত্রে ফার্স্টক্লাস পেতে হবে।  বাংলাদেশে যে জঙ্গিবাদ জন্ম নিয়েছে তা সন্তানদের মস্তিষ্কে ঢোকার চেষ্টা করছে।  এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকারও আাহবান জানান মন্ত্রী। 

মন্ত্রী আরও বলেন, সংস্কৃতি চর্চার ক্ষেত্রে যে পরিমান সরকারী বরাদ্দ্ আছে তার থেকে অনেক বেশি নিজের খেয়ে বনের মোষ তাড়ায় সাংস্কৃতিক কর্মীরা।  নিজেরা সংস্কৃতি কর্মকান্ডের সম্পৃক্ত আছে বলেই এতো সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হচ্ছে।  আসুন আমরা সুন্দর মানুষ তৈরী করি।  এবং বঙ্গবন্ধুর সাজানো সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলি। 

স্বাগত বক্তব্যে কুষ্টিয়া শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম বলেন, আমরা অত্যন্ত ভাগ্যবান যে কুষ্টিয়াতে অত্যাধুনিক মানের শিল্পকলা একাডেমি ভবন নির্মিত হচ্ছে।  বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির পর কুষ্টিয়া শিল্পকলা একাডেমিকে ধরা হবে দ্বিতীয় বৃহত্তর একাডেমি ভবন।  কুষ্টিয়া শিল্পকলা একাডেমি কমপ্লেক্স ভবন নির্মিত হলে জেলা সাংস্কৃতি বিশ্ব দরবারে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করবে। 

জেলা প্রশাসক ও জেলা শিল্পকলা একাডেমীর সভাপতি মো. জহির রায়হানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ও কুষ্টিয়া-৩ সদর আসনের সংসদ সদস্য মাহবুব-উল-আলম হানিফ, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের সচিব মো: ইব্রাহীম হোসেন খান, শিল্পকলা একাডেমীর মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী, পুলিশ সুপার এস এম মেহেদী হাসান, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী রবিউল ইসলাম, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব সদর উদ্দিন খান, সাধারন সম্পাদক আজগর আলী ও কুষ্টিয়া জেলা শিল্পকলা একাডেমীর সাধারন সম্পাদক আমিরুল ইসলাম প্রমুখ। 

প্রসঙ্গত, সাংস্কৃতির রাজধানী হিসেবে কুষ্টিয়াকে অভিহিত করা হলেও বলা হয় রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ছিলো না।  সেই সাংস্কৃতির রাজধানী কুষ্টিয়াকে তুলে ধরার মাধ্যম শিল্পকলা একাডেমি।  জেলার কৃষ্টি-কালচারকে দেশ তথা বিশ্ব দরবারে পরিচিত করতে যে প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে থাকে তা হলো শিল্পকলা একাডেমি।  সেক্ষেত্রে কুষ্টিয়া শিল্পকলা একাডেমির অবদানও যে কম নয়।  তবে গুরুত্ব থাকলেও অবকাঠামোগতভাবে দেশের অন্যান্য জেলার তুলনায় অনেকটাই পিছিয়ে ছিলো এটি। 

ভঙ্গুর অবকাঠামোর ভেতর দিয়েই প্রাণান্তর চেষ্টা জেলার সংস্কৃতিকে বিকশিত করার।  তবে এবার বুঝি সুদিন ফিরছে শিল্পকলা একাডেমির।  সংস্কৃতি মন্ত্রনালয়ের অর্থায়নে ৩০ কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে ৩ তলা বিশিষ্ট অত্যাধুনিক কমপ্লেক্স ভবন।  যেখান থাকছে ৩টি অধ্যাধুনিক অডিটোরিয়াম।  এর মধ্যে রয়েছে অত্যাধুনিক ফিক্স অডিটোরিয়াম, মাল্টিপারপাস অডিটোরিয়াম এবং এরিনা মঞ্চ।  এক একর জায়গার ওপর নির্মিত হবে এই কমপ্লেক্স ভবন।