৭:২৭ এএম, ২১ অক্টোবর ২০১৭, শনিবার | | ৩০ মুহররম ১৪৩৯

South Asian College

কিশোরীকে বিয়ে করতে গিয়ে বর ও বরের বাবা থানা হাজতে

২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০৩:১২ পিএম | সাদি


তোফায়েল আহমেদ পাপ্পু, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে পারুয়াবিল গ্রামে বাল্য বিবাহ রোধ করে বর ও বরের বাবাকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন বলে জানিয়েছে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হক।  তিনি জানান, শুক্রবার কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের পারুয়াবিল গ্রামের মৃত আরব উল্যার মেয়ে কিশোরী আছিয়া আক্তারের(১৫) বিয়ে ঠিক করা হয় একই ইউনিয়নের মাধবপুর চা বাগানের ময়না মিয়ার ছেলে ট্রলি চালক রশিদ মিয়া (১৮)-র সাথে। 


বর কনের বিয়ের বয়স হয়নি আর এখন বিয়ে না দেয়ার জন্য এলাকাবাসী বর পক্ষকে আগে জানালেও তারা ঘরুয়া পরিবেশে গোপনে কোন প্রকার আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই বিয়ের আয়োজন করেছিল।  কনে কিশোরী আছিয়াকেও রাখা হয়েছিল প্রতিবেশী রফিক মিয়ার বাড়িতে। 

শুক্রবার বেলা ২টায় বর বিয়ে করতে কনের বাড়িতে গেলে বেলা আড়াইটার দিকে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কমলগঞ্জ থানা পুলিশকে নিয়ে সেখানে উপস্থিত হয়ে বিয়ে বন্ধ করেন। 

এ সময় গ্রাম পঞ্চায়েত ও জনপ্রতিনিধিরা কিশোরী কনের পরিবারের পক্ষে নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অঙ্গীকার করেন প্রাপ্ত বয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত মেয়েকে বিয়ে দিবেন না।  তাদের প্রতিশ্রুতিতে কনে ও তার পরিবার সদস্যদের জনপ্রতিনিধি ও পঞ্চায়েতের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। 

তবে  কিশোর বর রশিদ মিয়া  ও তার বাবা ময়না মিয়াকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলেদেন বলে জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। 

মাধবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পুষ্প কুমার কানু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আটক বর ও তার বাবার পক্ষে স্বজনরা প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার আগে বিয়ে করাবে না বলে অঙ্গীকার করেছে।  এ বিষয়টি তিনি থানা প্রশাসনকে অবহিত করেছেন। 

কমলগঞ্জ থানা হাজতে আটক কিশোর বর রশিদ মিয়া ও তার বাবা ময়না মিয়া ঘটনার দায় স্বীকার করে বলেন, এখন জনপ্রতিনিধি ও গ্রাম পঞ্চায়েত মাধ্যমে তারা মুচলেখা দিতেও রাজি।  বরের বাবা জনাান, ছেলের বয়স ২১ না হওয়ার আগ পর্যন্ত বিয়ে করাবেন না । এ ব্যাপারে কমলগঞ্জ থানার ওসি বদরুল হাসান জানান, বর কনে এখনও তাদের কাছে আটক আছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও তাদের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনাক্রমে ব্যবস্থা নিবেন।