১০:৫৭ পিএম, ১৭ আগস্ট ২০২২, বুধবার | | ১৯ মুহররম ১৪৪৪




মিশন এক্সট্রিম' নিয়ে আমার বলা...

১১ ডিসেম্বর ২০২১, ০৩:৪৯ পিএম |


ইফতেখায়রুল ইসলাম: মিশন এক্সট্রিম দেখেও আমার কোনো রিভিউ নেই কেন, কেউ কেউ জানতে চেয়েছেন! 

প্রথমত ফিল্ম নিয়ে বলবার মত যে পরিপক্বতার দরকার সেটা আমার একেবারেই নেই।  এর আগে যে দুই, একটি চলচ্চিত্র নিয়ে কথা বলেছি সেগুলো নিতান্তই একজন আম দর্শক হিসেবে বলা! কারিগরি বিষয় নিয়ে আমার জানাশোনার পরিধি শূন্যের কোঠায়... অনেকের আবার আরও মাথা ব্যথা, আমি কেন বেছে বেছে লিখি, সব বিষয়ে আমার লেখা নেই কেন!

আমার লেখা সব বিষয়ে হতেই হবে, সেটি আপনারা কতিপয় ব্যক্তিবর্গ নির্ধারণ করে দেয়ার কে, সেটিই বোধগম্য নয়।  আমার ব্যক্তিগত অভিরুচি তো আমার মাধ্যমেই নিয়ন্ত্রিত হওয়ার কথা। 

যাই হোক, বলছিলাম মিশন এক্সট্রিম নিয়ে।  এই চলচ্চিত্রের কাহিনীকার, পরিচালকসহ, নেপথ্যের কারিগরের ভূমিকায় ছিলেন পুলিশ সুপার Sunny Sanwar স্যার।  ঠিক এই একটি কারণে কারো কারো মনে হতে পারে আমি এই চলচ্চিত্রের প্রতি সম্পূর্ণ বায়াসড হয়ে কথা বলবো, যেহেতু আমি নিজেও একজন পুলিশ।  আবার অন্যদিকে, আমার অবচেতন মন অবশ্যই বাধাপ্রাপ্ত হতে পারে এই ভেবে যে, এই চলচ্চিত্রের খামতি একটুও আলোচনায় এলে সেটি আমার স্যারকে আহত করতে পারে।  সবকিছু মাথা থেকে সরিয়ে আমি একেবারেই নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে এই চলচ্চিত্র নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা বলতে চাই.... 

যে কোনো কিছুতেই ইন্ট্রো অর্থাৎ শুরুটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।  এই চলচ্চিত্রের শুরুতেই দর্শকের উল্লাস পুরনো দিনের জমজমাট চলচ্চিত্রের চিত্র মনে করিয়ে দিয়েছে।  অসাধারণ একটা শুরু দিয়েই চলচ্চিত্রের সূচনা হয়েছে নিঃসন্দেহে। 

এই চলচ্চিত্রের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিক অনেক গুণী অভিনেতাদের অতিথি চরিত্রে পর্দায় আগমন।  'ঢাকা এ্যাটাক' চলচ্চিত্রের টিমের কাজ বলেই কিনা জানিনা এত এত গুণী কুশীলবদের সমাহার এর আগে এতটা ব্যাপকভাবে আমার দেখা হয়নি! 

চলচ্চিত্রের শুরুতেই আরেফিন শুভ'র যে সমৃদ্ধ উপস্থিতি সেটিকে বলিউডের কোনো নায়কের পর্দার উপস্থিতি বললে অত্যুক্তি করা হবে না! এই চলচ্চিত্রের পোস্টারে একটি সুন্দর বার্তা রয়েছে, 'Say No To Terrorism'! যেটির পরিপূর্ণ প্রকাশ ঘটানোর চেষ্টা চলেছে এই চলচ্চিত্রে।  

চলচ্চিত্রের মূল নায়ক আরেফিন শুভকে এই চলচ্চিত্রে দেখা, শোনায় সবকিছু মিলিয়ে পূর্বের তুলনায় অনেক সমৃদ্ধ মনে হয়েছে।  নতুন লুক দেখার মত ছিল তবে ক্রোধ বা রাগের প্রকাশে সচেতনভাবে ডায়ালগ থ্রো করে নিজের চেহারাকে সুন্দর রাখার সচেতন ও নিরাপদ চেষ্টায় অভিনয়ের খেলাটা একটু হলেও মার খেয়েছে।  ঔভারঅল ফ্যান্টাস্টিক।  

ফজলুর রহমান বাবুর ক্ষুদ্র উপস্থিতিও তাঁর অভিনয়ের তেজকে ঢাকতে পারেনি।  কি অসাধারণ তিনি! শতাব্দী ওয়াদুদ বরাবরই অসাধারণ করেন, এখানে আমার জায়গা থেকে ভাল মনে হয়েছে, অসাধারণ বিষয়টা হয়তো পরের পার্টে পাবো।  একটা চরিত্র খুলতেও সময় দরকার।  আগামী পর্বে হয়তো সেই সময়টি দেখতে পাবো। 

চলচ্চিত্রের নায়িকা ঐশীর আসলে করার মত সুযোগ ছিল খুব কম, তাঁর উপস্থিতি সজীবতা এনেছে কিন্তু আহামরি দাগ কাটতে পারেনি মনে।  ঐশীর আরও একটু স্ক্রিন প্রেজেন্স হলে ভাল লাগতো।  তবে এই ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই যে, এর চেয়ে ভাল শুরু তার জন্য হতেও পারতো না! 

আমি বরং ঐশীর চেয়ে পুলিশ চরিত্রে রুপদানকারী নাবিলার অভিনয়ে মুগ্ধ থেকেছি পুরোটা সময়।  অসাধারণ টাইমিং ও মুখভঙ্গি তার চরিত্রকে শাণিত করেছে।  পূর্বে তার অভিনয় দেখিনি কিন্তু কি দুর্দান্ত প্রেজেন্স।  সকলের সাথে রীতিমতো টক্কর দিয়ে অভিনয় করেছেন তিনি।  

এই চলচ্চিত্রে দাগ কেটে গেছেন আরও একজন অভিনেতা, সুদীপ যিনি চলচ্চিত্রে একজন সন্ত্রাসীর ভূমিকা পালন করেছেন! একইসাথে বুদ্ধিদীপ্ত ও বৌল্ড মনে হয়েছে তার অভিনয়।  ব্যাংকে যেয়ে এ্যাটাকের সময় তার যে চাহনি, ক্ষোভের প্রকাশ- এক কথায় অসাধারণ ছিল।  যতটুকু জেনেছি এই তরুণ অভিনেতা এইচবিও চ্যানেলের জন্যও কাজ করেছেন।  তার মেধাকে কাজে লাগানো উচিত।  

ঢাকা এ্যাটাকে আমি পুরোটাই তাসকিনে মুগ্ধ ছিলাম তবে এই চলচ্চিত্রে যতটুকু বুঝেছি তাসকিনের চরিত্র বোঝা যাবে দ্বিতীয় পর্বে, তাই এই পর্বে তাকে নিয়ে বলার মত উল্লেখযোগ্য কিছু পাচ্ছি না!

জনাব রাইসুল ইসলাম আসাদ, শহীদুজ্জামান সেলিম, ইরেশ জাকের, মনোজ প্রামাণিকসহ অন্যন্য অভিনেতাগণ নিজ চরিত্রের প্রতি সুবিচার করেছেন এবং বাংলাদেশেও স্বল্প সময়ের পর্দা উপস্থিতিতে বড় বড় অভিনেতাগণ কাজ করেন, সেটিও দেখার মত একটি বিষয় হয়েছে এই চলচ্চিত্রে। 

চলচ্চিত্রের কারিগরি বিষয় নিয়ে আমার বলা বেমানান কারণ সেই বিষয়ে আমি শিশুসম আগেই বলেছি।  খামতি নিয়ে চাইলে অনেকেই হয়তো কথা বলতে পারবেন তবে বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত এরকম হাতেগোনা চলচ্চিত্র আর কয়টা হয়েছে সেটি যদি চিন্তা করেন, তবে এই চলচ্চিত্রের জন্য আপনি হাত তালি দিতেই পারেন। 

চলচ্চিত্রের শেষদিকে আরেফিন শুভ যখন ট্রলিতে করে বোম্ব সরিয়ে নিচ্ছিলেন এবং ব্যাকগ্রাউন্ডে যখন বেজে উঠছিল, ও আমার দেশের মাটি, তোমার 'পরে ঠেকাই মাথা তখন আমার শরীরের পশম কাটা দিয়ে উঠেছিল।  বহুদিন পর কোনো চলচ্চিত্রের দৃশ্যায়ন দেখে এরকম অনুভূতি হয়েছে  এবং ঠিক তখনই মনে হয়েছে চলচ্চিত্রের প্রথম পর্বের শেষটা যদি এখানেই থাকতো তবে দর্শকের সাথে সংযোগ থাকতে থাকতেই প্রথম পর্বের একটা দুর্দান্ত শেষ হতে পারতো। 

তাসকিন ও শুভর শেষাংশে বলাটা স্ক্রিনে লিখে অথবা আগে বলে শেষ করে দিয়ে ব্যাকগ্রাউন্ডে দেশের গানের শেষাংশ দিয়ে শেষ হলে দারুণ একটা বিষয় দাঁড়াত! এতদসত্ত্বেও এই চলচ্চিত্র আমার কাছে এই সময়ের সেরা উপস্থাপনের একটি। 

মাই পারসোনাল রেটিং এইট আউট অব টেন (৮/১০) এন্ড ইট'স এ্যা মাস্ট ওয়াচ ফিল্ম। 

লেখক : এডিসি, ক্যান্টনমেন্ট ও খিলক্ষেত, ডিএমপি। 


keya