১২:৫৮ পিএম, ১৮ জুলাই ২০১৮, বুধবার | | ৫ জ্বিলকদ ১৪৩৯


সিলেটে গৃহবধুর চুল কেঁটে ন্যারা করায় স্বামীকে গ্রেফতার করেও ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ

১১ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০৯:২৩ পিএম | সাদি


নিজস্ব প্রতিনিধি : সিলেটে পাষন্ড স্বামী ও তার পরিবারের লোকজন কতৃক শারিরীক নির্যাতনের পর মাথার চুল কেঁটে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়া হয়েছে এক গৃহবধুকে।  আলোচিত এ ঘটনায় ভিকটিম থানায় অভিযোগ দেয়ার পর জৈন্তাপুর থানা পুলিশ অভিযুক্ত গুণধর পাষন্ড স্বামীকে গ্রেফতারের পর আওয়ামীলীগের এক স্থানীয় নেতার তদবীর বাণিজ্যের মুখে থানা হাজত থেকে অভিযুক্তকে ছেড়ে দেয়ার ঘটনাও ঘটেছে।  থানা পুলিশের এহেন ভুমিকা  নিয়ে স্থানীয় এলাকায় তীব্র অসন্তোস ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে । ’

জানা গেছে- সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের হাখরগ্রামে গত ৫ সেপ্টেম্বর পারিবারীক কলহের জের ধরে গত ৫সেপ্টেম্বর পারিবারিক বিরোধের জের ধরে হবিব উল্লাহ ও তার পরিবারের লোকজন মিলে তার স্ত্রী তিন সন্তানের জননীকে দফায় দফায় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে মাথার চুল কেঁটে ন্যারা করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়।  এ ঘটনার পরদিন নির্যাতনের শিকার গৃহবধু মমতা বেগম তার স্বামী ও শশুর বাড়ির কয়েকজনের বিরুদ্ধে জৈন্তাপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ’

অভিযোগ পেয়ে প্রাথমিক তদন্ত শেষে তদন্তকারী অফিসার থানার এসআই নবী ওরফে নবীন হবিবউল্লাহকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসেন। ’ এদিকে নারী নির্যাতকারী হবিবউল্লাহকে গ্রেফতারের পর পরই তদবীর বাণিজ্যের মুখে থানা হাজত থেকে ছাড়িয়ে নিতে উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি রফিক আহমদ থানায় এসে তোরজোড় শুরু করলে গ্রেফতারের- ৫ থেকে ৬ ঘন্টা পর রাত ৮টার দিকে রফিককে গোপন লেনদেনের মাধ্যমে থানা থেকে ফের ছেড়ে দেয় পুলিশ। ’

এদিকে ভিকটিম মমতা বেগম অভিযোগ করে বললেন, পুলিশ শুধু অভিযুক্তকেই ছেড়েই দেয়নি, ১১ সেপ্টেম্বর পর্য্যন্ত নানা অজুহাতে আমার দায়েরকৃত অভিযোগটিকে মামলা হিসাবে রেকর্ড পর্য্যন্ত করেনি।  ’

উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি রফিকের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করলে তিনি সোমবার বললেন, বিষয়টি নিষ্পক্তি করে দেয়ার শর্তে হবিবউল্লাহকে থানা থেকে ছাড়িয়ে এনেছিলাম ,কোন রকম তদবীর বাণিজ্য করিনি। ’ 

জৈন্তাপুর মডেল থানার ওসি মায়নূল জাকিরের বক্তব্য জানতেদ যোগাযোগ করা হলে তিনি বললেন, অভিযোগ পেয়ে হবিব উল্লাহকে আটক করে থানায় নিয়ে এসে জিঞ্জাসাবাদ কালে ঘটনার সত্যতাও স্বীকার করেছে পরবর্তীতে পরবর্তীতে বিষয়টি আপোষ নিষ্পক্তির শর্তে আ’লীগ সভাপতি রফিক আহমদের জিম্মায় তাকে থানা হাজত থেকে ছেড়ে দেয়া হয়েছিলো। ”