৮:৪২ পিএম, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮, সোমবার | | ৮ রবিউস সানি ১৪৪০




হলের প্রশ্নে লজ্জায় পড়তে হয় জবি শিক্ষার্থীদের

৩০ নভেম্বর -০০০১, ১২:০০ এএম |


আব্দুলাহ ফাহাদ জাকির, (জবি) : পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় মানেই থাকা, খাওয়া, কম খরচার ক্যান্টিন সহ হলের পর্যাপ্ত সুবিধা কিন্তু পর পর দুই বার বিসিএসে ২য় স্থান অধিকার করেও নানান বঞ্চনার শিকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও তার ২০ হাজার শিক্ষার্থীরা।  একটাও হল নেই, পর্যাপ্ত বাস নেই (পর্যাপ্ত ড্রাইভারও নেই), বিস্তৃত ক্যাম্পাস নেই, লাইব্রেরী সুবিধা নেই, অপর্যাপ্ত ক্লাস রুম-ল্যাব নেই, শিক্ষকদের প্রাপ্য মর্যাদাটুকু দেবার উপায়ও নেই, আসলে মৌলিক অধিকার থেকেই বঞ্চিত আমরা। 

রাগে, ক্ষোভে কথাগুলো বলছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ১১ ব্যাচের সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী মোঃ মুশফিকুর রহমান। 

তিনি আরো বলেন,জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কে যদি এতিম করেই রাখা হবে তবে তাকে বিশ্ববিদ্যালয় করার কি দরকার ছিল! এগুলো কাদের দোষ? ছাত্রদের, যে তারা এখানে ভর্তি হয়েছে, নাকি তাদের যারা একে বিশ্ববিদ্যালয় হিসাবে অনুমোদন করছে কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় এর মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করতে পারে নাই, নাকি তাদের যারা এটার কোন উন্নয়ন করে নাই বা করতে চায় নাই, নাকি বিশ্ববিদ্যালয় হর্তা কর্তাদের। 

এত সমস্যা থাকা সত্ত্বেও আমি শুধু বলতে  চাই আমি  "জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়" এর গর্বিত ছাত্র।  হয়ত সবাই আমার মত এটাই চাইবে।  আমার হাতে তো আরো অপশন ছিল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কবি নজরুল এমন কি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েরর চারুকলার মত বিষয়।  সেগুলো ছেড়েও ভর্তি হয়েছি রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে "সমাজকর্ম" বিভাগে।   কেন হয়েছি জানেন কিছু স্বপ্ন ছিল, সেন্ট্রাল এ থাকব, ভাল সাবজেক্ট এ পড়ব, ভাল কিছু করব, কালচারালি আগাব।  আমি এইগুলা পেতাম? সুতরাং জবিই আমার জন্য বেস্ট।  এই তো স্বপ্ন।  এসে দেখলাম, ভর্তি হবার আগে যে কয়েকজন বুদ্ধিজীবী লোক বলেছিল জবি তো খালি নামে ভার্সিটি, বিশ্ববিদ্যালয়ের সুবিধা হিরক পাবার মতই, তখন তা না বুঝলেও এখন তা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি। 

ঢাবির ক্যাম্পাস সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে  হলের অভাবে লজ্জিত হতে হয় জবি শিক্ষার্থীদের।  কিন্তু তা তো হবার কথা ছিল না, তারা কি সারাদেশের মেধাবীদের সাথে লড়াই করে আসে নাই।  তাদের কি সেই যোগ্যতা নাই যা অন্য ভার্সিটির শিক্ষার্থীদের মধ্যে আছে। 

মুশফিক আরো বলেন, তবে আমার লজ্জা লাগে না, এজন্য লাগে না যে, চারদিক থেকে এত্ত অসীম সীমাবদ্ধতা থাকার পরও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় খুব বেশি পিছিয়ে নেই শুধুমাত্র শিক্ষার্থীদের পরিশ্রম ও লড়াকু মনোভাবের জন্য।  কিশোর জবি, প্রতিযোগীতার প্রিয় প্রতিপক্ষ শুধু শতবর্ষী ঢাবি, আর পরিসংখ্যান করলে দেখা যায় সারা দেশের শিক্ষার্থীদের সেকেন্ড চয়েজও জবি।  বুকে থাবা দিয়ে বিশ্বের সামনে বলতে পারি আমি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্য, এটাই আমার পুণ্যভূমি। 

কত আশাজনক কথা আছে, শুধু চাপা পড়ে আছে রাষ্ট্রযন্ত্র আর সংশ্লিষ্ট হর্তাকর্তাদের জন্য, যারা ২২হাজার শিক্ষার্থীদের হক নষ্ট করে চলেছেন।  কাল ইয়ার ফাইনাল, মেস ভেঙে গেছে, সামনের মাসে কোন না কোন  মেসে উঠতেই হবে।  এই চিন্তা নিয়ে পরীক্ষা দিতে যাওয়া।  এখনো বাসা খুজে পাই।  এটা কি আমার দোষ যে আমি মেসে থাকি? এই প্রশ্নের জবাব কে দেবে? কে আমার সমস্যার নিরাসনের দায়িত্ব নিবে? বিশ্ববিদ্যালয় কর্তিপক্ষ।  রাষ্ট্রযন্ত্র।  তবে এ জানি কাল সকালে আবার মেস খুঁজতে বের হতে হবে। .
তারও একটাই কারণ আমি জবির মত অনাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী, যার এমন আরো ২২ হাজার অনাথ ভাই-বোন বন্ধু ও সঙ্গী রয়েছে। 

অপর্যাপ্ত যানবাহন, বাসের একটি মাত্র ট্রিপ, বহুতল ক্যাম্পাস, কাঙ্খিত ১০/১২ টি হল, ক্যান্টিনের চড়া দামে নিম্ন মানের খাবার, ভাল পরিবেশের অভাবে দুর্বিষহ দিনাতিপাত যেন নিত্য সঙ্গী জবি শিক্ষার্থীদের।  সরকার ও জবি প্রশাসনকে দ্রুত সক্রিয় উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানানোর পাশাপাশি আন্দোলন করে আসছিলেন শিক্ষার্থীরা, আর সেই দাবির প্রেক্ষিতেই নতুন বছরে হলের কাজ শুরু হবার কথা থাকলেও কার্যক্রমের কোন আভাস পাওয়া যাচ্ছে না। 
 
পিডি