৭:১৭ পিএম, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, সোমবার | | ১৯ সফর ১৪৪৩




ঢাকার আশেপাশে যত সূর্যমুখী বাগান

২৯ মার্চ ২০২১, ১১:৩২ এএম |


এসএনএন২৪.কমঃ সূর্যের দিকে মুখ করে থাকে বলেই কি এ ফুলের নাম সূর্যমুখী? সূর্য যেদিকে যায়, ঘাড় ঘুরিয়ে সেদিকেই মুখ করে সূর্যমুখী। 

সত্যিই রহস্যটি অনেক জটিল।  তবে যা-ই হোক, দৃষ্টিনন্দন এ ফুল যেন সবাইকে তার কাছে টানে।  এজন্যই তো সূর্যমুখী বাগান দেখতে ভিড় করেন দর্শনার্থীরা। 

রূপে-গুণে অনন্য এ ফুল শুধু সুন্দরই নয়, এর আছে অনেক গুণাগুণ।  সূর্যমুখীর বীজ থেকে তেল হয়।  যা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।  তেলের উৎস হিসেবে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সূর্যমুখীর ব্যাপক চাষ হয়।  সূর্যমুখী যেখানেই ফুটুক না কেন, সেখানকার সৌন্দর্য দ্বিগুণ বেড়ে যায়। 

এখন সূর্যমুখী ফুলের মৌসুম।  দেশের বিভিন্ন জায়গায় চাষ হয়েছে সূর্যমুখী।  ভালো ফলনে কৃষকদের মুখেও ফুটেছে হাসি।  বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই সূর্যমুখী বাগান ঘুরে ছবি তুলে শেয়ার করছেন।  যা দেখে অন্যরাও ঘুরতে যাওয়ার প্ল্যান করছেন! তবে সব সূর্যমুখী বাগানই তো গ্রামীণ পরিবেশে, তাহলে রাজধানীবাসীরা কীভাবে যাবেন?

জানেন কি? ঢাকার আশেপাশের কয়েকটি স্থানে গেলেই কিন্তু আপনি সূর্যমুখী বাগান পরিদর্শন করতে পারবেন।  আর ঢাকার কাছে হওয়ায় একদিনে গিয়েই ঘুরে আসতে পারবেন হলুদের স্বর্গরাজ্য থেকে।  তাও আবার কম খরচে।  তবে মনে রাখবেন, সূর্যমুখী বাগানে ঘুরতে গিয়ে ফুল ছিঁড়বেন না, বাগান নষ্ট করবেন না এবং পরিবেশ নোংরা করবেন না। 

গাজীপুর

ঢাকা থেকে গাজীপুরে দুরত্ব বেশি নয়।  আর এ কারণেই গাজীপুরের বিভিন্ন রিসোর্ট ও বিনোদনকেন্দ্রগুলোই এখন রাজধানবাসীর ভরসার স্থান।  ছুটি ও অবসর কাটানোর জন্য এখন সবাই ভিড় জমান গাজীপুরের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে। 

গাজীপুরের জয়দেবপুরে বাংলাদেশ কৃষি ইনস্টিটিউটে আছে সূর্যমুখী ফুলের বাগান।  সেখানে প্রতিদিন ভিড় জমাচ্ছেন দর্শনার্থীরা।  গাজীপুর চৌরাস্তায় নেমে তিন সড়কে গিয়ে দক্ষিণ দিকেই দেখবেন সূর্যমুখী ফুলের বাগান। 

এ ছাড়াও গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলাতেও আছে সূর্যমুখী বাগান।  সেখানেও দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় চোখে পড়ে।  সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মানুষের আনাগোনায় মুখরিত থাকে ফুলের বাগান।  ছোট-বড় সবাই যেন সেখানে এসে আনন্দে আত্মহারা হয়ে ওঠেন। 

কালিয়াকৈর বাস স্ট্যান্ড থেকে যে কাউকে সূর্যমুখী বাগানের কথাবা আফাজ উদ্দিন মেমোরিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের কথা জিজ্ঞাসা করলেই রাস্তা দেখিয়ে দেবে।  আফাজ উদ্দিন মেমোরিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের ঠিক পিছনেই সূর্যমুখী ফুলবাগানটি।  যেকোনো রিক্সাওয়ালাকে বললেই নিয়ে যাবে ফুলের স্বর্গরাজ্যে। 

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বেশ কয়েকটি সূর্যমুখী ফুলের বাগান আছে।  তার মধ্যে আরও একটি জনপ্রিয় স্থান লতিফপুর গ্রামে মো: শাহজাহানের সূর্যমুখী বাগানটি।  কালিয়াকৈর থেকে এ গ্রামটিও বেশ কাছে।  একদিনের ট্রিপ হিসেবে গাজীপুরের এসব ফুল বাগানে গিয়ে সহজেই ঘুরে আসতে পারেন। 

নরসিংদী

উন্নত যাতায়াত ব্যবস্থা ও ঢাকা থেকে কাছে হওয়ায় নরসিংদীর কামারগাঁও সূর্যমুখী বাগানে এখন পর্যটকদের ভিড় লেগেই থাকে।  এ ফুলের রাজ্য পরিদর্শনের জন্য ২০ টাকা দিয়ে টিকিট কেটে প্রবেশ করতে হবে বাগানে।  সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত খোলা থাকে বাগান।  সেখানে ১৫ বিঘা জমিতে এবার চাষ হয়েছে সূর্যমুখী। 

নরসিংদী স্টেশন থেকে রিক্সা বা অটো ভাড়া করে মাত্র ৫০ টাকায় আপনি যেতে পারবেন সূর্যমুখী বাগানে।  এ ছাড়াও নরসিংদী নতুন বাসস্ট্যান্ড থেকে যেতে চাইলে মাত্র ২০-৩০ টাকার মধ্যেই যেতে পারবেন।  বলিয়াপুর পৌঁছে সামান্য পায়ে হাঁটলেই পৌঁছে যাবেন সূর্যমুখী বাগানে। 

সাভার

সাভারের বলিয়ারপুরে এবারই প্রথমবারের মত সূর্যমুখী ফুল চাষ করা হয়েছে।  সূর্যমুখী ফুলের বাগান দেখতে সেখানে প্রতিদিনই দর্শনার্থীরা ভিড় জমাচ্ছেন।  ঢাকা থেকে সাভারের যেকোনো বাসে উঠে বরিয়ারপুরে যেতে পারবেন।  ২০-৩০ টাকার মধ্যেই যেতে পারবেন। 

এ ছাড়াও সাভারের ব্যাংক টাউন ব্রিজের পাশে আরও একটি সূর্যমুখী বাগান আছে।  যদি কেউ বলিয়ারপুরে যেতে কষ্টবোধ করেন; তাহলে এ বাগানে যেতে পারেন। 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

মাত্র ৫০০ টাকায় ঘুরে আসতে পারবেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সূর্যমুখী ফুল বাগান থেকে।  হলুদের এ স্বর্গরাজ্যে গিয়ে মুহূর্তেই অবাক হয়ে যাবেন আপনি!

ঢাকা কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন, ভৈরববাজার জাংশন, কিশোরগঞ্জ বাস স্ট্যান্ড, নন্দনপুর, মজলিশপুর বাজার, তারপর তিতাস নদী পার, তারপর ৩ ঘণ্টা হেঁটে সূর্যমুখী বাগান।  ভাবছেন অনেক কষ্ট হবে!

তবে আরেকটি উপায় আছে।  ঢাকা থেকে যেকোনো উপায়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মজলিসপুরে যেতে হবে।  তারপর বাজার থেকে নৌকা নিয়ে সরাসরি সুর্যমূখী প্রজেক্টের উদ্দেশ্যে।  এক্ষেত্রে নৌকা রিজার্ভ নিতে হবে। 

তাহলে যে পাড়ে নামাবেন সেখান থেকে হেঁটে যেতে ৩০-৪০ মিনিট লাগবে।  চেষ্টা করবেন যাতে দুপুরের মধ্যে পৌঁছাতে পারেন।  তাহলে সন্ধ্যার আগেই ঘুরে আসতে পারবেন। 

কুমিল্লা

মাত্র ২-৩ ঘণ্টায় আপনি চলে যেতে পারেন কুমিল্লার হলুদ রাজ্যে।  কুমিল্লার দেবীদ্বার গুনাইঘর পূর্বপাড়ায় এখন সূর্যমুখী ফুলের বাগান দেখতে ভিড় জমাচ্ছে দর্শনার্থীরা।  ঢাকা থেকে কাছে হওয়ায় অনেকেই সেখানে লং ড্রাইভে কিংবা বন্ধু-বান্ধব ও পরিবারসহ ঘুরতে যাচ্ছেন।