৪:৩৪ পিএম, ২৪ অক্টোবর ২০২১, রোববার | | ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩




ঋণের কঠিন শর্তে কেনা হচ্ছে রেলের ৭০ ইঞ্জিন

৩০ নভেম্বর -০০০১, ১২:০০ এএম | মোহাম্মদ হেলাল


এসএনএন২৪.কম : বাংলাদেশ রেলওয়ের ৭০টি আধুনিক ইঞ্জিন কিনতে সহজ শর্তে ঋণ মিলছে না।  ঋণ চেয়ে প্রস্তাব দেয়া হলেও সাড়া দেয়নি অধিকাংশ উন্নয়ন সহযোগী দেশ বা সংস্থা।  বাংলাদেশের প্রত্যাশা ছিল চীন, জাপান ও ইরান সাড়া দেবে।  কিন্তু তা হয়নি।  এ অবস্থায় শর্তযুক্ত ঋণ নেয়ার প্রস্তুতি চলছে।  কিন্তু এ ক্ষেত্রেও রয়েছে জটিলতা।  কেন না ইতিমধ্যেই সহজ শর্তে ঋণ নিতে রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টি (সভরেন গ্যারান্টি) দেয়ার বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় নীতিগত সম্মতি দিয়েছে।  কিন্তু কঠিন শর্তে ঋণ নিতে সে গ্যারান্টির সম্মতি বহাল থাকবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।  এ বিষয়ে অর্থ বিভাগের সুস্পষ্ট মতামত প্রয়োজন বলে পরামর্শ দিয়েছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)।  এ প্রসঙ্গে ইআরডির দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, অর্থ বিভাগ থেকে রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টি দেয়া হয়েছে শুধু সহজ শর্তের ঋণের জন্য।  প্রস্তাবিত ঋণটি অনমনীয় বিষয়ক স্থায়ী কমিটিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে।  সুতরাং এ ঋণ প্রস্তাবের জন্য রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টি বহাল থাকবে কিনা সে বিষয়ে অর্থ বিভাগের সুস্পষ্ট মতামত জানা প্রয়োজন। 

রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, রেলপথের উন্নয়ন, ডাবল লাইন স্থাপন, নতুন কোচ আমদানি, নতুন ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-লালমনিরহাট রুটে যাত্রীসেবার মান ধরে রাখতে ৭০টি মিটার গেজ ডিজেল ইলেকট্রিক (ডিই) লোকোমোটিভ সংগ্রহ করা খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে।  বাংলাদেশ রেলওয়েতে বর্তমানে মোট ২৮০টি লোকোমোটিভ রয়েছে।  এর মধ্যে ১৮৬টি এমজি (মিটার গেজ) এবং ৯৪টি বিজি (ব্রড গেজ)।  লোকোমোটিভের ইকোনমিক লাইফ টাইম ২০ বছর।  বাংলাদেশ রেলওয়েতে ১৯২টি লোকোমোটিভের ইকোনমিক লাইফ টাইম শেষ হয়ে গেছে।  এর মধ্যে ১৫৫টির (১০০টি এমজি এবং ৫৫টি বিজি) লোকোমোটিভের বয়স ৩০ বছরের বেশি।  আয়ুষ্কাল পার হয়ে যাওয়া লোকোমোটিভের রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় যেমন বেশি, তেমনি এসবের ফেইলিউরের সংখ্যাও বেশি।  বর্তমান অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে প্রস্তাবিত ৭০টি এমজি ডিজেল ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ কেনা সম্ভব না হলে সুষ্ঠু ট্রেন পরিচালনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশংকা রয়েছে।  সূত্র জানায়, রেলের এ অবস্থায় প্রস্তাবিত প্রকল্পের জন্য সহজ শর্তের ঋণ সংগ্রহে ২০১৪ সালের ২২ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর গণচীন ও জাপান সফর উপলক্ষে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে চীন ও জাপান সরকারের কাছে সহযোগিতার জন্য একটি প্রস্তাব দেয়া হয়।  তারও আগে ২০১৩ সালে ১৫-১৬ মে ঢাকায় অনুষ্ঠিত ইরান-বাংলাদেশ যৌথ অর্থনৈতিক কমিশনের (জেইসি) বৈঠকে এ প্রকল্পে অর্থায়ন প্রস্তাব করা হয়।  ওই প্রস্তাবে বলা হয়, ইরানের রফতানি উন্নয়ন ব্যাংকের অর্থায়নে এ প্রকল্পটি যেন বাস্তবায়ন করা হয়, সে জন্য ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ করা হচ্ছে।  কিন্তু কয়েক বছর পেরিয়ে গেলেও পরবর্তী সময়ে চীন, জাপান ও ইরান কোনো পক্ষই অর্থায়নের কোনো প্রস্তাব দেয়নি। 

অন্যদিকে ৭০টি মিটার গেজ (এমজি) ডিজেল ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) ক্রয় সংক্রান্ত প্রকল্পে ঋণ গ্রহণের বিষয়টি সরকারের জনগুরুত্বপূর্ণ উচ্চ অগ্রাধিকার কার্যক্রম কিনা সে বিষয়ে পর্যবেক্ষণ চাওয়া হয় অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) কাছে।  এর জবাবে সংস্থাটি বলেছে, প্রস্তাবিত প্রকল্পটি গ্রহণের আবশ্যকতা রয়েছে।  তবে তা জনগুরুত্বপূর্ণ বা উচ্চ অগ্রাধিকার কার্যক্রম হিসেবে কোনো অগ্রাধিকার বা প্রাধিকার তালিকাভুক্ত নয়।  এ ছাড়া প্রকল্পের ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) ২০১১ সালের ২৩ আগস্ট অনুমোদিত হলেও এখন পর্যন্ত বৈদেশিক অর্থায়ন ছাড়া প্রকল্পের আর্থিক ও ভৌত অগ্রগতি বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সেক্টর বা বিভাগ এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) মতামত দেয়া প্রয়োজন। 

সম্পাদনায় : রফিকুল ইসলাম-০৯