৫:৫৮ এএম, ১৫ নভেম্বর ২০১৮, বৃহস্পতিবার | | ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪০


‘কন্যা’ নয়, ‘ভগ্নি’ নয়, শুধুই গৃহকর্মী

৩০ নভেম্বর -০০০১, ১২:০০ এএম | মোহাম্মদ হেলাল


‘মেয়ে শিশুরা এ লেখাটা তোমরা পড়বে না, এটা শুধু ছেলে আর পুরুষদের জন্য লেখা’- এমন কথা কি লেখা যায়? লিখতে পারলে হয়তো খুব ভালো হতো।  মেয়ে শিশুদের এখন বেশ ঘটা করে ‘কন্যা’ বলা হচ্ছে।  তারে, বেতারে, ছাপায়, ছবিতে, চার মাধ্যমের তাবৎ কলা একই সঙ্গে নানা ঢঙে সেটা ধ্বনিত-প্রতিধ্বনিত করছে।  রাষ্ট্রও বলছে,  রাষ্ট্রযন্ত্র আর যন্ত্রণামন্ত্রী আর মন্ত্রণা কেউ আর বাকি থাকছে না সেধ্বনি ধ্বনিত করতে। 

 

 

এসব ন্যাকামি দেখে আমাদের অনুপম কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন এক বিরল কিন্তু অনিবার্য চপেটাঘাত করেছিলেন আদিখ্যেতা দেখানো অনির্বচনীয় অর্বাচীনদের।  তিনি লিখেছিলেন….‘কন্যা মানে সাধারণ ভাবে মেয়ে নয়, বরং ব্যক্তি বিশেষের দুহিতা। ’ সেলিনা হোসেন বুঝেছিলেন এটুকুতে কাজ হবে না।  তাই তারপর সহজ সরল উদাহরণ দিয়ে ন্যাকাদের মনের গরল দূর করার চেষ্টা করেছেন…..‘যেমন আবদুর রহিমের কন্যা সেলিনা খাতুন।  কিংবা এভাবেও বলা যায় যে, রোকেয়া বেগম একটি‘কন্যা’সন্তান প্রসব করেছেন।  আমাদের দেশে বিয়ের পাত্রীকেও ‘কন্যা’ বলা হয়।  বাংলা লোকসাহিত্যের নায়িকারাও ব্যাপক অর্থে ‘কন্যা’ শব্দ দিয়ে পরিচিত। ’

এরপর বিষয়টিকে আরো স্পষ্ট করার জন্য তিনি লোকপ্রিয় হুমায়ূন আহমেদের ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ ছায়াছবির রেফারেন্স নিয়ে এসেছেন, যাতে সব জানালা বন্ধ রাখে যারা একজনের বন্দনায় ব্যস্ত, এমন বুজদিল মানুষরাও যেন বুঝতে পারে কেইসটা কি? লিখেছেন… ‘এক যে ছিল সোনার কন্যা মেঘ বরণ কেশ/ ভাটি অঞ্চলে ছিল সেই কন্যার দেশ। ’এসব উদাহরণ থেকে এটা স্পষ্ট হয় যে ‘কন্যাশিশু’ শব্দটি ঠিক নয়।  আমরা যদি ব্যবহার করি তাহলে ভুল ব্যবহার করা হবে। ’

বলাবাহুল্য ভুল ব্যবহার বন্ধ হয়নি, চলছে-চলবে।  একবার চালু হলে বন্ধ করা কঠিন।  তারপর ওই ভুল শব্দ এবং বাক্য কেউ যদি পেটেন্ট নিয়ে নেন, তাহলে তো কথাই নেই।  বটগাছ না থাকলে ওর মনার অশ্বত্থ গাছের ছায়াতল যেমন বটমূল হয়ে গেছে তেমনই ‘কন্যাশিশু’ শব্দদ্বয় বদ্ধমূল হওয়ার পথেই এগিয়ে চলেছে।  এ নামে ‘আন্দোলন’ আন্দোলিত হচ্ছে মৃদুমন্দ বাতাসে আর বাতাসা খাচ্ছে নানান সংগঠন যার এখন সস্তা ডাকনাম‘ এনজিও’।  এসব ভুল নাম নিবন্ধিত হচ্ছে অধিদপ্তরে, মন্ত্রণালয়ে।  কারো গোঁফেই যেন মাছি বসছেনা।  সেলিনা হোসেনরা যতই বলুন- “মেয়ে শিশু দিবসের বদলে ‘কন্যাশিশু দিবস’ নামকরণ সমাজের একটি বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গির পরিচায়ক।  একটি ভুলশব্দ ব্যবহারের মধ্য দিয়ে মেয়েদের প্রতি সামাজিক মানবিকতার নেতিবাচক দৃষ্টিটিই প্রথমে ধরা পড়ে।  মেয়েরা যেন শিশু নয়, জন্মের পর থেকেই ওরা বয়স্ক নায়িকা কিংবা প্রেমিকা, মেয়ে শিশু দিবসের নামকরণের মধ্যেও এমন একটি অরুচিকর প্রকাশের ছাপ দেখা যায়।  আর কতকাল লাগবে এমন বৈষম্যের অবসান ঘটাতে? এ প্রশ্নের জওয়াব তুর পাহাড়, জয়তুন, ডুমুর, কাশবন, আমলকি, নদী, সাগর এমনকি বেঁচে থাকলে হুমায়ূন আহমেদও দিতে পারতেন না। 

অনেক আগে এদেশে জনাব-জনাবা নিয়ে একটা বাহাস হয়েছিল।  পুরুষের নামের আগে আরবি শব্দ ‘জনাব’ সম্মানসূচক সম্বোধন বিশেষ।  কোনো এক বুজ দিলবিল কুল না বুঝে বেমালুম জনাবের স্ত্রীলিঙ্গ করেছিলেন জনাবা।  ব্যাস দাওয়াত পত্রে লেখা হতে থাকল জনাবের পাশাপাশি জনাবা।  আরবিতে এবং পরিবর্তিত ফার্সিতে জনাবার যে মানে হয় তা লেখা যাবেনা।  নামের আগেতো নয়ই এমনকি তাঁকে বরবাদ করার ইচ্ছা থাকলেও না।  অনেক বাহাসের পর বাতাস ঘুরেছে এখন আর শব্দটি (জনাবা) নারীদের নামের আগে জেনেশুনে কেউ ব্যবহার করেন না। 

তবে ভুল-চুক যে একেবারে চুকে বুকে গেছে তা বলা যাবেনা।  হামেশা না হলেও ‘কখনো ভবিষ্যৎ’ শব্দটি এখনো ব্যবহার হয়।  তবে উজবুক, বুরবক, বেখবর আর খবর দিলদের সেবুনিয়াদী তর্ক বদ শব্দের বদ বুথে কেরে হাই দিয়েছে, মাফ করেছে।  আমাদের কিন্তু ‘কন্যা’ শব্দের দায়গ্রস্ততা থেকে মুক্তির কোনো আফতাফ-মাহতাব নজরে আসছেনা।  আফলাতুনরা এটা আঁকরে বসে আছেন।  “কেন কবিতাতে ও তো মেয়ে শিশুকে কন্যা শিশু বলেছেন মল্লিকা সেনগুপ্ত ; তাঁর গুজরাতি কন্যা শিশু কবিতায়।  সেটা কি তোমার নজরে পড়েনি? তবে কেন এত উত্তেজিত হচ্ছো? পড়োনি সেই বিখ্যাত চরণগুলো?

‘কানা ভাঙা সানকি হাতে
দাঙ্গার ত্রাণ শিবিরে
দাঁড়িয়েছে কন্যা শিশু
নিষ্পাপ গুজরাতিসে
ওকে দাও একটু রুটি
একটু আশার আলো
ওকে দাও পায়ের নিচে
দাঁড়ানোর শক্ত জমি…’

আমাকে উসকে দেয়ার জন্যই আমার জেদী বন্ধুর এসব অবতারণা।  ঢোক গিলে আমি বলি।  কবিতার প্রয়োজনে ঠাকুর কবি কুলায় এর সঙ্গে চুলায় মিলিয়েছেন।  সেবাক্য উত্তীর্ণ হয়েছে।  তাই বলে সকলের বলার বাক্যে পরিণত হয়নি।  মল্লিকতো একই বইয়ে আবার লিখেছেন- ‘আমি গুজারি মুসলিম মেয়ে নারদ পাতিয়া শিবিরে পালিয়ে এসেছি ধ্বংস পেরিয়ে আমাকে বাঁচতে দিবিরে। ’ আলোচনা ক্রমশ মল্লিকা কেন্দ্রিক হতে থাকে। ..’মেয়েটির কাছ থেকে একদিন তোমরা কেড়ে নিয়েছিলে বেদ পড়বার সুযোগও তোমরা বললে মেয়েরা শুধুই ঘরণী সংস্কৃতের অধিকারী শুধু পুরুষ মেয়েদের ভাষা, শূদ্রের ভাষা আলাদা হাজার বছর পেরিয়ে যখন মেয়েটি প্রস্তুতি নিল বালিকা বিদ্যালয়ের বেথুন এবং বিদ্যাসাগর সহায় তোমরা বললে, লেখাপড়া জানা মেয়েরা বিধবা হবেই তারপর যেই অফিসে পা দিল মেয়েটি শাশুড়ির মুখ হাড়ি হলো আর বরটি সন্দিহান তোমরা বললে, বউয়ের টাকা সংসারে কোন কাজের? ঝড়-ঝঞ্ঝার সঙ্গে মেয়ের যুদ্ধ…

পরের লাইনগুলো আর পড়তে পারিনা।  কানে ঢোকেনা- আমার মনে পড়ে আমার নিজের বোনের কথা।  হঠাৎ করে তিনি চলে যান সবাইকে ফেলে খুব কমবয়সে।  জন্ম ৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৪৫ সকাল ৬.৪৫ মিনিট, মৃত্যু ২৭ নভেম্বর ১৯৬৬ সকাল ৮.৪৫ মাত্র একুশ বছর বয়সে।  আমাদের ছয় ভাইয়ের একমাত্র বোন।  আবেগ দিয়ে, সোহাগ দিয়ে এরকম বোনকে নিয়ে অনেক সাহিত্য কবিতা রচনা করা যায়।  পাঠকের চোখের পানিতে ফারাক্কা ভেঙে ফেলা যায়, কিন্তু বাস্তবতা অন্য। 

একমাত্র কন্যা হতে পারে, ছয়কি আট ভাইয়ের একমাত্র বোনও হতে পারে, কিন্তু দিনের শেষে শুধু মেয়ে হওয়ার কারণেই সে একমাত্র ভৃত্য, একমাত্র গৃহকর্মী।  বোনটি যে সারাদিন কত কাজ করতেন তা হাড়ে হাড়ে টের পাই তার চলে যাওয়ার পরে।  তার সারাদিনের কাজের মাত্র একটা অংশ আমার ঘাড়ে এসে পড়ে।  কিছু কাজ হয়ে যায় একদম পারমান্যান্ট, কিছু অপশনাল কিছু ক্যাজুয়াল তবে সবগুলোই কম্পলসারি–বাধ্যতামূলক।  তখন বিদ্যুতের তার আমাদের সীমিত আয়ের মধ্যবিত্তের নাগালের মধ্যে ছিলনা।  লণ্ঠনের আলোতে রান্না, লেখাপড়া, চলাফেরা, অতিথি আপ্যায়ন, এগিয়ে দেয়া,এগিয়ে আনা সবই চলত।  সন্ধ্যার আগে পাঁচ সাতটা লণ্ঠনের কাচ পরিষ্কার করে তেল ভরে মাগরিবের আজানের সামান্য আগে সেগুলো জ্বালানো হতো।  খেলা শেষ হওয়ার আগেই মাঠ থেকে ফিরে আসতে হতো বিকেলে এ কাজটা করার জন্য।  ফলে আমাকে আর কেউ খেলায় নিতে চাইত না।  আমার বোন তার হঠাৎ মৃত্যুর আগের দিন পর্যন্ত প্রতিদিন এ কাজটা করতেন নিঃশব্দে।   আমরা ছয় ভাই কোনোদিন তা টের পাইনি বা আমলে নেইনি।  সন্ধ্যার আগে লণ্ঠন ব্যবস্থাপনা ছাড়াও হাঁস-মুরগিগুলোকে ঠিকমতো তাদের ঘরে বন্দি করা।  ছাগলগুলোর খাবার দিয়ে গলায় দড়ি পড়িয়ে ঢেঁকিঘরের পাশে বেঁধে রাখার কাজটাও কম ঝামেলার ছিলনা।  শীতের দিনে এসব ছাগলের আবার চটের জামা অথবা আসনের ব্যবস্থা করতে হতো। সকালে সেগুলো পরিষ্কারের কাজে ছিল, পৌষমাঘের কড়া ঠান্ডার দিনগুলোতে নিরাপদ আগুনের ব্যবস্থা করতে হতো। 

আমার বোনের কাজের তালিকা এখনো শেষ হয়নি।  ভাইদের কাপড়-চোপর বিশেষকরে স্কুলে যাওয়ার কাপড় ধোপদুরস্ত করে রাখার কাজটিও তাকেও করতে হতো।  আমাদের সবার ছোট ভাইটির পটিকরানো থেকে শুরু করে ঘুমপাড়ানোর কাজটাও ছিল তার জন্য বাঁধা।  একাজ আমাদের সকলের জন্যই তাকে করতে হয়েছে শুধু বাড়ির মেয়ে বলে।  হয়ত তার যখন পাঁচ বছর বয়সছিল, তখন থেকে তাকে এসবের শুরু হয়েছিল। 

আমরা দাদা-দাদীর সঙ্গে থাকার কারণে এই দুই প্রবীণের দেখাশোনার কাজটিও তাঁর জবডেসক্রিপশনে ছিল।  দাদী চোখে ভালো দেখতেননা বলে তার দৈনন্দিনের অনেক কাজ করে দিতে হতো- বুবুকেই তার সিংহভাগ সামলাতে হতো।  দাদা দাদিকে দেখতে আসতেন ফুফু চাচারা তাদের বালবাচ্চা নিয়ে।  এসব প্রাপ্তবয়স্ক ফুফু-চাচারা তাদের বাপের বাড়িতে এসে হয়ে যেতেন একেবারে শিশু কুটোটি দাঁতে কাটতেননা, তাদের বাচ্চা-কাচ্চাদের বেবীসিটার হয়ে যেতেন আমাদের বুবু।  যেমন তেমন বেবীসিটারনয়! ! তাকে পদে পদে প্রমাণ করতে হতো বুবু আমার অনেক বড় হয়েছে।  লক্ষ্মী হয়েছে।  সাত চড়ে রাকরেনা।  সবকিছু সামলিয়ে চলতে জানে। 

এর মধ্যেই বুবুকে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হতো।  কোনো পরীক্ষায় খারাপ করলে রক্ষা ছিলনা।  বুবু যখন চলেযান তখন বিএ থার্ড ইয়ারে পড়তেন,  ছয় মাস পড়ে তার ফাইনাল পরীক্ষা ছিল। সবকিছু সামলিয়ে হালকা পাতলা রোগা শরীরের এই বোনটা কীভাবে পড়া শোনার মতো কঠিন কাজটা করে যেতেন তা ভাবতে অবাক লাগে।  বোনকে কি কোন সময় খেতে দেখেছি ? মনে পড়েনা।  সবার শেষে মার সঙ্গে বসে বোধ হয় খেতেন যা থাকত আমাদের খাওয়ার পর। 

বছরে এক বার আমরা মামার বাড়ী যেতাম কখনো ঈদের পর কখনো গরমের ছুটিতে।  বুবুর কিন্তু যাওয়া হতো না।  দাদা-দাদীকে তাহলে কে দেখবে? হাঁস-মুরগি ছাগলের কিহবে?  বুবুর নিশ্চয় খুব কষ্ট হতো।  আমাদের সাজিয়ে গুছিয়ে দিতেন।  কানে কানে বলতেন তুই থাক, তোকে রোজ পরোটা ভেজে দেব।  মামার বাড়ি গিয়ে ভাবতাম,  বুবুর কি মজা !  বাড়িতে একা বসে বসে পরোটা ভাজছে আর খাচ্ছে।  প্রতি বার ফিরে এসে জানতে চাইতাম,  কয়টা পরোটা খেয়েছিস বুবু।  বুবু হাসতেন।  বুবু চলে যাওয়ার পর বুঝেছিলাম,   আসলে কোনো পরোটা তার ভাগ্যে কখনো জোটেনি।  গৃহকর্মী ভৃত্য দের কি কখনো পরোটা জোটে?

আমার বোন টা চলে যাওয়ার পর খুব কেঁদেছিলাম।  বুক ভাসিয়ে কাঁদা যাকে বলে।  দশ মিনিট আগে যে বোন পড়ার টেবিলে বসে পড়া দেখিয়ে দিয়েছেন, তার হঠাৎ চলে যাওয়া সহজে মেনে নেয়া যায়কি?  যাহোক আমার আহাজারি কান্না থামাতে এসে আমার দাদা বলেছিলেন, কান্না থামাও,  এখন রোজই কাঁদতে হবে।  তখনই সে কথার মানে বুঝিনি,  কিন্তু যতোই দিন গেছে বুঝেছি সে কথার মানে।  তার কাজগুলো করতে গিয়ে আনাড়ী হাতে তাকরতে না পেরে কেঁদেছি বুবুর জন্য,  আর তাঁর প্রতি আমাদের অবহেলার জন্য।  মনে হয়েছে ইস পরোটার লোভে মামার বাড়ি না গিয়ে বুবুর কাছে থাকল বুবুকে একা ঘরে কাঁদতে হতো না। 

আমার কাছে এখনো বড় আজব মনে হয় বুবুর চলে যাওয়ার পর আমার বাবার আহাজারির ভাষা শুনে।  তার খুব দুশ্চিন্তা ছিল আমার বোনকে নিয়ে-  আমাদের কাছের দূরের পরিবারের সকল সদস্য সদস্যকে ছাড়িয়ে প্রথম একজন নারী পড়াশোনা করে, এগিয়ে যাচ্ছে।  এতে খুশি না হয়ে সবাই আশঙ্কায় ভুগেছেন।  বিএ পাস মেয়ের উপযুক্ত বরজোটাবেন কি করে? তার মৃত্যু বাবার সে দুশ্চিন্তাকে দূর করেছে।  এটা হয়ত তিনি রূপক অর্থে আহাজারির মধ্যে নিয়ে এসেছিলেন, কিন্তু এচিন্তাটাতো ছিলই। 

তাই মনে হয় কন্যা বললে একটা দায়গ্রস্ততারব্যাপার আসে ভগ্নি বললে, কতিপয় কর্তব্যের কথা আসে কিন্তু মেয়ে শিশু বললে তার স্বাধীনসত্ত্বাটাকে স্বীকার করা হয়। সে কারো দায় নয়, কারো চক্ষু লজ্জার কর্তব্যও নয়।  সে একজন মানুষ, সে- তিনি হয়ে উঠতে পারেন সুযোগ পেলেই।  শক্ত জমিনে মুক্ত পায়ে দাঁড়ানো তার কাছে কোনো ব্যাপার নয়।   

‘করতলগত আমলকী এই দুনিয়া
বোতাম টিপলে মেয়ের হাতের মুঠোয়
এক দিন যাকে অক্ষর জ্ঞান দাওনি
তার হাতে আজ…বিশ্ব’
হতে পারে- হতে দিলে। 
নাদিলেও হবে একদিন। 

লেখক : শিশু অধিকার কর্মী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক।