৩:৪১ পিএম, ২৪ অক্টোবর ২০২১, রোববার | | ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩




দীর্ঘ ১০ মাস পর উৎপাদনে ফিরছে আরএসআরএম

২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:২১ এএম |


এসএনএন ২৪ ডেস্ক: 

প্রথমে সাবস্টেশন বিকল হওয়ার কারণে রতনপুর স্টিল রি-রোলিং মিলস লিমিটেডের (আরএসআরএম) কারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।  এরপর বিদেশি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের যন্ত্রাংশ সরবরাহ দিতে ব্যর্থতা, সরবরাহকারীর পোর্টে জাহাজ জট, বিদেশি প্রকৌশলীদের মধ্যে করোনাভাইরাস সংক্রমণের হার ঊর্ধ্বমুখী থাকা, দীর্ঘদিন অব্যবহƒত থাকায় অন্যান্য যন্ত্রপাতিতে যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা দেয়া প্রভৃতি কারণে প্রতিষ্ঠাটির উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করতে বিলম্ব হতে থাকে।  এসব কারণে প্রায় ১০ মাস উৎপাদন বন্ধ থাকার পর উৎপাদনে ফিরতে প্রস্তুত হচ্ছে আরএসআরএম। 

রতনপুর স্টিল রি-রোলিং মিলস লিমিটেড সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রামভিত্তিক ইস্পাত খাতের প্রতিষ্ঠানটিতে গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর ইঞ্জিনিয়ারিং ত্রুটি দেখা দেয়।  এ কারণে বিদ্যুৎ সাবস্টেশনের জাতীয় গ্রিডের জিআইএস ব্রেকার ও সুইচ গিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়।  এতে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।  এরপর ১৩২/১১ কেভি সাবস্টেশনের জিআইস ব্রেকারের যন্ত্রপাতি চীন হতে আমদানি করা হয়।  তবে দেশীয় প্রকৌশলীরা সাবস্টেশন মেরামতের কাজে সফল হননি।  পরে বিষয়টি চীনের প্রকৌশলীদের জানানো হয়।  তারা সাবস্টেশন মেরামত করার জন্য একটা যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশের তালিকা পাঠায়।  সে অনুসারে যন্ত্রপাতির ও যন্ত্রাংশের জন্য এলসি ওপেন করে।  কিন্তু যন্ত্রপাতির ও যন্ত্রাংশগুলোর মডেল সহজলভ্য না হওয়ার কারণ দেখিয়ে সরবরাহকারীরা নির্দিষ্ট সময়ে যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ দিতে পারেনি।  এমনকি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট মডেলের যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ বানাতে সময় নিয়েছে। 

পরবর্তীকালে সমুদ্রবন্দরে জাহাজ জট থাকায় যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ সময়মতো আনা সম্ভব হয়নি।  আর বিকল্প উপায় হিসেবে জুলাই মাসে যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশগুলো কার্গো বিমানে করে দেশে আনা হয়।  এরপর আগস্ট মাসের শুরুর দিকে চীনা প্রকৌশলীরা দেশে আসেন।  তারা কোয়ারেন্টাইন শেষ করে আগস্ট মাসের শেষের দিকে মেরামতের কাজ শেষ করে।  অন্যদিকে দীর্ঘ সময় ধরে উৎপাদন বন্ধ থাকায় প্রতিষ্ঠানের মেশিনারিজগুলো ওভারহোলিং করতে হচ্ছে।  এ কাজে বর্তমানে কোম্পানির নিজস্ব প্রকৌশলীরা দিনরাত কাজ করছেন।  সব ঠিকটাক থাকলে চলতি সপ্তাহে পরীক্ষমূলক উৎপাদন শুরু করবে।  এরপর পুরোদমে বাণিজ্যিক উৎপাদনে ফিরবে রতনপুর রি-রোলিং মিলস লিমিটেড। 

আরএসআরএমের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, কিছু জটিলতার কারণে আমাদের কারখানা বন্ধ ছিল।  এখন চালুর প্রক্রিয়া শেষ দিকে।  আশা করছি, কিছুদিনের মধ্যে চালু হলে আগের মতো ইস্পাত সরবরাহ করতে পারব।  তারা বলেন, আমাদের দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা ৮০০ টন।  যদিও আমরা ৪৫০ টন উৎপাদন করতাম।  তবে আমরা এখন উৎপাদন সক্ষমতার পুরোপুরি কাজে লাগাব।  কারণ আগের কিছু অর্ডার স্থগিত ছিল, তা সরবরাহ করতে হবে। 

আরএসআরএম কোম্পানি সচিব মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন  বলেন, ‘কারখানা চালু করার জন্য আমাদের পরিচালনার পর্ষদ চেষ্টা করছে।  এটা বলতে পারি দ্রুত সময়ে আগের মতো উৎপাদনে ফিরে যাচ্ছি। ’ গত বছরের লভ্যাংশ পরিশোধের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা কারখানা চালু হওয়ার পর বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ দিয়ে দেব।  এরপর আমরা রাইট শেয়ারের বিষয়টি নিয়ে কাজ করব। 

আরএসআরএম পরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, মূলত সাবস্টেশন জটিলতায় আমাদের উৎপাদন বন্ধ ছিল।  আর করোনাভাইরাস সংক্রমণের হার বেশি থাকায় বিদেশি প্রকৌশলীরা সময়মতো আসতে পারেননি।  পাশাপাশি বিদেশি সমুদ্রবন্দরে জাহাজ জট থাকায় বিকল্প হিসেবে যন্ত্রপাতিগুলো কার্গো বিমানে আনা হয়।  সেখানেও কিছুটা সময় লেগেছে।  এর মধ্যে আবারও শুরু হলো টানা লকডাউন আর বৃষ্টি।  সবমিলিয়ে সময় লেগেছে।  এখন আমরা পুরোপুরি বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করতে প্রস্তুত।  তবে আগে পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু হবে।  কারণ যন্ত্রপাতিগুলো সঠিক কাজ করছে, কিংবা উৎপাদিত পণ্যের ভালো মান নিশ্চিত হচ্ছে কিনা পরীক্ষা করে দেখতে হবে।  আর সব ঠিকঠাক থাকলে দ্রুত সময়ে উৎপাদনে আসব। 

উল্লেখ্য, চট্টগ্রামভিত্তিক রতনপুর গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান আরএসআরএমের মূল ব্যবসা ইস্পাত উৎপাদন ও বিপণন।  প্রতিষ্ঠানটি ২০১৪ সালের পুঁিজবাজারের তালিকাভুক্ত হয়।  প্রতিষ্ঠানটির বর্তমানে পরিশোধিত মূলধন ১০১ কোটি টাকা।  আর ‘এ’ ক্যাটেগরির  প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোক্তা পরিচালকদের ৪৫ দশমিক তিন শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ১৯ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ৩৩ দশমিক ৪৭ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।  গত বৃহস্পতিবার দিনশেষে ডিএসইতে শেয়ারদর ছিল ৩৪ দশমিক ২০ টাকা।