৪:০৭ পিএম, ২৪ অক্টোবর ২০২১, রোববার | | ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩




আজ শিবগঞ্জ মুক্ত দিবস

৩০ নভেম্বর -০০০১, ১২:০০ এএম | মোহাম্মদ হেলাল


 আশরাফুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ : ১৯৭১ সালের ১২ ডিসেম্বর চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ থানা মুক্ত হয়।  শিবগঞ্জ মুক্ত করতে মুক্তিযোদ্ধাদের পাক হানাদার বাহিনীর সঙ্গে কোন মুখোমুখী যুদ্ধ করতে হয়নি।  শিবগঞ্জ থানা সদর মুক্ত করতে মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন দল যখন শিবগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে আক্রমনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তখন ১১ ডিসেম্বর রাতেই তাদের কাছে স্থানীয় মানুষজন খবর দেন যে, রাজাকার-আলবদর ও থানার পুলিশকে ফেলে রেখে পাকসেনারা এ দিন রাতেই ডিসেম্বর রাতে শিবগঞ্জ ছেড়ে চাঁপাইনবাগঞ্জ সদরের দিকে পালিয়ে গেছে।  এ খবর নিশ্চিত হওয়ার পর ১২ ডিসেম্বর বেলা ২টা-আড়াইটার দিক থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন দল একের পর এক শিবগঞ্জ সদরে ঢুকে পড়ে।  পরিপূর্ণভাবে মুক্ত হয় শিবগঞ্জ থানা। 

প্লাটুন কমান্ডার নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি দল প্রথমে থানায় ঢুকে এবং অবাঙালি পুলিশকে আত্মসমর্পণ করিয়ে থানা হাজতে আটকে রাখে।  এ থানার অস্ত্র দখলে নেয় মুক্তিযোদ্ধারা।  নজরুল ইসলাম বলেন, এসময় স্কুল শিক্ষক জাকারিয়ার নেতৃত্বে সাধারণ মানুষের একটি দল 'জয় বাংলা' স্লোগান দিতে দিতে এগিয়ে আসে।  জাকারিয়া মাষ্টার বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত একটি জাতীয় পতাকা আমার হাতে তুলে দেন।  আমি থানায় প্রথম মুক্ত শিবগঞ্জে পতাকা ওড়ায়। 
এ ঘটনা নিশ্চিত করেন সতীর্থ মুক্তিযোদ্ধা বর্তমান শিবগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার।  তিনি বলেন, শিবগঞ্জ মুক্ত হওয়ার সময়টিতে ব্যাপক মানুষের ঢল না নামলেও অনেক মানুষ সেদিন রাস্তার দু'ধারে দাঁড়িয়ে জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের স্বাগত জানায়।  সাধারণ মানুষের মনে তখনও ভয়ভীতি কাজ করছিল।  মুক্তিযোদ্ধাদের এ বিজয় স্থায়ী হবে কিনা এ নিয়ে তাদের মনে তাৎক্ষনিকভাবে কিছুটা দ্বিধাদ্বন্দ কাজ করছিল।  ভাবছিল উচ্ছাস দেখাতে গিয়ে পাছে পাকিস্তানী চরদের নজরে পড়ে না জানি কোন নির্যাতনের মুখে পড়তে হয়। 
শিবগঞ্জ মুক্ত হওয়া নিয়ে কথা হয় মুক্তিযোদ্ধাদের কোম্পানী কমান্ডার, বর্তমানে জেলা বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক শাহজাহান মিঞা, উপজেলা ইউনিট কমান্ডার সহ অনেকের সঙ্গে। 
শাহজাহান মিঞা বলেন, আমার নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধাদের বড় একটি দল শিবগঞ্জে ঢোকে ১১ ডিসেম্বর বিকাল সাড়ে ৩টা-৪টার দিকে।  পাক বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়ে আমার পিতা ফয়েজ উদ্দীন আহমেদ থানায় বন্দী ছিলেন।  মুক্তিযোদ্ধারা তাঁকে মুক্ত করেন।  শিবগঞ্জ মুক্ত করার দিন ১২ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় আমরা বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মুক্ত করার জন্য অগ্রসর হই।  চাঁপাইনবাবগঞ্জ মুক্ত করার সম্মুখ যুদ্ধে অকুতোভয় ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর ১৪ ডিসেম্বর শহীদ হন। 

সম্পাদনা : চৌধুরী-১৬/এসএনএন-১২ ডিসেম্বর, ২০১৬