৫:১৫ এএম, ৮ ডিসেম্বর ২০২২, বৃহস্পতিবার | | ১৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪




যদি একশব্দে হয় বাঁধা, তবে তার নাম ‘ভালোবাসা’

১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১০:০৪ এএম |


এসএনএন২৪.কম: স্নেহ, প্রীতি-বন্ধন, প্রেম আর কৃতজ্ঞতা-শ্রদ্ধায় গড়া আমাদের এই নিত্য জীবন।  এগুলোকে যদি একশব্দে বাঁধি, তাকেই বলবো ‘ভালোবাসা’। 

বাবা-মায়ের প্রতি সন্তানের, সন্তানের প্রতি বাবা-মায়ের, ভাই বোনের পারস্পরিক, স্রষ্টার প্রতি সৃষ্টির কিংবা সৃষ্টির প্রতি স্রষ্টার অথবা সবচেয়ে বেশি প্রচলিত প্রিয়-প্রিয়ার এই যে হরেক রকমের সম্পর্ক, সেটাই তো ভালোবাসা! কিন্তু ভালোবাসার জন্য কি বিশেষ কোনো দিনের দরকার! তারপরও পৃথিবীর তাবৎ প্রেমিক-প্রেমিকারা একটি দিন পালন করে আসছে। 

সোমবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সেই দিন।  আজ বিশ্ব ভালোবাসা দিবস বা ভ্যালেন্টাইন ডে।  প্রিয়ার মাঝে নিজেকে খুঁজে পাওয়ার সেই দিনটিই আজ। 

এদিকে, বুধবার বাসন্তী আর হলুদ রংয়ে ছেয়েছে দেশ।  ফাগুনের প্রথম প্রহরে ঋতুরাজ বসন্তকে বরণ করে নিতে নানা আয়োজন।  সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে বেঙ্গল পরম্পরার যন্ত্রসহযোগে ধ্রুপদী সঙ্গীতের মূর্ছনায় শুরু হয় বসন্ত উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা।  সেই সুর বসন্ত বন্দনা শেষ করে রূপ নেয় ভালোবাসায়। 

নব দখিনা সমীরণে পাগল হৃদয় ইতোমধ্যে দারুণ প্রেমকাতর।  বসন্তের সৌরভ ছড়ানো আজকের ভালোবাসা দিবসে প্রেমদেব হৃদয়বন্দর থেকে তুলে আনা রক্তরাঙা গোলাপটি তুলে দেবে প্রিয়ার হাতে।  লজ্জা, সংকোচ আর ভীরুতা কাটিয়ে হৃদয়ের গহিনে অনেক দিনের সঞ্চিত প্রিয় বাক্য ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি’ বলে ফেলতে পারেন কেউ।  সেই বাক্যে বসন্তের উতল হাওয়ার সঙ্গে উদ্বেলিত হবে প্রিয় মানুষটির হৃদয়। 

ভালোবাসা দিবস যুগলদের মনের এই উচ্ছ্বাসকে বাড়িয়ে দেবে কয়েকগুণ।  শুধু তরুণ-তরুণী নয়, নানা বয়সের মানুষই ভালোবাসার এই দিনে একসঙ্গে সময় কাটাবেন।  দিনটি পশ্চিমা সংস্কৃতির অনুষঙ্গ হলেও ভ্যালেন্টাইনস ডে বা ভালোবাসা দিবসে বাঙালি মনের ভালোবাসাও যেন পায় নতুন রূপ। 

আজকের এ ভালোবাসা শুধুই প্রেমিক আর প্রেমিকার জন্য নয়।  মা-বাবা, স্বামী-স্ত্রী, ভাই-বোন, প্রিয় সন্তান এমনকি বন্ধুর জন্যও ভালোবাসার জয়গানে আপ্লুত হতে পারে সবাই।  চলবে উপহার দেওয়া-নেওয়া।  রাজধানীসহ সারাদেশে বিভিন্ন আয়োজন ও আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে সারা দিন ঘোরাঘুরি করে কাটাবে ভালোবাসার মানুষগুলো।  তাদের পরনে বাসন্তী, লাল, নীল, সাদা, বেগুনি, গোলাপী বিভিন্ন রঙের পোশাক আর সাজসজ্জায় ভালোবাসার দিনটি যেন বর্ণিল রঙে হয়ে উঠবে রঙিন। 

ইতিহাসবিদদের মতে, দুটি প্রাচীন রোমান প্রথা থেকে এ উৎসবের সূত্রপাত।  এক খ্রিস্টান পাদ্রী ও চিকিৎসক ফাদার সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের নামানুসারে দিনটির নাম ‘ভ্যালেন্টাইন ডে’ করা হয়।  ২৭০ খ্রিস্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারি খ্রিস্টানবিরোধী রোমান সম্রাট গথিকাস আহত সেনাদের চিকিৎসার অপরাধে সেন্ট ভ্যালেন্টাইনকে মৃত্যুদণ্ড দেন।  মৃত্যুর আগে ফাদার ভ্যালেন্টাইন তার আদরের একমাত্র মেয়েকে একটি ছোট্ট চিঠি লেখেন, যেখানে তিনি নাম সই করেছিলেন ‘ফ্রম ইওর ভ্যালেন্টাইন’।  সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের মেয়ে এবং তার প্রেমিক মিলে পরের বছর থেকে বাবার মৃত্যুর দিনটিকে ভ্যালেন্টাইন ডে হিসেবে পালন করা শুরু করেন।  যুদ্ধে আহত মানুষকে সেবার অপরাধে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত সেন্ট ভ্যালেন্টাইনকে ভালোবেসে দিনটি বিশেষভাবে পালন করার রীতি ক্রমে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। 

ভ্যালেন্টাইন ডে সার্বজনীন হয়ে ওঠে আরও পরে প্রায় ৪০০ খ্রিস্টাব্দের দিকে।  দিনটি বিশেষভাবে গুরুত্ব পাওয়ার পেছনে রয়েছে আরও একটি কারণ।  সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের মৃত্যুর আগে প্রতি বছর রোমানরা ১৪ ফেব্রুয়ারি পালন করত ‘জুনো’ উৎসব।  রোমান পুরানের বিয়ে ও সন্তানের দেবী জুনোর নামানুসারে এর নামকরণ।  এ দিন অবিবাহিত তরুণরা কাগজে নাম লিখে লটারির মাধ্যমে তার নাচের সঙ্গীকে বেছে নিত।  ৪০০ খ্রিস্টাব্দের দিকে রোমানরা যখন খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীতে পরিণত হয় তখন ‘জুনো’ উৎসব আর সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের আত্মত্যাগের দিনটিকে একই সূত্রে গেঁথে ১৪ ফেব্রুয়ারি ‘ভ্যালেন্টাইন ডে’ হিসেবে উদযাপন শুরু হয়।  কালক্রমে এটি সমগ্র ইউরোপ এবং ইউরোপ থেকে বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। 


keya