১:২৭ এএম, ১০ আগস্ট ২০২২, বুধবার | | ১২ মুহররম ১৪৪৪




চাঁদা না দেয়ায় লাশবাহী এ্যাম্বুলেন্স ভাংচুর ও চালককে পিটিয়ে আহত

৩০ নভেম্বর -০০০১, ১২:০০ এএম | মোহাম্মদ হেলাল


 

হাবিব সরোয়ার আজাদ, সুনামগঞ্জ : চাঁদা না দেয়ায় হাসপাতাল গেইটের ভেতর ডুকে লাশবাহী এ্যাম্বুলেন্স ভাংচুর ও চালককে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।  সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল গেইটে মঙ্গলবার রাতে এ্যাম্বুলেন্স ভাংচুর ও সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন পৌর শহরের হাসননগর সুলতানপুরের মৃত আসকর আলীর ছেলে শাহ আলম (৩৮)।  গুরুতর আহত অবস্থায় রাতেই চালককে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 

প্রত্যক্ষদর্শী ও হামলার শিকার চালক শাহ আলম জানান, পৌর শহরের হাসননগর সুনলতানপুরের আবেদ আলীর ছেলে নুরুল (২৫) মঙ্গলবার রাতে ৪ থেকে ৫ সহযোগীকে নিয়ে সদর হাসপাতালের গেইটের ভেতর ডুকে প্রতি লাশের ট্রিপের জন্য শাহ আল আলমের নিকট ৫’শ টাকা করে দিতে চাঁদা দাবি করে।  এর আগের রাতে সদর হাসপাতাল থেকে সিলেটে এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রোগী নিয়ে যাওয়ায় ৫’শ টাকা পরিশোধের চাঁপ দিলে শাহ আলম তা দিতে অস্বীকার করলে তার ব্যাক্তিগত লাশবাহী এ্যাম্বলেন্স (সুনামগঞ্জ-চ-৭১-০০০৭) ভাংচুর করে।  ভাংচুরে শাহ আলম বাঁধা দিতে এলে তাকে নুরুল ও তার সহযোগীরা বেধরক ভাবে পিটিয়ে নাক মুখ দিয়ে রক্ত বের করে ও সড়কে ফেলে উপর্যুপরী লাথিতে বুকে এবং হাতে জখম করে।  পরে আশেপাশে থাকা অন্য চালক ও প্রত্যক্ষদর্শীরা এসে শাহআলমকে দুবৃত্তদের কবল থেকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করেন। 

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা হতদরিদ্র চালক শাহ আলম বুধবার বিকেলে  জানান, আমি গরীব মানুষ কয়েকবছর অন্যত্র চাকুরি করে ও ধারদেনা করে এ্যালেন্সটি কিনে ছিলাম, এ আমার রুটি রুজির একমাত্র উৎস সেটিও তারা  ভাংচুর করল, এখন থানায় গিয়ে আইনি সহায়তা নিতে গেলে আমার ঘরবাড়ি ভাংচুর ও এলাকা ছাড়া করারও হুমকি দিচ্ছে নুরুল এবং তার সহযোগীরা। 

এ ব্যাপারে নুরুলের সাথে সন্ধ্যায় তার মুঠোফোনে বক্তব্য জানতে চাইলে তার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ অস্বীকার করে  বলেন, হাসপাতালের ভেতর ওরা ( ড্রাইভারা) নেশা করে তাই শাহ আলমকে কয়েকটা চরথাপ্পন দিয়েছি।   নেশা করলে পুলিশে খবর দিয়ে আইনি ব্যবস্থা নেয়া যেত কিন্তু আপনি আইন নিজের হাতে তুলে নিলেন কেন ? এমন প্রশ্নের জবাবে নুরুল বলে আমি ফার্নিচার ব্যবসা করি , চাঁদা আদায় করিনা, আসলে আমার ভুল হয়ে গেছে। ’

ভয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালে একাধিক কর্মচারি ও এ্যাম্বুলেন্স চালকরা বলেন, নুরুল বেপরোয়া , হাসপাতালের পাশেই তার বাড়ি, প্রায়ই লাশ কিংবা রোগী পরিবাহী চালকদের নিকট ১’শ ৫০টাকা চাঁদা দাবি করে, মারধোর আর গাড়ি ভাংচুরের ভয়ে কেউ কেউ আমরা চাঁদা দিতে বাধ্য হচ্ছি। ’

সদর মডেল থানার ওসি মো. হারুন অর রশীদ চৌধুরী  বলেন, ওই চালক আইনি সহায়তা নিতে চাইলে থানা পুলিশের পক্ষ থেকে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

 

সম্পাদনায় - নিশি / এসএনএন২৪.কম


keya