৯:৪৫ এএম, ২২ আগস্ট ২০১৯, বৃহস্পতিবার | | ২০ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০




চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে রমজানের পূর্বেই উঠা-নামা করছে বিভিন্ন পণ্যের দাম

০৮ মে ২০১৭, ০৯:৩৬ এএম | জাহিদ


মনিরুল ইসলাম মুন্না, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট : শীঘ্রই আসছে মাহে রমজান ।  রোজাকে সামনে রেখে ভোগ্যপণ্যের বাজারে এরই মধ্যে উঠানামা করছে বিভিন্ন পণ্যের দাম।  এতে অস্থির হয়ে উঠেছে বাজার, দিশেহারা হয়ে পড়েছেন মধ্যম সারির ব্যবসায়ীরা। 

প্রতিবছর রমজান আসলেই চিনি, ছোলা ও তেলের বাজার নিয়ে কারসাজি শুরু হয়।  গত বৃহস্পতিবার বিকেলে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আমদানিকারক, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এক সভায় আলোচনার মাধ্যমে জেলা প্রশাসক পণ্যগুলোর দাম নির্ধারণ করে দেন। 

সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নগরীর বৃহত্তম পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে প্রতি কেজি ছোলা পাইকারি পর্যায়ে ৭৫ থেকে ৮০ টাকা এবং খুচরা পর্যায়ে ৮০ থেকে ৮৫ টাকায় বিক্রি হবে।  প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হবে পাইকারি পর্যায়ে ৫৮ থেকে ৬০ টাকায় এবং খুচরা পর্যায়ে ৬২ থেকে ৬৩ টাকায়।  জেলা প্রশাসন থেকে দাম নির্ধারণ করে দেওয়ার পরেও সন্তুষ্ট নয় সাধারণ জনগণ। 

এদিকে আরেক ক্রেতা জানান, গত ১৫ দিন আগে যে দাম ছিলো তা এখন ডলারের দাম বৃদ্ধি হওয়ার ফলে পরিবর্তন হয়েছে। 

প্রতিবছর রমজান আসলেই অতিরিক্ত লাভের আশায় প্রত্যেকটি পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয় বলে জানায় এ সচেতন ব্যবসায়ী-

ছোলার বাজারে এক মাসের ব্যবধানে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা বেড়ে বর্তমানে প্রতি মণ সর্বোচ্চ ২ হাজার ৮৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।  এক মাস আগেও মণ প্রতি ছোলা বিক্রি হয়েছিল ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকায়।  একই অবস্থা ভোজ্যতেলের বাজারেও।  কিছুদিন আগেও পাম অয়েল লেনদেন হয়েছিল মণপ্রতি ২ হাজার ৪৫০ টাকায়।  দুই মাসের ব্যবধানে পণ্যটির দাম বেড়ে ২ হাজার ৬২০ টাকা পর্যন্ত দাঁড়ায়।  এক সপ্তাহ ধরে পাম অয়েলের দাম কিছুটা কমে ২ হাজার ৫৪০ টাকায় লেনদেন হচ্ছে।  প্রতি মণ সুপার পাম অয়েল বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৬৮০ থেকে ২ হাজার ৭০০ টাকায়।  আর সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৮৩০ থেকে ২ হাজার ৮৫০ টাকায়। 

এদিকে চাক্তাইয়ের চালের বাজার ঘুরে দেখা যায়, মোটা চালের দাম প্রতি কেজি ৪০ টাকা, গোবিন্দভোগ ৪৫ টাকা ও চিনিগুড়া ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে জানান চট্টগ্রাম রাইচ মিল মালিক সমিতির সভাপতি শান্ত দাশ গুপ্ত। 

চট্টগ্রামের মানুষরা উদারতার দিক দিয়ে এগিয়ে থাকলেও ঢাকার ব্যবসায়ীরা তার ধারে কাছেও নেই।  আগে একসময় খাতুনগঞ্জ থেকে বাজার নিয়ন্ত্রণ হতো এখন তা অন্যান্য ব্যবসায়ীর হাতে চলে গেছে বলে জানান, খাতুনগঞ্জ ট্রেড এন্ড ইন্ডাস্ট্রি এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ছৈয়দ ছগীর আহমদ। 

তবে জেলা প্রশাসনের নির্দেশ, ঈদ পর্যন্ত নির্ধারিত দামে বিক্রি করতে হবে।  যারা জেলা প্রশাসনের নির্ধারিত দামে বিক্রি করবে না তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং জেলা প্রশাসনের পাঁচটি দল নিয়মিত বাজার তদারকি করবে।