১১:১০ এএম, ২২ নভেম্বর ২০১৭, বুধবার | | ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

South Asian College

অন্ত:স্বত্বা গৃহবধুর আত্বহত্যার ঘটনায় স্বামী ও দেবর গ্রেফতার

২০ আগস্ট ২০১৭, ১২:২৫ পিএম | নিশি


নিজস্ব প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে স্বামীর পরিবারের লোকজনের নির্যাতন সইতে না পেরে চার মাসের চার মাসের গর্ভজাত সন্তানকে পেঠে রেখেই এক অন্ত:স্বত্বা গৃহবধুর আত্বহত্যার ঘটনায় শনিবার রাতে থানা পুলিশ স্বামী ও দেবরকে গ্রেফতার করেছে। ’ নিহতের নাম, মুক্তামণি (২২)। ’ সে উপজেলার বাদাঘাট উওর ইউনিয়নের লামাপাড়া গ্রামের আবু সুফিয়ানের মেয়ে। ’

জানা গেছে, উপজেলার বাদাঘাট উওর ইউনিয়নের লামাপাড়া গ্রামের দিনমজুর আবু সুফিয়ানের মেয়ে মুক্তামণির সাথে পাশর্^বর্তী পাঠান পাড়া গ্রামের আবদুল মালেকের ছেলে নুরুল আমিনের বিয়ে হয় প্রায় সাত মাস পুর্বে।  বিয়ের পর থেকেই নানা অজুহাতে স্বামী সহ তার পরিবারের লোকজন যৌতুকের জন্য চাঁপ সৃষ্টি করে আসছিলো।  বাড়িতে টিউবওয়েল বসানোর অজুহাত সৃষ্টি করে দিন পনোরো পুর্বে বাবার বাড়ি থেকে ২০ হাজার টাকা এনে দেয়ার জন্য স্বামীর বাড়ির লোকজন মিলে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালায় গৃহবধু মুক্তামণির ওপর। ’ দিনে দিনে চলে আসা শারিরীক ও মানসিক নির্যাতন সইতে না পেরে চার মাসের গর্ভের সন্তা কে পেঠে রেখেই মুক্তামণি শনিবার সন্ধার পর পরই স্বামীর বসত ঘরের তীরের (ধর্ণা) সাথে গলায় রশি দিয়ে আত্বহত্যা করে।  ’ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ লাশ উদ্ধার করে জেলা সদর মর্গে প্রেরণ করে।  ’

নিহত মুক্তামণির মা সাফিয়া খাতুন রোববার বলেন, সাত মাস পুর্বে বিয়ের সময় মেয়ের জামাইকে এনজিওর কিস্তির টেহা (টাকা) আইন্যা  আসবাবপত্র সহ সবই দিছি, এলাকার এ বছর সব বোরো ফসল পানিত ডুবছে, অহন আইল বন্যা, এই সময় আমার মেয়েকে পানির কল( টিউবওয়েল) বাসানোর কথা কইয়্যা ২০ হাজার টেহা (টাকা) নিয়া দিবার লাগি জামাই ও তার ভাই বাপ-মা মিলে গত ১৫ দিন ধইর‌্যা মারপিট কইরা আইতাছে , এলাকায় কাজ না থাকায় পেঠের দায়ে  আমার স্বামী সিলেট গেছে কাজ করতে, কই তাইক্যা এত টেহা পামু, টেহা দিতে পারলাম না তার লাইগ্যা নির্যাতন করত আমার মেয়েরা তার স্বামী ও পরিবারের লোকজন মিইল্যা।  তিনি আরো বলেন, আমার মেয়ে যাদের কারনে পেঠের সন্তান লইয়া জ¦ালা-যন্ত্রনা পাইয়া (নির্যাতন) মরতে বাধ্য হইছে আমি তারার বিচার চাই। ’
এদিকে এ ঘটনায় যৌতুক দাবি, নির্যাতন ও পরবর্তীতে আত্বহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ এনে রাতে নিহত মুক্তামণির মা সাফিযা খাতুন বাদী হয়ে মেয়ে জামাই নুরুল আমিন (২৫), তার ভাই নুর আহমদ (২০) বেয়াই আবদুল মালেক (৫৫)ও বেয়াইন ময়না বেগম (৪৮)’র বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। ’
তাহিরপুর থানার ওসি শ্রী নন্দন কান্তি ধর  রোববার বললেন, প্রাথমিক তদন্তে যৌতুক, নির্যাতন ও আত্বহত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় নিহত মুক্তামণির স্বামী ও দেবরকে শনিবার রাতেই গ্রেফতার করা হয়েছে। ’