৬:৪৬ পিএম, ২৩ নভেম্বর ২০১৭, বৃহস্পতিবার | | ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

South Asian College

‘বঙ্গবন্ধুর ত্যাগের মহিমা ইতিহাসে সমুজ্জ্বল’

২১ আগস্ট ২০১৭, ০৩:৩৬ পিএম | সাদি


এসএনএন২৪.কম : জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর ৪২ তম শাহাদত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস ২০১৭ উপলক্ষে ২১ আগস্ট ২০১৭ তারিখ বঙ্গবন্ধু পরিষদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয় সমাজ বিজ্ঞান অনুষদ মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।  এতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী প্রধান অতিথি এবং মাননীয় উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরীণ আখতার বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। 

মাননীয় উপাচার্য তাঁর ভাষণে মহাকালের মহানায়ক হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি রাজনীতির মহাকবি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ ‘৭৫ এর ১৫ আগস্ট বর্বর নরপশুদের হাতে নির্মমভাবে নিহত বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।  তিনি এ দেশের মহান স্বাধীনতা অর্জনের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক সংগ্রাম-আন্দোলন, ‘৭১ এর ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর কালজয়ী ঐতিহাসিক ভাষণ এবং সর্বোপরি মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস আলোকপাত করে বলেন, বিশ্ব সমাজ-সভ্যতার ইতিহাসে বঙ্গবন্ধুর মতো জনপ্রিয় নেতা আরেকজনের জন্ম হয়নি, এ অসীম সাহসী অকুতোভয় দেশপ্রেমিক মহান নেতার সম্মোহনী  দূরদর্শী বলিষ্ট নেতৃত্বে বাংলার সর্বস্তরের মানুষ বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে এ দেশ স্বাধীন করেছেন।  তাই বঙ্গবন্ধু ইতিহাসের শুধু নির্মাতা নন, তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা। 

তিনি আরও বলেন, ‘৭৫ এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার মাধ্যমে স্বাধীনতা বিরোধী কুচক্রীমহল ইতিহাস থেকে বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়।  তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর ত্যাগের মহিমা ইতিহাস থেকে মুছে ফেলা যাবে না, কারণ ইতিহাস কারোর ক্রীতদাস নয়।  মহান সৃষ্টিকর্তার অসীম কৃপায় বঙ্গবন্ধু তনয়া আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে আজ বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে।  মাননীয় উপাচার্য জাতীয় শোক দিবসের শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে প্রজন্মের সন্তানদের জ্ঞান শক্তিতে বলীয়ান হওয়ার উদাত্ত আহবান জানান। 

চ.বি. বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি প্রফেসর ড. রাশেদ-উন-নবীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক জনাব মশিবুর রহমানের পরিচালনায় আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠান আয়োজন কমিটির আহবায়ক জনাব এ.এইচ.এম. রাকিবুল মাওলা।  এ ছাড়াও অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন চ.বি. শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. মিহির কুমার রায় ও সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. মুয়াজ্জম হোসেন, চ.বি. হলুদ দলের আহবায়ক প্রফেসর ড. সুলতান আহমেদ, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. এ এফ এম আওরঙ্গজেব, বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাবেক সভাপতি প্রফেসর ড. অরুণ কুমার দেব, বাংলা বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. মহীবুল আজিজ,

বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জনাব মো. ফরহাদ হোসেন খান ও জনাব রাশেদ বিন আমিন চৌধুরী, অফিসার সমিতির সভাপতি জনাব এ কে এম মাহফুজুল হক ও সাধারণ সম্পাদক জনাব রশীদুল হায়দার জাবেদ, বঙ্গবন্ধু পরিষদের সদস্য সর্বজনাব মোহাম্মদ হোসেন, আনোয়ার হোসেন, শুক্কুর মিয়া, ইউসুফ আলী, আলমগীর হোসেন ও মিজানুর রহমান। 

অনুষ্ঠানে চ.বি. বিভিন্ন অনুষদের ডিন, হলসমূহের প্রভোস্ট, রেজিস্ট্রার, প্রক্টর, বিভাগীয় সভাপতি ও ইনস্টিটিউটের পরিচালকবৃন্দ, বিভিন্ন অফিস প্রধানবৃন্দ, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, অফিসার সমিতি-কর্মচারী সমিতি-কর্মচারী ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ এবং চ.বি. পরিবারের বিপুল সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।  শোক সভায় পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ করা হয় এবং শহীদদের সম্মানে দাঁড়িয়ে একমিনিট নিরবতা পালন করা হয়। 

এ ছাড়াও বঙ্গবন্ধু পরিষদের উদ্যোগে সকাল ১০ টায় চ.বি. বঙ্গবন্ধু চত্বরে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামীলীগের জনসভায় বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলার প্রতিবাদে এবং হামলাকারীদের বিচারের দাবীতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।  মানববন্ধন শেষে বঙ্গবন্ধু চত্বরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে মাল্য দান করে অনুষ্ঠিত হয় শোক র‌্যালি।